Space For Rent

Space For Rent
মঙ্গলবার, ১২ আগস্ট, ২০১৪
প্রচ্ছদ » সবুজ পৃথিবী
  দেখেছেন :   আপলোড তারিখ : 2014-08-12
বায়ুমণ্ডলে এল-নিনোর প্রভাব
উত্তম সরকার : প্রশান্ত মহাসাগরীয় বায়ুমণ্ডলের এল-নিনোর মূল কারণ তীব্র গরম। সমুদ্র আবহাওয়া বিজ্ঞানীরা তাই মনে করছেন। এল-নিনোর প্রভাবে দেশে গরমের তীব্রতা আরও বৃদ্ধির পাশাপাশি কোথাও কোথাও খরা এবং কোথাও কোথাও বন্যার আশঙ্কা করছেন তারা।

‘এল-নিনো’ একটি স্পেনিশ শব্দ যার অর্থ হচ্ছে ‘যিশুর পুত্র’। যেহেতু প্রশান্ত মহাসাগর এলাকার দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলোতে ক্রিসমাসের সময়ে এল-নিনোর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ে সেজন্য এই নামকরণ করা হয়েছে।

১০ এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওসানিক অ্যান্ড এটমসফিয়ার এডমিনিস্টেশন নোয়া তাদের এক বুলেটিনে জানায়, ১৯৯৮ সালের পর এ বছর বিশ্বব্যাপী এল-নিনোর বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা ২০১৫ সাল পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।

১৯৯৮ সালে এল-নিনোর প্রভাবে বিশ্বব্যাপী অতিরিক্ত তাপমাত্রা বৃদ্ধিজনিত কারণে খাদ্য উত্পাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছিল। মাঝারি মানের এল-নিনোর কারণে ২০১০ সাল ছিল ইতিহাসের রেকর্ড পরিমাণ তাপমাত্রার বছর। সেই বছর পাকিস্তানে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৫৩ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

সমুদ্র বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, সম্ভবত প্রশান্ত মহাসাগরীয় এল-নিনোর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। আর এ কারণে এ বছর বিশ্বের কোথাও কোথাও তীব্র খরা এবং কোথাও কোথাও বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।

তারা জানান, এল-নিনো সমুদ্রের বিষয় হলেও তার প্রভাব পড়ে সারা পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলসহ বিভিন্ন  ক্ষেত্রে, প্রশান্ত মহাসাগরের মাঝামাঝি বিশাল একটি অংশে তাপমাত্র বৃদ্ধি পায় এক ডিগ্রির মতো। অস্ট্রেলিয়া, ইন্দোনেশিয়া, বাংলাদেশ, দক্ষিণ ভারতসহ এই অঞ্চলে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেয়ে যখন শুষ্ক হয়ে যায় তখন বৃষ্টিপাত কম হয়। সে সময় যুক্তরাষ্ট্র, পেরু, চিলি এসব অঞ্চলে অতিবৃষ্টি হয়।’

 ‘আমাদের অঞ্চলে এল নিনোর প্রভাবে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাবে এক থেকে দুই ডিগ্রি অথবা তারও বেশি আর বৃষ্টিপাত কম হবে, বৃষ্টিপাত কম হওয়া মানে তাপমাত্রা আরও অনুভূত হওয়া, আর বৃষ্টিপাত কম হওয়া মানে ফসল উত্পাদন কমে যাওয়া লবণাক্ততা বৃদ্ধি পাওয়া।

আরও জানা যায় মধ্য প্রশান্ত মহাসাগরের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়েও বেশি বাড়তে থাকলে তখন এল- নিনো পর্যবেক্ষণ ও পরবর্তীতে সতকর্তা জারি করা হয়। সাধারণত এপ্রিল, মে থেকে এল-নিনো পরিস্থিতি তৈরি হয়, এখন পর্যন্ত এটা পর্যবেক্ষণ এবং সতর্কতার মাঝামাঝি পর্যায়ে রয়েছে। আরও মাস খানেকের মধ্যে বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত হবেন এটা এল-নিনো হবে কিনা, তবে তারা ধারণা করছেন এ বছর এল-নিনো পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা পঞ্চাশ থেকে সত্তর শতাংশ।’

এখন পর্যন্ত বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত থেকে বিজ্ঞানীরা অনেকটা নিশ্চিত হয়ে আশঙ্কা করছেন, এ বছর এল-নিনো প্রভাব তীব্রতা বাড়তে পারে এবং তা দুই বছর ধরে বিরাজ করতে পারে, ১৯৯৮ সালের অনুরূপ তাপমাত্রা বৃদ্ধির ঘটনা ঘটতে পারে।
এল-নিনোর এই পূর্বাভাসকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় কৌশল নির্ধারণের ওপর জোর দিয়েছেন দেশের এই সমুদ্র বিজ্ঞানী।

এপ্রিল মাসে গরমের তীব্রতা বেশি থাকলেও বছরের এই সময়ে মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় কিছু কিছু বৃষ্টিপাত হয়। কিন্তু এ বছর তাপমাত্রা গত পঞ্চাশ বছরের রেকর্ড ভেঙে ৪২ ডিগ্রি অতিক্রম করলেও বৃষ্টির দেখা নেই। বৃষ্টির জন্য প্রয়োজনীয় মৌসুমি বায়ুর প্রবাহ নেই ভূপৃষ্ঠের এই অঞ্চলে।

আবহওয়া অফিসের কর্মকর্তারা বলছেন দক্ষিণা মৌসুমি বাতাসের পরিবর্তে বইছে উত্তরের শুষ্ক হাওয়া যা এই সময়ের সাথে একেবারেই বেমানান। বাতাসে বৃষ্টির জন্য যা যা থাকা প্রয়োজন এই বাতাসে তা নেই, তবে কয়েকদিনের মধ্যে এই অবস্থার পরিবর্তন হতে পারে।

২২ এপ্রিলের তাপমাত্রা ৪১ সেলসিয়াস ছাড়িয়ে গেছে, রাঙ্গামাটিতে ১৯৬১ সালের ১১ এপ্রিল সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৪০ দশমিক সাত ডিগ্রি। তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে জলীয় বাষ্প থেকে মেঘ তৈরি হওয়ার কথা থাকলেও বায়ুমণ্ডলে মেঘের অস্তিত্ব একেবারে কম।

আবহওয়া দপ্তরের কক্সবাজার রাড়ার স্টেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রকৌশলী সূত্রে জানা যায়, মেঘের পরিবর্তে বায়ুমণ্ডলে বিরাজ করছে কুয়াশা যা একেবারেই নজিরবিহীন। রাডারে সমুদ্র পৃষ্ঠের উপরে মেঘের মতো কিছু একটার অস্তিত্ব ধরা পড়লেও তার কোনো মুভমেন্ট নেই, বাস্তবে এসব মেঘ নয়, কুয়াশা জাতীয় কিছু একটা।’

(একে/আগস্ট ১২, ২০১৪)