Space For Rent

Space For Rent
মঙ্গলবার, ১২ আগস্ট, ২০১৪
প্রচ্ছদ » সবুজ পৃথিবী
  দেখেছেন :   আপলোড তারিখ : 2014-08-12
বিশ্ব উষ্ণায়ন কমাতে বিকল্প পদ্ধতি
বর্তমান ডেস্ক : বিশ্ব উষ্ণায়ন কমাতে বিকল্প শক্তির ব্যবহার করা ছাড়া অন্য কোনো উপায় নেই বলেই জানিয়েছেন বিশ্ব পরিবেশবিদরা।

সম্প্রতি বার্লিনে প্রকাশিত এক রিপোর্টে গবেষক-বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, সারা পৃথিবীতে বর্তমানে যে রকম হারে গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গত হচ্ছে, তার প্রভাবে ২১০০ সালের মধ্যে পৃথিবীর গড় উষ্ণতা প্রায় চার থেকে পাঁচ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়ে যাবে।

আরও বেশি বদলে যাবে আবহাওয়া এবং যে কোনো সময় ভয়ঙ্কর রূপ নিতে পারে। আর তা থামানোর জন্য বাড়াতে হবে বিকল্প শক্তির ব্যবহার।

বিদ্যুত্ উত্পাদনের জন্য কার্বন দূষণ যত বাড়বে, যতই বাড়বে সমদ্রপৃষ্ঠের গড় তাপমাত্রা। বিশ্ব উষ্ণায়ন প্রতিরোধের বিভিন্ন পদ্ধতি ততই জটিল ও ব্যয়বহুল হয়ে দাঁড়াবে। ৩৩ পাতার রিপোর্টটিতে পরিবেশবিদরা, জানিয়েছে গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গত হওয়ার পরিমাণ ২০৫০ সালের মধ্যে ৪০ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত কম করা গেলে পৃথিবীর গড় উষ্ণতা দু’ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কমতে পারে।

এই দু’ডিগ্রি সেলসিয়াস কমানোটাকেই লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে বেঁধেছে পরিবেশবিদরা। রিপোর্ট প্রকাশের সময় বিশেষজ্ঞ দলের সহ-চেয়ারম্যান ওটমার এডেনহফার বলেছেন, ‘বিজ্ঞান একটা পরিষ্কার বার্তা দিয়েছে। যেভাবে দ্রুত হারে আবহাওয়ার পরিবর্তন হচ্ছে, তা থেকে বাঁচতে আমাদের কিছু পদ্ধতি বদলাতেই হবে। দু’ডিগ্রি সেলসিয়াস উষ্ণতা কমানোর যে লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে, তার জন্য বেশকিছু পদক্ষেপ করা প্রয়োজন খুব তাড়াতাড়ি।’

কার্বন দূষণ রুখতে যা করার খুব তাড়াতাড়ি করতে হবে। তার কথায়, ‘দূষণ রোধের গাড়িটাকে এ বার তাড়াতাড়ি যাত্রা শুরু করতে হবে। আর সারা পৃথিবীকেই সেই গাড়ির সওয়ার হতে হবে।’

এক তথ্য বলছে, কয়লা, খনিজ তেল ইত্যাদি ব্যবহার করে বিদ্যুত্ উত্পাদনের জন্য ১৭৫০ সাল থেকে মোট যত পরিমাণ কার্বন দূষণ হয়েছে, তার ৫০ শতাংশই হয়েছে শেষ ৪০ বছরে। আর তার হার উদ্বেগজনকহারে বেড়েছে ২০০০ সালের পর থেকে। এর প্রভাবেই পৃথিবীজুড়ে বদলে গিয়েছে আবহাওয়ার ধারা।

পরিবেশবিদ মহলের মাথাব্যথার কারণ হয়েছে খামখেয়ালি ঋতু পরিবর্তন। সমাধান হিসেবে বারবারই উঠে এসেছে সৌরশক্তি, বায়ুশক্তির মতো অফুরান প্রাকৃতিক শক্তির ব্যবহার, শক্তির পুনর্নবীকরণের মতো বিষয়গুলো। সাম্প্রতিক রিপোর্টে সেই বিষয়গুলোকেই একমাত্র উপায় বলে ব্যাখ্যা করল। তবে এত কিছু ঘটার সত্ত্বেও আশার আলো দেখছেন বিজ্ঞানী-গবেষকরা।

বিশেষজ্ঞ দলের অধ্যাপক সদস্য জিম স্কিয়া বললেন, ‘সারা পৃথিবীর বিদ্যুত্ উত্পাদনের ক্ষেত্রটাকেই যে আমূল বদলে ফেলতে হবে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। পুনর্ব্যবহারযোগ্য শক্তি, পরমাণু শক্তি, জীবাশ্ম জ্বালানি ইত্যাদি ব্যবহার করা ও সংগ্রহ করে রাখাকেই জোর দিতে হবে।’

বিজ্ঞানীদের মতে, এভাবে শক্তি ক্ষেত্রের পরিবর্তন আনলে তা অর্থনৈতিকভাবেও সাশ্রয় হবে। আর এই পরিবর্তন আনার জন্য প্রাকৃতিক গ্যাসের ব্যবহারকেই সেতু হিসেবে চিহ্নিত করেছেন বিজ্ঞানীরা। স্কিয়া আরও বলেন, ‘দু’ডিগ্রি উষ্ণতা কমানোর জন্য কৃত্রিম বিদ্যুত্ উত্পাদন ও সেই সঙ্গে কার্বন দূষণের পরিমাণ কম করতে হবে।

কিন্তু এতে যদি আরও একটা দশক পার হয়ে যায়, তবে পৃথিবীকে বাঁচাতে অনেকটা বেশি মূল্য দিতে হবে।

(একে/আগস্ট ১২, ২০১৪)