Space For Rent

Space For Rent
মঙ্গলবার, ১৯ আগস্ট, ২০১৪
প্রচ্ছদ » সবুজ পৃথিবী
  দেখেছেন :   আপলোড তারিখ : 2014-08-19
জলবায়ুর বিরূপ প্রভাবে বিষাক্ত হয়ে পড়ছে পানি
খোকন : উপকূলীয় অঞ্চলে জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব আর অপরিকল্পিত কীটনাশক ও মাত্রাতিরিক্ত রাসায়নিক সারের ব্যবহারে ফসলি জমি ক্রমান্বয়ে হারাচ্ছে উর্বরতা শক্তি। এতে হ্রাস পাচ্ছে উত্পাদন এবং বিষাক্ত হয়ে পড়ছে পানি।

কৃষি জমির এ ক্রমেই বিপর্যয় থেকে উত্তরণের জন্য প্রযুক্তিগত তেমন কোনো ব্যবস্থা না থাকায় এলাকার অর্থনীতির প্রধান চালিকা শক্তি কৃষির ভবিষ্যত্ নিয়ে উদ্বিগ্ন উপকূলীয় কৃষকরা। কৃষি ও মৃত্তিকা বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ুর বিরূপ প্রভাবে আক্রান্ত হতে শুরু করেছে কৃষি ভূমি ও ফসল।

এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী জানা গেছে, দেশের মোট আবাদযোগ্য ভূমির ৩০ ভাগ জমি উপকূলীয় এলাকায় অবস্থিত। উপকূলীয় ২৮ লাখ ৫ হাজার হেক্টর জমির মধ্যে প্রায় ৮ লাখ ৩ হাজার হেক্টর জমিই লবণাক্ততা দ্বারা নানাভাবে প্রভাবিত হচ্ছে।

১৯৭৩-২০০০ সাল পর্যন্ত উপকূলের মাটি পরীক্ষা থেকে প্রাপ্ত ফলাফলে জানা গেছে, মাটিতে লবণাক্ততার পরিমাণ আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ কারণে একদিকে যেমন মাটির স্বাস্থ্য নষ্ট হচ্ছে, তেমনি গঠন প্রণালিও ভেঙে যাচ্ছে এবং ফসল উত্পাদনের জন্য উর্বরা শক্তিরও ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। ফলে ভূমিক্ষয় প্রবণতাও দিন দিন বেড়েছে।

এ পরিস্থিতিতে ফসলের ক্ষেতে পোকার আক্রমণ, ধানগাছে চিটাসহ নানা প্রকার ক্ষতির প্রভাব পড়ছে উত্পাদিত ফসলে।

২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর উপকূলীয় বরগুনা  জেলাসহ আরও কয়েকটি অঞ্চলের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় সিডর এবং ২০০৯ সালের আইলার ছোবলে সাগরের নোনা পানিতে সয়লাব হয় উপকূলীয় এলাকা। নোনা পানির তীব্রতায় মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কলাগাছ ও শাকসবজি পচে যায়।
 
ফসল উত্পাদনে ধস নামায় অনাগ্রহী হয়ে পড়ে এ অঞ্চলের হাজার হাজার কৃষক। বরিশাল আঞ্চলিক কৃষি বিভাগের তথ্যানুযায়ী, উপকূলীয় অঞ্চলে ৯ লাখ ৯৯ হাজার ৪৪ হেক্টর আবাদি জমি থাকলেও তার মধ্যে শুধু বোরো মৌসুমেই পতিত থাকছে ৩ লাখ ৩১ হাজার ৫৮ হেক্টর জমি।

উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতি বছরের প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে চাষকৃত আমন ধান ঘরে তুলতে তাদের যথেষ্ট বেগ পেতে হয়। গত শুকনো মৌসুমে এ এলাকার কৃষকরা আগাম বর্ষণের কারণে মরিচ, মুগ, ফেলন ডাল, মিষ্টি আলু ঘরে তুলতে পারেননি।

আমতলী  উপজেলা কৃষি অফিসের  উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা মিলন কুমার রায়  জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে গড় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কমেছে এবং সাগরে জোয়ারের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পাওয়ায় সহজেই নদী থেকে নোনা পানি প্রবেশ করছে ফসলি জমিতে।

(একে/আগস্ট ১৯, ২০১৪)