Space For Rent

Space For Rent
সোমবার, ২৫ আগস্ট, ২০১৪
প্রচ্ছদ » ইসলাম
  দেখেছেন :   আপলোড তারিখ : 2014-08-25
আল্লাহ্ বাদে অন্য কোনো নামে মানত করা শিরক
এম. শামসুদদোহা তালুকদার : মোমবাতি, আগরবাতি, তসবিহ, শিরনি বা টাকাকড়ি দিয়ে পীরবাবার দরবার, মাজার-আশ্রমে মানত আদায় করার মতো কদর্য চিত্রের সাথে আমরা মোটামুটি পরিচিত। এসব কারবারি সার্কাসের বিভিন্ন কসরতের মতো। যা আকর্ষণের জন্য করা হয়ে থাকে আর তা উপভোগও করে আম-আদমী (সাধারণ জনতা)। এর সাথে মূলত কুরান-হাদিসের মর্মবাণী তথা ইসলামের কোনো যোগসূত্র নেই। যারা ইসলামের নামে এসব করে তাদের ঠিকই একদিন জবাবদিহি করতে হবে মহান আল্লাহ্র কাছে। তার পবিত্র বাণীম— ‘আর তোমরা যা কিছুই খরচ কর আর যে কোনো মানতই কর, আল্লাহ্ তা জানেন।’ (সুরা বাকারাহ্-২৭০)।
বান্দার উপার্জিত অথবা উত্তরাধিকারী সূত্রে প্রাপ্ত সম্পদ ব্যয়ের ক্ষেত্রে মহান আল্লাহ্ ও তদীয় রাসূল (স.) প্রদর্শিত পন্থায় খরচ করতে হবে যা ইসলামী অর্থনীতির মৌলিক বিধান। ‘মানত’ করে কেউ তার ইচ্ছা পূর্ণ করতে চাইলে তা হবে একমাত্র আল্লাহ্র নামে, এর বাইরে নয়। মানত কোনো ব্যক্তিবিশেষ বা তার কবরগাত্র অথবা তথাকথিত পীরবাবার আশ্রমের উদ্দেশ্যে আদৌ হতে পারে না, এটা আল্লাহ তায়ালার নির্দেশ। মানত করা যাবে একমাত্র আল্লাহ্র আনুগত্যে, যা মহানবী (স.) স্পষ্ট করে বলেছেন— ‘যে ব্যক্তি আল্লাহ্র আনুগত্যের মানত করবে সে তার আনুগত্য করবে আর যে ব্যক্তি আল্লাহ্র অবাধ্যতা করার মানত করবে সে যেন তার নাফরমানী না করে।’ মহান আল্লাহ্র জন্য মানত করা ইবাদতের শামিল হওয়া সাব্যস্ত করে। অনুরূপভাবে গায়রুল্লাহ্র নামে মানত করলে তা শিরকের আওতাভুক্ত। আল্লাহ্র জন্য মানতকারী যখন স্বীয় মানত পূর্ণ করে তখন সে আল্লাহ্রই ইবাদত করে থাকে।
ব্যয় বা খরচের ব্যাপারে স্বয়ং আল্লাহ্ তায়ালা বর্ণিত আয়াতের পূর্বাপরে আলোকপাত করেছেন। মুমিন বান্দার খরচের অন্যতম খাত হচ্ছে ‘সাদকা’ আদায়, মানুষ তার অর্থ বা সম্পদ ব্যয় অযথা বেশকিছু খাতে সাধারণত করে থাকে। যা আল্লাহ্ প্রদত্ত উদ্দেশ্য পূরণ করে না। এভাবে অপাত্রে ব্যয় করা মূলত গোনাহর কাজ বটে। লোক দেখানো ব্যয়, ব্যয় করে অনুগ্রহ প্রকাশ করা এক কথায় শরীয়তসম্মত শর্ত পালন ছাড়া যে কোনো ব্যয়ই অগ্রহণযোগ্য। মানতও এক ধরনের ব্যয়, যা ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ্ তায়ালা সর্বপ্রকার ব্যয় ও মানত সম্পর্কে বেশ পরিজ্ঞাত। তিনি এগুলোর প্রতিদানও দেবেন। মূলত দান-সদকাহ্, মানতসহ এ জাতীয় সমুদয় ব্যয় আল্লাহ্র সন্তুষ্টির জন্যই হতে হবে। নাম-যশের জন্য নয়। যারা এরূপ অর্থাত্ আল্লাহ্ পাকের রাজি-খুশি করার জন্যই তাদের অর্থ সম্পদ ব্যয় করছে তারা মূলত ইবাদতই করে থাকে। সহীহ নিয়তে আল্লাহ্র সমীপে মানতকারীকে মহান আল্লাহ্ প্রশংসা করেছেন। এবং এর প্রসঙ্গও উঠে এসেছে কুরান মজিদের পাতায়। ‘তারা মানত পূর্ণ করে।’ (সূরা দাহর-৭)। এ দ্বারা প্রমাণিত হয় যে মানত শরীয়তসম্মত ও আল্লাহ্র প্রিয়। আর যেহেতু এটি ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত এজন্য তা গায়রুল্লাহ্র (আল্লাহ্ ভিন্ন অন্য কিছু) জন্য পালন করা মহাশিরক। যদি কেউ এমন করে বসে সেক্ষেত্রে তা পূর্ণ করা জায়েজ নয়। রাসূল (স.) এর বাণী- ‘যে ব্যক্তি আল্লাহ্র নাফরমানির মানত করবে সে যেন তার নাফরমানি না করে।’ তা হবে মানুষের নিজের উপরে নিজে আল্লাহ্র নাফরমানিকে অপরিহার্য করে নেয়া। কেননা তা আল্লাহ্র পক্ষ থেকে নিষিদ্ধ পাপাচারের সাথে সাংঘর্ষিক, বরং এ ধরনের লোকের জন্য শপথের কাফ্ফারা অপরিহার্য হয়ে যায়।
সদকাহ্ বা দান দু’ধরনের। ফরজ ও নফল। নফল সদকাহ্ বা দান প্রদানের ক্ষেত্রে মুমিনগণকে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হতে হবে। যা তার আর্থিক ইবাদাত হিসেবে পরিগণিত হয়।

লেখক: ইসলামী গবেষক। মুতাওয়াল্লি খানকায়ে কায়েদ ছাহেব হুজুর (রহ.), ঢাকা