Space For Rent

Space For Rent
মঙ্গলবার, ২৬ আগস্ট, ২০১৪
প্রচ্ছদ » ইসলাম
  দেখেছেন :   আপলোড তারিখ : 2014-08-26
নৈতিকতা শেখার জন্য পিতামাতার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ
মনির আহমদ আজাদ : একটি মানবশিশু ধর্ম, ভাষা, শিক্ষা-সাংস্কৃতি, নম্রতা ও ভদ্রতা এসব কিছু নিয়ে জন্মগ্রহণ করে না। সে যখন বড় হয় তখন পিতামাতার ভালোমন্দের শিক্ষা রপ্ত করে জীবনকে পরিচালিত করে।

ধরুন, একজন শিশুর পিতা তার আদরের শিশুটিকে শেখাল দরজায় অপেক্ষমাণ লোকটির  কাছে গিয়ে বল, আমি বাড়িতে নেই। শিশুটি বাবার শেখানো কথামতো অপেক্ষমাণ লোকটির কাছে গিয়ে অনুরূপ বলল। পরমুহূর্তে অন্দরমহলে গিয়ে শিশুটি তার বাবাকে বলল, বাড়ির ভিতরে অবস্থান করেও কেন তুমি লোকটিকে নেই বলতে বলেছ? উত্তরে বাবা বলল, যে লোকটি বাড়িতে এসেছিল তিনি একজন পাওনাদার।
 
তার কাছ থেকে টাকা ধার নিয়েছিলাম এবং আজকের দিনে ওই টাকা পরিশোধের কথা ছিল। কিন্তু দিতে পারছি না বলে এমনটি করেছি। শিশুর পিতা যদিও লোকটিকে প্রতারিত করে লাভ হয়েছে মনে করছে, প্রকৃত অর্থে নিজে পাপ করল এবং নিজের প্রিয় সন্তানকে মিথ্যা বলতে শেখাল। কেননা এ সন্তান বড় হয়ে এমন সমস্যায় পড়লে সেও বাবার শেখানো পথে পা বাড়াবে। মানুষের দৈনন্দিন কর্মপ্রবাহে এমনিভাবে পাপ যুক্ত হচ্ছে।

শিশুরা চার দেয়ালে থাকা অবস্থায় পিতামাতার আচার-আচরণই প্রথম পর্যায়ে রপ্ত করে থাকে। তারপর প্রতিবেশী ও সহপাঠীদের। ঘরে ও বাইরে উভয় স্থানে যদি অনৈতিক কার্যকলাপ সম্পর্কে শিশুরা শেখে তাহলে ভবিষ্যতে সত্ ও আদর্শ মানুষ জন্মাবে না। বাবা-মার স্বভাবচরিত্র যদি ভালো হয় তাহলে বাইরে থেকে সন্তানের শেখা মন্দ বা দূষণীয় কার্যকলাপ অবশ্য তাদের চোখে পড়বে। ওই সময় সাবধান করলে সন্তান অনৈতিক কাজ থেকে বিরত থাকবে।

আর যদি সন্তানের দূষণীয় কাজগুলো করতে পিতামাতা বাধা না দেয়, তাহলে সন্তান দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠবে। এজন্য সন্তানদের সম্মুখে এমন কথা বলা ও কাজ করা উচিত নয়, যা সন্তান পরিণত বয়সে অনুকরণ ও অনুসরণ করতে পারে।
 
ধর্মের চেয়ে নৈতিকতা অনেক বড়। মাতাপিতা যে ধর্মের অনুসারী, সেই ধর্মই সন্তানের ধর্ম। আর যদি কেউ ধর্ম কিংবা অপরাধ সম্পর্কে ব্যাপকভাবে জ্ঞানলাভ করে নিজের মধ্যে খারাপ বা অন্যের জন্য ক্ষতিকর এমন কিছু বর্জন করে সমাজে শান্তির জন্য কাজ করেন তিনিই নৈতিকতাসম্পন্ন ব্যক্তি হবেন।

ওই ব্যক্তি হবেন আদর্শ নাগরিক ও ধার্মিক। ধর্ম মানুষকে মহত্ ও পাপমুক্ত করে আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের পথ দেখায়। যে পথে কোনো কুটিলতা কিংবা পাপযুক্ত থাকতে পারে না। এ পথের পথিকরাই হচ্ছেন আলোকিত মানুষ। ধর্ম ও নৈতিকতা একে অপরের পরিপূরক।

কোনো ধর্মই মন্দ বা অন্যায় কাজ করতে প্ররোচিত করেনি। বাবা-মার চরিত্রে যেসব দূষণীয় দিক রয়েছে তা শিশুদের ওপর প্রভাব পড়ে। পরবর্তী জীবনে তারা সেসব আচরণ করতে কোনো প্রকার দ্বিধাবোধ করে না। বর্তমান সমাজে নৈতিকতাবিবর্জিত মানুষের সংখ্যা প্রচুর রয়েছে।

কিন্তু আদর্শ ও নৈতিকতাসম্পন্ন মানুষের সংখ্যা খুবই নগণ্য। ফলে শিশু-কিশোর অবস্থায় তারা ভালো কিছু শিখতে পারছে না। মানুষকে পরকালীন জীবন সম্পর্কে ভাবতে হবে। কেননা দুনিয়ার জীবন আসল জীবন নয়। ক্ষণিকের জীবন। মিলিয়ন ডলার কিংবা অঢেল ধনসম্পদ পরকালীন জীবনের সম্বল নয়। নেক আমলই অফুরন্ত জীবনের সম্বল।

মানুষ সফরে যাওয়ার জন্য টাকা সঙ্গে রাখে। কেননা দুনিয়ার জীবনে চলতে হলে টাকা প্রয়োজন। পরকালীন জীবনে টাকা অচল, আর নেক আমলই সচল মুদ্রা। এ নেক আমল ধর্মীয় বিধান মতে জীবনযাপনের মাধ্যমে অর্জন করতে হবে।

(একে/আগস্ট ২৬, ২০১৪)