Space For Rent

Space For Rent
মঙ্গলবার, ২৬ আগস্ট, ২০১৪
প্রচ্ছদ » মিডিয়া
  দেখেছেন :   আপলোড তারিখ : 2014-08-26
ভারতীয় তিন টিভি চ্যানেল বন্ধের রিট খারিজ
বর্তমান প্রতিবেদক : বাংলাদেশে ভারতীয় তিনটি টিভি চ্যানেল সম্প্রচার বন্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা চেয়ে করা রিট আবেদনটি উপস্থাপন হয়নি বলে কার্যতালিকা থেকে খারিজ করে দিয়েছে হাইকোর্ট।
বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি আবু তাহের মোহাম্মদ সাইফুর রহমান সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের অবকাশকালীন বেঞ্চ মঙ্গলবার এই আদেশ দেয়।
শুনানির সময় আদালত বলে, টিভি দেখে কে কী শিখবে তার দায়িত্ব আমাদের নয়। অনেকে ভালো কিছু শেখে। বাংলাদেশের অনেক চ্যানেলেও খুনসহ বিভিন্ন অপরাধের চিত্র দেখানো হয়।
গত ২১ আগস্ট একই বেঞ্চ এক আইনজীবীর করা রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ভারতীয় চ্যানেল সম্প্রচারের অনুমোদন ও অর্থ জমা দেয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষকে তথ্য জানাতে বলেছিলেন। এ অনুযায়ী রিট আবেদনকারী ও অপর পক্ষের আইনজীবী আদালতে তথ্য উপস্থাপন করেন। শুনানির পর হাইকোর্ট তা কার্যতালিকা থেকে বাদ দেন।
আদালতে রিট আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী একলাছ উদ্দিন ভূঁইয়া। কেবল টিভি নেটওয়ার্কের পক্ষে তথ্য উপস্থাপন করেন আইনজীবী আবদুল মতিন খসরু। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত তালুকদার।
আইনজীবী একলাছ উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, আদালতের নির্দেশ মোতাবেক ভারতীয় চ্যানেল সম্প্রচারে বাংলাদেশ সরকারের অনুমোদনের বিষয়ে আমরা দলিলপত্র দাখিল করেছি। সেখানে বাংলাদেশে সমপ্রচারের ক্ষেত্রে ভারতীয় চ্যানেলগুলোর (লাইসেন্স) অনুমতিপত্র রয়েছে। তবে চ্যানেলের লাইসেন্স থাকলেও কেবল টেলিভিশন নেটওয়ার্ক পরিচালনা আইনের ৯ ও ১০ ধারা মোতাবেক অপসংস্কৃতি, হত্যাযজ্ঞ বা অসামাজিক জিনিস দেখানো আইনের পরিপন্থী। তাই চ্যানেলগুলো বন্ধে নির্দেশ দিতে আদালতের কাছে আবেদন জানিয়েছিলাম।
স্টার জলসা, স্টার প্লাস ও জি বাংলা- ভারতীয় এই তিনটি টিভি চ্যানেলের সমপ্রচার বন্ধে সাতদিনের মধ্যে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা চেয়ে ৭ আগস্ট আইনজীবী সৈয়দা শাহীন আরা লাইলী রিটটি করেন।
রিটে বিবাদী করা হয় তথ্য সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশনের (বিটিআরসি) সচিব ও পুলিশের মহাপরিদর্শককে।
আবেদনে বাংলাদেশে ভারতীয় টিভি চ্যানেলের সমপ্রচার বন্ধে কেন নির্দেশনা দেয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারির আরজি জানানো হয়।
এছাড়া ভারতের তিনটি চ্যানেল স্টার জলসা, স্টার প্লাস ও জি বাংলা ৭ দিনের মধ্যে সমপ্রচার বন্ধ করে দুই সপ্তাহের মধ্যে আদালতে অগ্রগতি প্রতিবেদন দেয়ার জন্য বিবাদীদের প্রতি নির্দেশনা চাওয়া হয়।
আবেদনকারীর আইনজীবী একলাছ উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, ভারতে বাংলাদেশের কোনো টিভি চ্যানেল প্রচার হয় না। অথচ বাংলাদেশে ভারতীয় টিভি চ্যানেলের অবাধ সমপ্রচারের ফলে যুব সমাজ ধংসের সম্মুখীন। সর্বশেষ তাদের একটি টিভি চ্যানেল স্টার জলসার ‘বোঝেনা সে বোঝেনা’ সিরিয়ালের পাখি চরিত্রের নামে পোশাক কিনতে না পেরে বাংলাদেশে অনেকে আত্মহত্যা করেছে। তাই যুব সমাজকে রক্ষার্থে এ রিট করা হয়।
এর আগে গত ৩ আগস্ট রেজিস্ট্রি ডাকযোগে এ বিষয়ে আইনি নোটিস পাঠান আইনজীবী এখলাস উদ্দিন ভূঁইয়া।
(এইচআর/আগস্ট ২৬, ২০১৪)