Space For Rent

Space For Rent
মঙ্গলবার, ২৬ আগস্ট, ২০১৪
প্রচ্ছদ » জাতীয়
  দেখেছেন :   আপলোড তারিখ : 2014-08-26
আজহারের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি
বর্তমান প্রতিবেদক : আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুন্যালের রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি ড. তুরিন আফরোজ মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলামের ‍নির্যাতনের শিকার একজন বীরাঙ্গনাকে ক্ষতিপূরণ দিতে রাষ্ট্রের কাছে দাবি জানিয়েছেন।
বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ মঙ্গলবার আজহারের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করে আসামির সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ।
শুনানিতে এ মামলায় আজহারের বিরুদ্ধে ক্যামেরা ট্রায়ালে সাক্ষ্য দেয়া একজন বীরাঙ্গনার জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি জানিয়ে তুরিন আফরোজ বলেন, ওই বীরাঙ্গনা ছিলেন আজহারের বিরুদ্ধে প্রথম সাক্ষী। রংপুর টাউন হলের পাকিস্তানি ও রাজাকার ক্যাম্পে আজহারের নেতৃত্বে ধর্ষণ ও নির্মম নির্যাতনের শিকার হন তিনি। সে সময় সাক্ষী দুমাসের অন্ত্বঃসত্তা ছিলেন।
তিনি যুক্তিতর্কে বলেন, এ নির্যাতনে আজহারের বিকৃত মানসিকতার প্রকাশ পায়। ওই সাক্ষীসহ অন্য নারীদের ওপর তিনি যে নির্যাতন চালান, তাতে বোঝা যায়, তিনি পশু ছাড়া কিছুই ছিলেন না।
যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের ষষ্ঠ দিনে আজহারের বিরুদ্ধে আইনি পয়েন্টে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন তুরিন আফরোজ। এর মাধ্যমে রাষ্ট্রপক্ষ যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়েছে। এর আগে গত ১৮ আগস্ট থেকে সোমবার পর্যন্ত আরও ৫ কার্যদিবসে আজহারের বিরুদ্ধে ৬টি অভিযোগভিত্তিক যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি জেয়াদ আল মালুম ও তাপস কান্তি বল।
আজ বুধবার থেকে আজহারের পক্ষে আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল। আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষ হবে। পরে আইন অনুসারে রায়ের দিন ধার্য করবেন ট্রাইব্যুনাল।
পরে তুরিন আফরোজ বলেন, এটি মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার চলাকালে ক্ষতিপূরণের দ্বিতীয় দাবি। এর আগে গত ৭ আগস্ট  তুরিন আফরোজই মানবতাবিরোধী অপরাধে অপর অভিযুক্ত সাবেক প্রতিমন্ত্রী সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সারের বিরুদ্ধে আইনি পয়েন্টে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে ধর্ষিতা হয়ে বীরাঙ্গনা মায়ের গর্ভে জন্ম নেওয়া একজন যুদ্ধশিশু ও দুই বীরাঙ্গনাকে পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ দেয়ার দাবি করেন।
তিনি বলেন, রংপুর টাউনহলকে নির্যাতন কেন্দ্রের পাশাপাশি একে রেপ ক্যাম্প হিসেবে গড়ে তোলেন।  মুক্তিযুদ্ধে নির্যাতিত, লাঞ্ছিত, ধর্ষিত নারীদের বিষয়ে রাষ্ট্র সব সময়ই নীরব ভূমিকা পালন করেছে। সেখানে এই নারী ট্রাইব্যুনালে এসে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নিজে কিভাবে ধর্ষিত হয়েছেন তার বর্ণনা দিয়েছেন। সাক্ষ্যে তিনি বলেছেন, কিভাবে তাকে ও অন্য নারীদের নির্যাতন করা হতো।
তুরিন আফরোজ বলেন, হতে পারে তা রংপুর টাউন হলের ওই ধর্ষণ ক্যাম্পের ভয়াবহ নির্যাতনের সামান্য একটি অংশ। কিন্তু এতে কি প্রমাণ হয় না যে, একাত্তরে রংপুর টাউন হলের ওই নির্যাতন কেন্দ্রে একজন নারীর আত্মমর্যাদার সবটুকু নিঃশেষ করে দেয়া হয়েছিল? কিন্তু রাষ্ট্রের নীরবতা ভেঙে দিয়ে সাহসের সঙ্গে তিনি তার নির্যাতনের বর্ণনা দিয়েছেন, বিচার চেয়েছেন।
তিনি বলেন, একজন বীরাঙ্গনার যুদ্ধ কখনোই শেষ হয় না। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তাকে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে হয়। আমরা ওই নারীর জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করছি।
এটি এম আজহারুল ইসলামের বেলায় ঊর্ধ্বতনের দায় আছে কি না? ট্রাইব্যুনালের এমন প্রশ্নের জবাবে তুরিন আফরোজ বলেন, বড় বড় রাজনৈতিক নেতা কিংবা আর্মি অফিসাররা যত বড় সিদ্ধান্ত বা পরিকল্পনা গ্রহণ করুন না কেন অনেক সময় তার বাস্তবায়ন বা কার্যকর হয় না। এটিএম আজহারুল ইসলাম সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন করেছেন। তাই তিনি যতো ছোট পরিসরের নেতাই হোন না কেন ঊর্ধ্বতনের দায় থেকে তিনি মুক্ত নন। তাই তাকে শাস্তি দিতে হবে।
তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে রংপুর টাউন হলে নির্যাতনের যে ভয়াবহ চিত্র সাক্ষ্য-প্রমাণের মধ্য দিয়ে উঠে এসেছে, সেখানে এটিএম আজহারুল ইসলামের যে ভূমিকা ছিল, তাতে তার বিকৃত মানসিকতার প্রকাশ ঘটেছে। তাই একথা দ্ব্যর্থহীনভাবে বলা যায় যে, এটিএম আজহারুল ইসলাম নরপশু ছাড়া কিছুই ছিলেন না। প্রসিকিউশন তার বিরুদ্ধে সবকটি অভিযোগ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। আর এর জন্য আমরা তার সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড প্রার্থনা করছি। 
(এইচআর/আগস্ট ২৬, ২০১৪)