Space For Rent

Space For Rent
মঙ্গলবার, ২৬ আগস্ট, ২০১৪
প্রচ্ছদ » সারাদেশ
  দেখেছেন :   আপলোড তারিখ : 2014-08-26
খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সঙ্কট
বর্তমান প্রতিবেদক : দেশের বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। কিছু এলাকার পানি গত কয়েকদিন কমলেও গতকাল থেকে আবারও ওইসব এলাকায় পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। নতুন নতুন এলাকার পানিও বৃদ্ধি পাচ্ছে। বন্যাকবলিত এলাকায় খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এদিকে রাজধানীর নিম্নাঞ্চলও ধীরে ধীরে প্লাবিত হচ্ছে। বন্যা পরিস্থিতি ভয়ঙ্কর রূপ নিতে পারে বলেও সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন।
চাঁদপুর প্রতিনিধি জানান, চাঁদপুর সদর উপজেলার রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নে পদ্মা নদীর ব্যাপক ভাঙন শুরু হয়েছে। গত তিন দিনে এই ইউনিয়নের মজিদকান্দি, বেপারী কান্দি, গোয়ালনগর, বালিয়ারচর এলাকার প্রায় দুইশ’ পরিবারের বসতি হুমকির মুখে পড়েছে। ইউনিয়নের একমাত্র উচ্চবিদ্যালয় ওমর আলী উচ্চবিদ্যালয়টি অন্যত্র সরানো হয়েছে বলে ইউপি চেয়ারম্যান মো. আবুল হোসেন প্রধানিয়া নিশ্চিত করেছেন। ভাঙনরোধ করতে না পারলে কয়েকদিনের মধ্যেই আরো বহু ঘরবাড়িসহ একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি সেতু, একটি মসজিদ, মাদ্রাসাসহ বিস্তীর্ণ এলাকা নদীতে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।     
রাজিবপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি জানান, গত দুদিন পানি কিছুটা কমলেও গতকাল থেকে আবারও রাজিবপুরের নদ-নদীর পানি বাড়ায় বন্যাপরিস্থিতি পূর্বের আকার ধারণ করেছে। গত ২ সপ্তাহ ধরে মানুষ পানিবন্দি হয়ে জীবনযাপন করছেন। অপর্যাপ্ত ত্রাণ, বিশুদ্ধ পানির অভাবে নানা রোগবালা ভর করছে বানভাসীদের। জরুরি চিকিত্সা ও ত্রাণ পৌঁছানোর দাবি জানিয়েছেন বানভাসী মানুষগুলো।
শিবচর (মাদারীপুর) সংবাদদাতা জানান, পদ্মা ও আড়িয়াল খাঁ নদী যেন পাল্লা দিয়ে মেতেছে ভাঙনের খেলায়। গত তিন দিনে পদ্মা নদী ও আড়িয়াল খাঁ নদের ভাঙনে মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের কমপক্ষে সহস্রাধিক বসতবাড়ি বিলীন হয়ে গেছে নদীতে। ইতিমধ্যে ভাঙনে সম্পূর্ণ বিলীন হয়েছে দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। নদী ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে আরো কয়েকশ ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাটবাজার ও রাস্তাঘাট।
গত ২৪ ঘণ্টায় পদ্মা নদীতে ৪ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়ে শিবচরে বিপদসীমার ১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। উপজেলার মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন চরজানাজাত ইউনিয়নে নদীভাঙন অব্যাহত রয়েছে। আড়িয়াল খাঁ নদের ভাঙনে শিবচরের সন্যাসীরচর ও বহেরাতলা ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের অসংখ্য বাড়িঘর নদীতে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে গত দুদিনে। ভাঙনের ঝুঁকিতে থাকা পরিবারগুলোও ঘরবাড়ি ভেঙে নিরাপদ স্থানে ছুটে যাচ্ছে।
চরজানাজাত ইউনিয়নের ৬ শতাধিক ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, মাদ্রাসা ও বিস্তীর্ণ ফসলের ক্ষেতসহ ছয়টি গ্রাম সম্পূর্ণ পদ্মায় বিলীন হয়ে গেছে এবং ভাঙনের মুখে আরো ১৫টি গ্রাম। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে চরাচঞ্চলের কমপক্ষে ৩৫ হাজার মানুষ। খাদ্য ও নিরাপদ পানির সঙ্কটে প্রায় দশ হাজার মানুষ।
চরজানাজাত ইউপি চেয়ারম্যান বজলু সরকার জানান, পদ্মার ভাঙনে চরজানাজাত ইউনিয়ন বিলীনের পথে। ভিটেমাটি হারিয়েছে ২৫ হাজার মানুষ।
নাগেশ্বরী (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা জানান, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও দীর্ঘ সময় ধরে ভারী বর্ষণে নাগেশ্বরী নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। রোপণকৃত রোপা-আমন পানির নিচে তলিয়ে গেছে। বন্যাকবলিত এলাকায় প্রায় ৪০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। গো-খাদ্যের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী, ভুরুঙ্গামারী ও ফুলবাড়ী উপজেলার দুধকুমার, গঙ্গাধর, সংকোচ, ব্রহ্মপুত্র, ধরলা এসব নদ-নদীর অব্যাহত পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বিপদসীমার উপর দিয়ে পানি বইছে। নদী তীরবর্তী চরাঞ্চলসহ নিম্নাঞ্চলগুলো প্লাবিত হয়েছে। দেখা দিয়েছে নদীভাঙন। হুমকির মুখে পড়েছে ব্রিটিশ আমলের ব্রিজ সোনাহাটসহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। চর-ভুরুঙ্গামারী, বলদিয়া, পাইকের ছড়া, দামালগ্রাম, চর বেরুবাড়ি, বামনডাঙ্গা, চর নুছনী, পায়রাডাঙ্গা, চর কৃষ্ণপুর, উত্তর কাটাজালাস, শৈলমারী, নুনখাওয়া, মাঝিয়ালি, কাঠগিরি, শান্তিয়ারচর, বারোবিশ, ঝুনকারচর, নারায়নপুর, বেরুবাড়ী, কালিগঞ্জ এসব এলাকায় রোপনকৃত রোপা-আমনসহ বীজতলা ডুবে গেছে।
গাইবান্ধা প্রতিনিধি জানান, জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, গতকাল বিকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্র নদীর পানি অপরিবর্তিত থাকলেও ঘাঘটে ৩ সেন্টিমিটার এবং করতোয়া নদীর পানি বেড়েছে ২৪ সেন্টিমিটার। ঘাঘট নদীর পানি এখনও বিপদসীমার ১৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।         
বন্যাকবলিত এলাকায় ৪ হাজার ৩২৩টি বাড়িঘর সম্পূর্ণরূপে এবং ৮ হাজার ১২১টি বাড়িঘর আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে।  সাঘাটা, ফুলছড়ি ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। গত দুদিনে ৪০টি বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
শরীয়তপুর প্রতিনিধি জানান, পদ্মাসহ সব নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় শরীয়তপুরের  চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলসহ ১২টি ইউনিয়ন বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। পদ্মার পানি জেলার নড়িয়া উপজেলার সুরেশ্বর পয়েন্টে মঙ্গলবার সকাল ৮টায় বিপদসীমার ১৬ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। নদী তীরবর্তী  চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলসহ বন্যায় প্লাবিত হয়েছে তিনটি  উপজেলার  ১২টি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল। নড়িয়া উপজেলার বেশ কয়েকটি ইউনিয়নের কয়েক হাজার হেক্টর জমির আমন ধান তলিয়ে গেছে।  
নালিতাবাড়ী (শেরপুর) সংবাদদাতা জানান, সদর উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদে পানি আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। পানি বৃদ্ধির সঙ্গে নদের ভাঙন আরও তীব্র হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় শেরপুর সদর উপজেলার চরপক্ষীমারী ইউনিয়নের কুলুরচর, ব্যাপারীপাড়া, ভাগলদী, চুনিয়ারচর ও ডাকপাড়া গ্রামের আরও ৪০টি ঘরসহ বিপুল সংখ্যক এলাকা নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, শেরপুরের উপপরিচালক সুভাষ চন্দ্র দেবনাথ বলেন, বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে শেরপুরের ৫টি উপজেলার ৩ হাজার ২০ হেক্টর জমির আমন ক্ষেত ও ১৭ হেক্টর জমির সবজি ক্ষেত পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে।
নাগরপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা জানান, যমুনা ও ধলেশ্বরী নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে বৃদ্ধি ও  কয়েক দিনের টানা বর্ষণে টাঙ্গাইলের নাগরপুরে চরাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকা বন্যায় প্লাবিত হয়ে হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। তলিয়ে গেছে রাস্তা-ঘাটসহ শত শত একর জমির ধান ও শাকসবজি ক্ষেত। আবাদী জমিসহ শতশত পরিবারের বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভেসে গেছে শতাধিক পুকুরের মাছ। নাগরপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার অধিকাংশ বাড়িতে পানি প্রবেশ করায় হাজার হাজার মানুষের এখন দুর্ভোগের শেষ নেই। বন্যা কবলিত এলাকার মানুষ গবাদিপশু নিয়ে পড়ছে বিপাকে। বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকায় দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ খাবার পানির তীব্র সঙ্কট। দেখা দিয়েছে ডায়রিয়া, সর্দি, কাশি, জ্বরসহ নানা রকম অসুখ।
(এইচআর/আগস্ট ২৬, ২০১৪)