Space For Rent

Space For Rent
বুধবার, ২৭ আগস্ট, ২০১৪
প্রচ্ছদ » ইসলাম
  দেখেছেন :   আপলোড তারিখ : 2014-08-27
মাতাপিতার সঙ্গে সদ্ব্যবহারের উপকারিতা
মুহাম্মদ শাহিদুল ইসলাম : মাতাপিতা আল্লাহর শ্রেষ্ঠ নেয়ামত। সন্তানের জন্ম ও তাদের লালন-পালনে আল্লাহর পরেই মাতাপিতার অবদান সবচাইতে বেশি। মাতাপিতার অবদান ও ইহসানের কৃতজ্ঞতা জানালে আল্লাহর ইহসানের কৃতজ্ঞতা জানানো হয়। তাদের অকৃতজ্ঞতা আল্লাহর অকৃতজ্ঞতারই শামিল। ইমাম আবুল লাইস সমরকন্দী রহ. সন্তানের ওপর মাতাপিতার অধিকার এবং মাতাপিতার সাথে সদ্ব্যবহার সম্পর্কে লিখেছেন, তাদের যখন পানাহারের প্রয়োজন হয় তখন তাদের পানাহার করানো। তাদের পোশাকের প্রয়োজন হলে পোশাক-পরিচ্ছেদ দেয়া। তাদের যখন যে সেবাযত্নের প্রয়োজন হয় তখন সেই সেবা প্রদান করা। তারা ডাকলে সানন্দে তাদের ডাকে সাড়া দেয়া, তারা কোনো কাজের আদেশ করলে তা পালন করা, তাদের সাথে নম্রভাবে বিনয়ীর সুরে কথা বলা, তাদের নাম ধরে না ডাকা, তাদের আগে না হাঁটা, তাদের সামনে ও উপরে না বসা। তাদের পিছনে ও নিচে বসা এবং সব সময় তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা। তাদের নাফরমানি ও অবাধ্যতা থেকে দূরে থাকা। আল্লাহর পরই মাতাপিতার হক। মাতাপিতার সঙ্গে সদ্ব্যবহার করলে ইমান পরিপূর্ণ হয় এবং ইসলামী জীবনযাত্রা সুন্দর হয়।
মাতাপিতার আনুগত্য করা উত্তম ইবাদত ও শ্রেষ্ঠ আনুগত্য। মাতাপিতার সন্তুষ্টি জান্নাতের চাবিকাঠি। মাতাপিতার সঙ্গে সদ্ব্যবহার জান্নাতের পথে ধাবিত করে। যাকে আল্লাহ মাতাপিতার সেবা-যত্ন ও খেদমত করার সৌভাগ্য দান করেছেন, প্রকৃতপক্ষে তাকে তিনি জান্নাতের পথে চলারই সুযোগ করে দিয়েছেন। যে ব্যক্তি এ সৌভাগ্য অর্জন করেছে, আল্লাহ  তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।
মাতাপিতার সঙ্গে সদ্ব্যবহার করলে, তাদের সেবা-যত্ন ও খেদমত করলে হায়াত বৃদ্ধি পাবে।
মাতাপিতার সঙ্গে সদ্ব্যবহার করলে পরকালে মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে এবং মানুষের কাছে সে প্রশংসিত হবে।
যে ব্যক্তি মাতাপিতার সঙ্গে সদ্ব্যবহার করে, তার সন্তানরাও তার সঙ্গে সদ্ব্যবহার করবে, তার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করবে এবং তাকে মর্যাদা প্রদান করবে। মাতাপিতার সঙ্গে ভালো আচরণ করলে আল্লাহ তার সন্তানদেরও সেই শিক্ষাই দেবেন।
মাতাপিতার সঙ্গে সদ্ব্যবহার করলে এবং তাদের সেবা-যত্ন করলে বিপদ মুসিবত দূর হয় ও দুশ্চিন্তা মুক্ত হওয়া যায়। যে ব্যক্তি মাতাপিতার বন্ধুদের সঙ্গে সদাচরণ করবে, তার নুর বিলুপ্ত করা হবে না।
মাতাপিতার সন্তুষ্টি আল্লাহর সন্তুষ্টি। মাতা-পিতাকে সন্তুষ্ট করার কাজ করতে থাকলে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ করা যায়। আল্লাহর ঘর তাওয়াফ করা, হজ ও উমরা পালন করা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। যে ব্যক্তি মাতাপিতার সঙ্গে সদ্ব্যবহার করে, তাদের অধিকার আদায় করে এবং তাদের সেবাযত্ন করে, আল্লাহ তাকে কবুল হজ ও উমরার সমান সওয়াব দান করেন।
মাতাপিতার খেদমত ও সেবা-যত্ন করা জিহাদের সমতুল্য ইবাদত। ক্ষেত্রবিশেষে তার চাইতেও বড়। মাতাপিতার খেদমতে নিয়োজিত থাকলে দ্বীন প্রতিষ্ঠাকারী মুজাহিদগণের মধ্যে গণ্য হওয়া যাবে এবং জিহাদের ময়দানে অংশ গ্রহণকারীদের সমতুল্য মর্যাদার অধিকারী হওয়া যাবে।
লেখক: সহকারী অধ্যাপক, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, উত্তরা ইউনিভার্সিটি, ঢাকা।
(২৭ আগস্ট, ২০১৪)