Space For Rent

Space For Rent
শুক্রবার, ২৯ আগস্ট, ২০১৪
প্রচ্ছদ » ইসলাম
  দেখেছেন :   আপলোড তারিখ : 2014-08-29
তাওয়াফের আহকাম
আল ফাতাহ মামুন : ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, রাসুল সা. বলেছেন, ‘কেউ যদি যথাযথভাবে সাতবার বায়তুল্লাহ তাওয়াফ সম্পন্ন করে এবং দু’রাকাত নামাজ আদায় করে তবে তাকে একটি ক্রীতদাস আযাদ করার সমান সওয়াব দেয়া হবে। আর তার প্রতি কদমে একটি করে গুনাহ মাফ করা হবে এবং একটি নেকি লেখা হবে। (আহমাদ।)

ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, রাসুল সা. বলেছেন, আল্লাহ তার মহিমান্বিত ঘরে হজ আদায়কারীদের জন্য একশটি বিশেষ রহমত বরাদ্দ করেছেন। তার মধ্যে ষাটটি তাওয়াফকারীর জন্য, চল্লিশটি নামাজ আদায়কারীর জন্য এবং বিশটি জেয়ারতকারীদের জন্য। (বায়হাকি।)

তাওয়াফ অর্থ প্রদক্ষিণ করা। কাবা ঘরের হাজরুল আসওয়াদের কোণ থেকে সর্বদা বাঁ হাত কাবা ঘরের দিকে রেখে তাওয়াফ করতে হয়। যেখান থেকে শুরু সেখান পর্যন্ত এলে এক চক্কর হয়। আরবিতে প্রত্যেক চক্করকে ‘সাওত’ বলে। একটি তাওয়াফ সম্পন্ন হয় সাতচক্কর বা সাওত প্রদক্ষিণ করলে। তাওয়াফ শেষে দু’রাকাত সালাত আদায় করতে হয়।

তাওয়াফ চার প্রকার। যেমন: ১. তাওয়াফে কুদুম, ২. তাওয়াফে ইযাকা, ৩. তাওয়াফে বিদা, এবং ৪. তাওয়াফে নাফল।

তাওয়াফকারীর জন্য ওয়াজিব কাজ ৮টি: ১) তাওয়াফের নিয়ত করা (২) নামাজের প্রয়োজনের মত পবিত্র হওয়া (৩) পায়ে হেঁটে তাওয়াফ করা (হাঁটতে না পারলে বা অক্ষম হলে অন্য ব্যবস্থা করা যেতে পারে)। (৪) হাজরে আসওয়াদ থেকে তাওয়াফ আরম্ভ করে ডান দিক মোড় নিয়ে তাওয়াফ করা (৫) হাতিমের বাইরে থেকে তাওয়াফ করা (৬) সতর ঢাকা (৭) পূর্ণ সাত চক্কর তাওয়াফ করা (৮) সাত চক্কর তাওয়াফ শেষ করে দু’রাকাত ওয়াজিবুত তাওয়াফ নামাজ পড়া।

তাওয়াফকারীর জন্য পালনীয় সুন্নাত ১০টি: ১) হাজরে আসওয়াদ চুম্বন করা। (২) যে সকল তাওয়াফের পর সায়ী করতে হবে সেসকল তাওয়াফে এজতেবা করা (৩) তাওয়াফ আরম্ভ করার সময় তাকবীরে তাহরিমার মত দুহাত উঠান। (৪) তাওয়াফ শুরু করার সময় হাজরে আসওয়াদের দিকে মুখ করা। (৫) প্রত্যেক তাওয়াফের পর হাজরে আসওয়াদকে চুম্বন করা। (৬) বিশ্রাম না করে সাত চক্কর তাওয়াফ শেষ করা। (৭) তাওয়াফে কুদুমের প্রথম তিন চক্করে রমল করা। (৮) অবশিষ্ট চার চক্করে স্বাভাবিক গতিতে হাঁটা। (৯) সায়ী করতে যাওয়ার সময় হাজরে আসওয়াদকে চুম্বন করা। (১০) পরিহিত পোশাক পবিত্র হওয়া।
 
তাওয়াফকারীর জন্য মুস্তাহাব কাজ ৭টি: ১) হাজরে আসওয়াদকে চুম্বন করা। (২) প্রত্যেক চক্করে নির্দিষ্ট দোয়াগুলির অর্থ বুঝে বুঝে পড়া। (৩) ওজু নষ্ট বা অন্য কোন কারণে একাদিক্রমে সাত চক্কর শেষ করতে না পারলে পুনরায় প্রথম থেকে শুরু করা। (৪) একাগ্রচিত্তে তাওয়াফ করা, তাওয়াফের মধ্যে আল্লাহ্র ভয় ও ভক্তি হূদয়ে অনুভব করা এবং তাওয়াফের মধ্যে কথাবার্তা না বলা। (৫) পুরুষদের কাবা ঘরের কাছাকাছি এবং ভিড়ের কারনে স্ত্রীলোকদের দূরবর্তী জায়গা থেকে তাওয়াফ করা। (৬) প্রত্যেক চক্করে রোকনে ইয়ামেনীকে ডান হাত দিয়ে স্পর্শ করা কিন্তু হাত চুম্বন না করা। (৭) তাওয়াফের সময় কাবা ঘরের গেলাফে পা না লাগা।
 
তাওয়াফকারীর জন্য যে কাজগুলো মাকরূহ: ১) তাওয়াফের সময় পার্থির কথাবার্তা বলা এবং প্রয়োজন ছাড়া কোনো কথা বলা। (২) জামাাত বা খুতবা আরম্ভের সময় তাওয়াফ করা। (৩) প্রস্রাব-পায়খানা চেপে রেখে তাওয়াফ করা। (৫) সুযোগ থাকলেও হাজরে আসওয়াদকে চুম্বন না করা। (৬) তাওয়াফের সময় ক্রয়-বিক্রয় সংক্রান্ত কথা বলা। (৭) রমল ও এজতেবার ক্ষেত্রে তা না করা।

তাওয়াফকারীর জন্য যা নিষিদ্ধ: ১) বিনা কারণে কোনো কিছুর উপর চড়ে বা লোকের কাঁধে চড়ে তাওয়াফ করা। (২) তাওয়াফের মধ্যে পানাহার করা। (৩) তাওয়াফের সময় হাতিমের মধ্যে দিয়ে যাওয়া।

(একে/আগস্ট ২৯, ২০১৪)