Space For Rent

Space For Rent
রবিবার, ৩১ আগস্ট, ২০১৪
প্রচ্ছদ » ইসলাম
  দেখেছেন :   আপলোড তারিখ : 2014-08-31
বৈদেশিক বাণিজ্য ও ইসলাম
এম. শামসুদদোহা তালুকদার : মানুষকে বেঁচে থাকতে হলে খাবার খেতে হয়। আবার এই খাবার পেতে হলে অর্থ উপার্জনের তাগিদ ও রেওয়াজ আদিকাল থেকেই চলে আসছে। অর্থ উপার্জনের আর সব সূত্রের মাঝে ব্যবসাবাণিজ্যের বাস্তবতা সর্বাগ্রে।

আধুনিককালে তেজারতি করে অর্থ উপার্জনের দ্বারা বেকারত্ব নিরসন ও দারিদ্র্যবিমোচন ব্যাপকভাবে সম্ভব হয়েছে। এক দেশে কোনো পণ্য অপ্রতুল থাকলে অন্য আরেকটি দেশে আবার তা প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়। সে ক্ষেত্রে তা ওই দেশ থেকে নিয়ে আসতে হয়। আবার অন্য দেশের চাহিদা পূরণে একটি দেশ থেকে সে পণ্যটি সেখানে পাঠিয়ে দেয়া হয়। এ প্রক্রিয়াকেই আমদানি-রপ্তানি বলা হয়।

আমদানি-রপ্তানির কারণে প্রতিটি দেশের অর্থনৈতিক ভারসাম্য বজায় থাকে।
ইসলামী অর্থনীতির দর্শনমতে, ব্যবসাবাণিজ্য করা বৈধ একটি বিষয়। জীবিকা অন্বেষণের ক্ষেত্রে ব্যবসার উদ্দেশ্যে বের হওয়ার প্রতি সরাসরি উত্সাহ প্রদান করেছেন স্বয়ং আল্লাহ্ তায়ালা। ইরশাদ হচ্ছে— “সালাত সমাপ্ত হলে তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়বে এবং আল্লাহ্র অনুগ্রহ সন্ধান করবে ও আল্লাহেক অধিক স্মরণ করবে, যাতে তোমরা সফলকাম হও।” (সূরা জুম’আ-আয়াত-১০)।
 
আল্লাহ্র নির্দেশমতে বাইরে বের হলে দুটো বিষয় যৌথভাবে সামনে আসে— সফর করা আর ব্যবসাবাণিজ্য করা। এ দুটো বিষয়ে বান্দার প্রতি নির্দেশ জারি আছে মহান আল্লাহ্র তরফ থেকে। বৈদেশিক বাণিজ্য বিকশিত করা আর তা অব্যাহত রাখার ক্ষেত্রে ইসলামে বিধিনিষেধ নেই বলেই মনে করেন ইসলামী অর্থনীতি বিশেষজ্ঞরা। বৈদেশিক ব্যবসাবাণিজ্য উন্মুক্ত রাখাই যুক্তিযুদ্ধ ও উত্তম মনে করছেন তারা।

ইমাম দারা কুতনী, বাইহাকী, আব্দুল ইয়ালা এবং তাবারানী (রা.) হযরত আয়েশা (রা.) থেকে এবং ইবনে আসাকির (রহ.) হযরত আব্দুল্লাহ্ ইবনে আবু আইয়াশ ইবনে রাবিয়া (রা.) সূত্রে মারুফ হাদিস বর্ণনা করেছেন— “পৃথিবীর সকল প্রান্তে রিজিক অন্বেষণ কর।” এছাড়া তাবারানী হযরত শারজাল ইবনুস সামত (রা.) সূত্রে নিচের মারযু হাদিস বর্ণনা করেছেন, ‘যার জন্য (এখানে) ব্যবসা কঠিন হয়ে পড়ে, তার উচিত ওমানে যাওয়া।’ অনুরূপ আরো এক হাদিসে ‘মিসর’ যাওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। (প্রাগুক্ত)।

এ বাণিজ্যিক সফর আমদানি-রপ্তানি উভয়টির জন্যই হতে পারে। তত্কালীন ব্যবসায়ীরা সাধারণত একই সঙ্গে দুই উদ্দেশ্যেই ভ্রমণ করত। রাসূল (স.) বা সাহাবায়ে কেরামের যুগে এমন কোনো নজির পাওয়া যায় না, যেখানে আমদানি- রপ্তানির ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। আমদানি-রপ্তানির ক্ষেত্রে ইসলামের বিধিনিষেধ রয়েছে বলে যারা এমন অভিমত দিচ্ছেন সেক্ষেত্রে বলা সমীচীন যে, এমন নিদের্শনা জুলুমের নামান্তর। কারণ কষ্টার্জিত পণ্য দেশের বাইরের বাজারে গ্রহণীয় হলে তার মাধ্যমে প্রচুর মুনাফাপ্রাপ্তির সুযোগ থাকে। তবে বাণিজ্য একেবারে অবাধ করে দিলে অর্থনৈতিক ঝুঁকিও থাকে, যা জাতীয় স্বার্থবিরোধী।

ইসলামী রাষ্ট্রের পলিসি মূলত সনাতন ব্যবস্থার বিলোপ ঘটিয়ে সুষম মুক্তবাজার অর্থনীতি কায়েম করে। ইসলামী অর্থনীতির মৌলিক সূত্র ধরেই বৈদেশিক মুদ্রা আহরণের সম্ভাবনা ও সমস্যার সমাধান করবে যদি ইসলামী রাষ্ট্র ও সমাজ প্রতিষ্ঠা লাভ করে। কর্তৃপক্ষ পুরো মুদ্রাব্যবস্থার (Monetary System) ওপর পর্যালোচনা করে তাকে স্বর্ণমানের (Gold Standard) কাছাকাছি নিয়ে আসবে এবং উদ্ভূত সমস্যার সমাধান করবে। তৈরি পোশাক খাত ও জনশক্তি রপ্তানি এ দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের প্রধানতম উত্স।

এ দেশের সাধারণ মানুষের বিরাট একটি অংশ যা কোটির কাছাকাছি, বিদেশে বিশেষ করে ভ্রাতৃপ্রতিম মুসলিম রাষ্ট্রগুলোয় শ্রম বিনিময় করে। এর ফলে বছরে হাজার হাজার কোটি টাকা রেমিট্যান্স হিসেবে এ দেশ অর্জন করছে। জনশক্তি রপ্তানির মতো আর কোনো একক মাধ্যমে এত বেশি পরিমাণ অর্থ পাচ্ছে না বাংলাদেশ। জাতীয় অর্থনীতিতে চাকচিক্য আনয়নকারী এ খাতটির নেপথ্য দেশপ্রেমিকরা তাই জাতির কাছে সম্মানের দাবিদার।

(একে/আগস্ট ৩১, ২০১৪)