Space For Rent

Space For Rent
সোমবার, ০১ সেপ্টেম্বর, ২০১৪
প্রচ্ছদ » ইসলাম
  দেখেছেন :   আপলোড তারিখ : 2014-09-01
মানুষ মানুষকে আঘাত করতে পারে না
মনির আহমদ আজাদ : আত্মার স্বধর্মে মানুষ মানুষের আত্মীয়। মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান আমরা সকলেই মানুষ। মানুষ সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব। চিন্তাচেতনা ও বুদ্ধিদীপ্ত প্রতিভার কারণে মানুষের তুলনা শুধু মানুষই। অন্য কোনো প্রাণীর সাথে তুলনা বা সাদৃশ্য করা অকল্পনীয়। সৃজনশীল কাজের জন্য মানুষ অনন্য। তাই মানুষের প্রতি মানুষের ভালোবাসা ও সহানুভূতি থাকা স্বাভাবিক। কেননা মানুষের মতো সুন্দর ও পরিপূর্ণ প্রাণী এ জগতে আর নেই।
 
স্বজাতির প্রতি ভালোবাসা ও মমত্ববোধ বেশি থাকার কথা মানুষের। কিন্তু বর্তমান যুগে মানুষের এ ধরনের স্বভাব দিন দিন কমে যাচ্ছে। তা মানুষের মনুষ্যত্ববোধের পরিপন্থী। স্বজাতির প্রতি ভালোবাসা ও মমতা বণ্যপ্রাণীদের মাঝে এখনও বিদ্যমান থাকলেও মানুষ শ্রেষ্ঠ জীব হয়েও তা ধরে রাখতে পারছে না। পৃথিবীর ভৌগোলিক সীমারেখায় মানুষ পৃথক পৃথক দেশে বসবাস করলেও দেহের গড়ন ও রক্ত-মাংস অভিন্ন। তারপরও মানুষ পৃথিবীজুড়ে হিংস্রপ্রাণীর মতো আচরণ করছে। যে কোনো তুচ্ছ বিষয়ে নিজেদের মধ্যে যুদ্ধ করে একে অন্যের প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে। এক দেশের মানুষ অন্য দেশের মানুষকে মারার জন্য অস্ত্র তাক করে রেখেছে, যা কখনও সভ্য মানুষের আচরণ হতে পারে না।

মানুষ শ্রেষ্ঠ জীব হয়ে কেন এমন হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে স্বাভাবিকভাবে মরার আগে মরছে। সমস্যা যেমন আছে তেমনি সমাধানের পথও আছে। অথচ কেউ কারও কথা মানছে না।
 
আধিপত্য বিস্তার বা ক্ষমতার দাপট দেখাতে মানুষ কি না করছে। এখানে তো জীবন শেষ নয়। দুনিয়ার জীবন শেষে অনন্ত জীবন। দুনিয়ার জীবন হয়তো সর্বোচ্চ ৭০-৮০ বছর হবে। তারপর যে জীবন অপেক্ষায় আছে তার তো কোনো সীমারেখা নেই।

এ দুনিয়ার জীবনের জন্য মানুষ কত কিছু করে সম্পদ বানাতে চেষ্টা করে। অর্থবিত্তের লালসায় অনেক মানুষ রাতের ঘুমকেও হারাম করে দেবে। অন্যের প্রাণ ও ইজ্জত কেড়ে নিতে দ্বিধাবোধ করবে না। এসবই তো দুনিয়ার সুখের জন্য। অথচ যে জীবন অসীমের পানে বিরামহীন গতিতে ছুটে চলেছে, সেই জীবনের কথা ভাববার যেন কারো একদণ্ড পরিমাণ ফুরসত নেই। সর্বদা কর্মব্যস্ত করে রেখেছে অর্থ। এ অর্থ না থাকলে পরিবার-পরিজনসহ নির্ভরশীল কোনো মানুষ পৃথিবীতে চলতে পারবে না।

এই ক্ষণস্থায়ী জীবনে যদি এতই টাকার প্রয়োজন থাকে, তাহলে পরকালীন জীবনে মানুষ কী সম্পদ নিয়ে অসীম জীবনযাপন করবে? পরকালীন জীবনের জন্য যারা পুণ্য অর্জন করে তাদের সফলতা দুনিয়ার কোনো বাজারে টাকা দিয়ে কেনা যায় না। কিছু পেতে হলে কিছু দিতে হয়। তাই আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য যে কাজ মানুষ করে, তা টাকার বিনিময়ে কেনা যায় না। বরং নিজের মধ্যে ধারণ করে তা অর্জন করতে হয়।

শান্তির পথের সোয়ারীরা দুনিয়ায় কোনো রক্তপাত বা খুনখারাবি করতে পারে না। কেননা তাদের উদ্দেশ্য থাকবে আল্লাহপাককে সন্তুষ্ট করা। মানুষ হত্যাকাণ্ডে যারা লিপ্ত থাকে তারা তো মানুষ হতে পারে না। এরা মানুষ নামের কলঙ্ক। এ ধরনের মানুষের আধিক্য বেড়ে যাওয়ায় পৃথিবীজুড়ে অশান্তির হাওয়া বইছে। দুনিয়ার লোভ পরিহার করে আল্লাহর সান্নিধ্য লাভই যদি মানুষের কামনায় থাকত তাহলে তো কোনোরকম হানাহানি কিংবা যুদ্ধ বিগ্রহের সৃষ্টি হতো না। তাই মানুষ হিসেবে আমাদের হিংস্রতা বর্জন করে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা উচিত।

(একে/সেপ্টেম্বর ০১, ২০১৪)