Space For Rent

Space For Rent
সোমবার, ০১ সেপ্টেম্বর, ২০১৪
প্রচ্ছদ » প্রবাসের খবর
  দেখেছেন :   আপলোড তারিখ : 2014-09-01
ভারতে আরও এক বছর থাকার অনুমতি পেলেন তসলিমা
আনোয়ারুল করিম : বাংলাদেশ থেকে নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিনকে ভারতে আরও এক বছর থাকার অনুমতি দিয়েছে নরেন্দ্র মোদি সরকার। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী ২০১৫ সালের আগস্ট পর্যন্ত তসলিমা সেখানে থাকতে পারবেন। ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সোমবার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের এক কর্মকর্তা গতকাল বর্তমানের এ প্রতিবেদককে এ তথ্য জানান।

৫১ বছর বয়সী এই লেখিকার রেসিডেন্ট পারমিট গত জুলাই মাস থেকে শেষ হয়ে যায়। অবশ্য এর আগেই পারমিট নবায়নের জন্য ২৬ জুন আবেদন করেন তসলিমা। এরপর তাকে ‘আবাসিক ভিসা’ না দিয়ে দুই মাসের সাধারণ ট্যুরিস্ট ভিসা দেয়া হয়। এটি পেয়ে হতাশ তসলিমা ২ আগস্ট দেখা করেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সঙ্গে। তখন রাজনাথ সিং, যিনি বিজেপির সভাপতিও বটে, তিনি তসলিমাকে বলেন, ‘আপনার অন্ধকার দিন শীঘ্রই শেষ হবে।’ খুব সম্ভবত, সেই আশ্বাসের প্রতিফলনই হলো তার আগামী ২০১৫ সালের আগস্ট পর্যন্ত ‘রেসিডেন্ট ভিসা’ প্রাপ্তি।

তসলিমা নাসরিনকে বাংলাদেশ ছাড়তে হয় ১৯৯৪-এর ৯ আগস্ট। এরপর সুইডেন, আমেরিকা, ফ্রান্স, কলকাতা, ঘুরে প্রায় বছর-চারেক হলো দিল্লি তার ঠিকানা। বাংলাদেশ ত্যাগের পর ১৯৯৮ সালে তসলিমা নাসরিন একবার বাংলাদেশে ফেরার সুযোগ পান এবং মাস তিনেক থাকার পর মৌলবাদীদের চাপে তাকে বাংলাদেশ ত্যাগে বাধ্য করা হয়। ২০০২ সালে বাংলাদেশ সরকার তসলিমার পাসপোর্ট নবায়নের আবেদন প্রত্যাখ্যান করে, তখন সুইডেন তাকে সেদেশের নাগরিকত্ব প্রদান করে। সুইডিশ পাসপোর্টে ভারতের রেসিডেন্সি ভিসা নিয়ে ২০০৪ সাল থেকে তসলিমা কলকাতায় থাকতে শুরু করেন। তার ভারতে পদার্পণের পর থেকেই ভারতীয় মুসলিম মৌলবাদীরা বোম্বে হায়দরাবাদ ও কলকাতায় তার ভারতে অবস্থানের বিরুদ্ধাচরণ করতে থাকে। শেষ পর্যন্ত ২০০৭ সালে কলকাতায় মুসলিম মৌলবাদীদের তাণ্ডবের পর আইনশৃঙ্খলার অবনতির আশঙ্কায় পশ্চিমবঙ্গ সরকার তসলিমাকে তার বাসস্থান ত্যাগে বাধ্য করে ও প্রাথমিকভাবে রাজস্থানে অজ্ঞাতবাসে পাঠিয়ে দেয়। এরপর ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার তাকে রাজস্থান থেকে সরিয়ে দিল্লিতে অজ্ঞাতবাসে নিয়ে যায়। ৭-৮ মাস অজ্ঞাতবাসের পর ভারত ত্যাগের শর্তে তসলিমার ভারতের রেসিডেন্সি ভিসার নবায়ন করে তাকে ভারত ত্যাগে বাধ্য করা হয়।

২০০৮ সালে তসলিমা নাসরিন বাংলাদেশ সরকারের কাছে পাসপোর্টের আবেদন করলে তার আবেদন যথারীতি প্রত্যাখ্যাত হয়। তখন তসলিমা তার ইউরোপিয়ান পাসপোর্টে ‘বাংলাদেশ ভ্রমণে ভিসার প্রয়োজন নেই’ এই ছাপ মারতে কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেন, এতেও প্রত্যাখ্যাত হয়ে তিনি সাধারণ ট্যুরিস্ট ভিসার আবেদন করেন এবং তাতেও প্রত্যাখ্যাত হন। আর এ সবকিছুর পর ২০০৮ সালেই বাংলাদেশ সরকার তার ‘কালো তালিকা’য় তসলিমা নাসরিনের নাম অন্তর্ভুক্ত করে। ২০০৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত নতুন করে বেশ কয়েকবার তিনি বাংলাদেশে এসে বসবাসের ইচ্ছা প্রকাশ করেন, কিন্তু সরকার থেকে এখনও কোনো আশ্বাস বা অনুমতি তসলিমা পাননি।

(এইচআর/সেপ্টেম্বর ০১, ২০১৪)