Space For Rent

Space For Rent
সোমবার, ০১ সেপ্টেম্বর, ২০১৪
প্রচ্ছদ » গ্যালারি
  দেখেছেন :   আপলোড তারিখ : 2014-09-01
চন্দরপলের সতর্ক বার্তা
ক্রীড়া প্রতিবেদক : বাংলাদেশের পর তিনদিনের প্রস্তুতি ম্যাচে আদর্শ ব্যাটিং অনুশীলনের পথেই হাঁটছে সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস একাদশ। যদিও এই দলের মাত্র একজন ক্রিকেটার খেলবেন বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে। আর ওই একজন হলেন শিবনারায়ন চন্দরপল। বর্তমান সময়ে টেস্টের সবচেয়ে বয়স্ক ক্রিকেটার। ১৫৬ টেস্ট খেলা চন্দরপল সব প্রতিপক্ষের জন্যই আতঙ্কের কারণ। ১১ হাজার রান ও ২৯ সেঞ্চুরির মালিক এই ক্যারিবিয়ানকে সামলানো তাই চ্যালেঞ্জই বটে। যেমনটা ওয়ার্নার পার্কে এখন ভুগছে বাংলাদেশ দল। দুই ম্যাচের সিরিজের প্রস্তুতির জন্য ম্যাচটা খেলছেন তিনি। তার ব্যাটিং অনুশীলনের চেষ্টাও তাই পূর্ণতা পাচ্ছে সেঞ্চুরির মাধ্যমে। পাশাপাশি মুশফিক বাহিনীকে প্রাথমিক সতর্কতা দিয়ে রাখলেন। টেস্ট সিরিজেও তিনি সফরকারীদের জন্য বড় দুশ্চিন্তার কারণ হবেন। পথের কাঁটা চন্দরপল সেঞ্চুরি পূর্ণ করেও এগিয়ে চলেছেন। এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত প্রথম ইনিংসে সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিসের সংগ্রহ চার উইকেটে ২৯৭ রান।

বাংলাদেশের বিরুদ্ধে আট টেস্টে ৬২৭ রান করেছেন চন্দরপল। রান গড় ১০৪.৫০। ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে সেটি আবার ১০৮.০০। সেঞ্চুরি করেছেন তিনটি। তার মধ্যে একটি আবার ডাবল সেঞ্চুরি। যেটি চন্দরপলের ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ রানের ইনিংস। অপরাজিত ২০৩ রান করেছিলেন তিনি। গতকাল ওয়ার্নার পার্কে ম্যাচের তৃতীয় দিনেও চন্দরপলের ব্যাটেই পিষ্ট হয়েছে বাংলাদেশ। এক প্রান্ত আগলে ৪০ বছর বয়সী এই বাঁহাতি ক্রিকেটার খেলে গেছেন নির্ভেজাল ইনিংস। ব্যক্তিগত ১৬ রানে ইমরুল কায়েস ক্যাচ ফেলেছিলেন চন্দরপলের সঙ্গী লুইসের। রবিউল ইসলামের বলে স্কয়ার ড্রাইভে চার মেরে সেঞ্চুরি করেন চন্দরপল। তিন অঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে তিনি ২৭৫ মিনিটে ২০৭ বল খেলেছেন এবং ১২টি চারও মেরেছেন। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এটি তার ৭০তম সেঞ্চুরি।

এর আগে রবিবার প্রস্তুতি ম্যাচের দ্বিতীয় দিনে মুশফিক-নাসিরের জোড়া সেঞ্চুরির পর সাত উইকেটে ৩৭৭ রান তুলে প্রথম ইনিংস ঘোষণা করেছিল বাংলাদেশ। মুশফিক অপরাজিত ১০৬, নাসির ১০০ রান করেছিলেন। জবাবে দ্বিতীয় দিন শেষে প্রথম ইনিংসে স্বাগতিকদের সংগ্রহ ছিল ৪ উইকেটে ২৩২ রান। তবে  স্বাগতিকদের শুরুটাও ছিল দুর্দান্ত। জোড়াতালির সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস দল ওপেনিং জুটিতেই ৭৭ রান তুলেছিল। ওপেনার শাকুইলা মার্টিনা পিচ আকড়ে পড়ে থাকলেও দলের ইনিংস টেনে নিয়ে গেছেন শেন জেফারস। তাদের জুটিতে মার্টিনার অবদান মাত্র নয়। ওই মার্টিনাকে মুশফিকের ক্যাচ বানিয়ে ব্রেক থ্রু এনে দিয়েছেন রুবেল হোসেন ইনিংসের ১৯তম ওভারে। জাভাল হজকে থিতু হতে দেননি তাইজুল ইসলাম। সাত রান করে মুমিনুল হকের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরেন হজ। অভিজ্ঞ শিবনারায়ন চন্দরপলের সঙ্গে ৫১ রানের জুটি গড়েন শেন জেফারস। এসময় সেঞ্চুরি তুলে নেন জেফারস। সাবলীল ব্যাটিং করতে থাকা এই ক্যারিবিয়ানকে ফেরান শুভাগত হোম। দলীয় ১৬১ রানে মাহমুদউল্লাহর হাতে ক্যাচ দেন জেফারস। ১৭০ বলে ২২টি চারে ১১৮ রান করেন তিনি। টনিটো উইলেটকে সঙ্গে নিয়ে চন্দরপল দিনটি নির্বিঘ্নে কাটিয়ে দেয়ার পথেই ছিলেন। কিন্তু বাদ সাধেন মাহমুদউল্লাহ। দিন শেষের চার ওভার আগে উইলেটকে সাজঘরে পাঠান এই বাংলাদেশি অফস্পিনার। চতুর্থ উইকেট জুটিতে চন্দরপলের সঙ্গে ৬৫ রান যোগ করেন উইলেট। তিনি ২২ রান করেন। শেষ বিকালে জিল ক্লার্ক ও চন্দরপল আর কোনো অঘটন ঘটতে দেননি। হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেছিলেন দলের ব্যাটিংস্তম্ভ চন্দরপল।

(এইচআর/সেপ্টেম্বর ০১, ২০১৪)