Space For Rent

Space For Rent
মঙ্গলবার, ০২ সেপ্টেম্বর, ২০১৪
প্রচ্ছদ » সবুজ পৃথিবী
  দেখেছেন :   আপলোড তারিখ : 2014-09-02
গাছ কাটায় বাড়ছে পরিবেশ দূষণ
উত্তম সরকার : প্রায়ই বলে থাকি কাগজ পরিবেশ দূষণ বাড়াচ্ছে, আসলে কি তাই। একেবারেই ঠিক নয়। এর মূল কথা হলো, কাগজ উত্পাদনের জন্য যে ধরনের গাছ ব্যবহার করা হচ্ছে, তা থেকেই দূষণ হচ্ছে আমাদের পরিবেশ। আর এ গাছ কাগজে লাগানোর জন্য উজাড় হচ্ছে বনভূমি। এর বিরুদ্ধেই এবার পথে নেমেছেন পরিবেশবাদীরা।

কাগজের মণ্ড বানানোর জন্য কাঠ নিয়ে যাওয়া হচ্ছে কাগজ কলে। ঐতিহাসিক তথ্য অনুসারে কাগজ বা পেপার শব্দটি এসেছে প্রাচীন মিসরের ‘প্যাপিরাস’ নামক শব্দ থেকে।      

প্যাপিরাস নামক গাছের বাকল থেকে এ প্যাপিরাস তৈরি হতো। তবে চীনে নাকি আরো অনেক আগে আধুনিক কাগজের পূর্বসূরির উদ্ভব হয়েছিল বলেই মনে করেন ঐতিহাসিকরা। আজ সেই কাগজই হচ্ছে পৃথিবীর অন্যতম ব্যবহূত জিনিস।
এক সময় ভাবা হয়েছিল কাগজের ব্যবহার হয়তো কমে যাবে, কমে যাবে এর উত্পাদন। কিন্তু তা আর হয়নি। বিশ্বে এর ব্যবহার বেড়ে যাওয়ার ফলে ১৯৫০ সালের পর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত সাতগুণ বেড়েছে কাগজের উত্পাদন।

কাগজের চাহিদা যেন দিন দিন বেড়েই চলছে। এ কারণেই বেড়ে যাচ্ছে বনভূমির ধ্বংস পরিমাণ। এক হিসাবে দেখা গেছে গত বছর প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার বর্গ কিলোমিটার বনভূমি ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। এ বেড়ে যাওয়ার পরিমাণটা এক কথায় বলা চলে, উত্তর আফ্রিকার দেশ টিউনিশিয়ার প্রায় সমান। বিশ্বের পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো এর প্রতিবাদ জানাচ্ছে। এর অন্যতম কারণ, সেখানে কাগজের কলের জন্য বিশেষ গাছ জন্মানো।

একদিকে বন ধ্বংস করা হচ্ছে আবার একই সঙ্গে লাগানো হচ্ছে পাল্পউড বা কাগজ উত্পাদনের জন্য প্রয়োজনীয় গাছ। দিন দিন এ পাল্পউড থেকে প্রস্তুতকৃত কাগজের চাহিদাও বাড়ছে। এখানে পরিবেশবাদীরা বলছেন, না এভাবে গাছ কাটতে দেয়া যায় না। বরং পুরনো ব্যবহূত কাগজ রিসাইকেল করে অর্থাত্ পুনর্ব্যবহার উপযোগী করে তোলা উচিত এবং তুলতে হবে।

১৯৮০ সালের দিকে আশা করা হয়েছিল এক সময়, হয়তোবা বছর বিশেকের মধ্যে, সকল অফিস হবে কাগজমুক্ত। তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে কাগজের ব্যবহার কমিয়ে আনা হবে। কিন্তু সেই স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে গেছে। এ কথা বলেছিলেন, জার্মানির কেন্দ্রীয় পরিবেশ সংস্থার কর্মকর্তা আলমুট রাইশার্ট।
 
সত্যি বলতে, আমাদের একটা হাত সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করি, আর বেশি করি অফিসের কাগজের ব্যবহার করতে। কারণ, কাগজ দ্রুত ছাপা যায়। একটি মাত্র বাটন টিপলেই আপনি কাগজে প্রয়োজনীয় অনেক কিছুই ছাপাতে পারেন। এই ধরনের সুবিধার কথা বিবেচনা করেই কাগজ বেশি ব্যবহূত হচ্ছে। কিন্তু এই কাগজ ব্যবহার বেড়ে যাওয়াটা যে পরিবেশের জন্য ক্ষতির কারণ সে কথাটাও বিবেচনায় আনা  দরকার।

অন্যদিকে, ভাবা হয়েছিল ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সম্প্রসারণের কারণে সংবাদপত্রের কাটতি কম হবে, ফলে কাগজের ব্যবহার কমবে। আসলে তা হয়নি। বরঞ্চ কিছু কিছু ক্ষেত্রে সংবাদপত্র আরো বেশি বিক্রি হচ্ছে। সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায় পৃথিবীর মধ্যে চারটি দেশের কাগজের চাহিদা সবচেয়ে বেশি বলে দেখা যায়। এই দেশগুলো হচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চীন, জাপান এবং জার্মানি। ইউরোপের শীর্ষ অর্থনীতির দেশ জার্মানিতে প্রতিবছর মাথাপিছু কাগজের ব্যবহার হয় ২৩০ কেজি। একে অতিরিক্ত বলেই উল্লেখ করেন আলমুট রাইশার্ট।

আগেই বলা হয়েছে, কাগজের উত্পাদনের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে গাছ। এর ফলে কমে যাচ্ছে বনের গাছ। লাগানো হচ্ছে এমন গাছ যা অনেক সময় সংশ্লিষ্ট বনের সঙ্গে মানানসই নয়। কাগজ কারখানাগুলোতে সেই গাছ যাচ্ছে, গুঁড়ো করা হচ্ছে এবং বিশেষ ওই মণ্ড থেকেই তৈরি হচ্ছে কাগজ। এ মণ্ড বানানোর জন্য বিশেষ ধরনের গাছ লাগানোর কারণে দক্ষিণ আমেরিকা ও দূরপ্রাচ্যের দেশগুলোতে বন কমে যাচ্ছে, নষ্ট হচ্ছে পরিবেশ।

ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ফান্ড ফর নেচারের কর্মকর্তা মারকুস রাড্ডের কথায়, সুমাত্রার দিকে তাকালে আমরা কী দেখতে পাই? সেখানে দেখছি কাগজের মণ্ডের জন্য লাগানো হচ্ছে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর ইউক্যালিপটাস এবং আকাশিয়া গাছ। যা বাদলা বন বা রেইন ফরেস্টের জন্যও খুবই ক্ষতিকারক। পরিবেশবাদীরা বলছেন, এভাবে বন ধ্বংস না করে এবং ক্ষতিকর গাছ না লাগিয়ে বরঞ্চ ব্যবহূত কাগজই যদি আবার ব্যবহার উপযোগী করে তোলা যায়, তবেই হবে পরিবেশের জন্য খুবই ভালো একটি পদক্ষেপ। এখন তা নিয়েই কাজ করছেন বিজ্ঞানীরা। আর তাদের সমর্থন জানাচ্ছেন পরিবেশবাদীরা।

(একে/সেপ্টেম্বর ০২, ২০১৪)