Space For Rent

Space For Rent
মঙ্গলবার, ০২ সেপ্টেম্বর, ২০১৪
প্রচ্ছদ » ইসলাম
  দেখেছেন :   আপলোড তারিখ : 2014-09-02
লজ্জাশীলতা ইমানের অঙ্গ
এম. শামসুদদোহা তালুকদার : মানুষকে সেরা জীব বলার হেতু নিয়ে গবেষণা করলে দেখা যাবে মানুষের মাঝে লজ্জাশীলতা একটি নিয়ামত, যা অন্য প্রাণিকুলের মাঝে নেই। প্রাণিজগেক আলাদা করেছে এ অনন্য বৈশিষ্ট্যটি। জগতের সব মানুষই কোনো না কোনোভাবে লাজুকতায় আবিষ্ট থাকে।

মাত্রাগত ফারাকই আলাদা করেছে মুসলিম নরনারীকে অন্যান্য ধর্মাবলম্বী থেকে। ইসলামে এটা এমনই একটি মৌলিক বিষয়, যা সরাসরি ইমানের সাথে সম্পৃক্ত। বলা হয়ে থাকে যার লাজলজ্জা নেই তার ইমানও নেই। সহীহ হাদীসে রয়েছে মহানবী (স.) বলেছেন, “লজ্জাশীলতা ইমানের অন্যতম শাখা।” (বুখারি ও মুসলিম)।

মূলত যেসব মুসলিম নরনারী লজ্জাশীলতা ধারণ করে তাদের জীবনাচরণ পরিচালনা করে, তারাই হচ্ছে সৌন্দর্যধারী। পারলৌকিক জীবনে তারাই ঐশ্বর্যের অধিকারী। মহানবী (স.) আরও বলেছেন, “যার মধ্যে লাজ-শরম থাকবে, তার মধ্যে এক বিশেষ প্রকারের সৌন্দর্য দৃষ্টিগোচর হবে।” (তিরমিযী)।

লাজুকতা রমণীর ক্ষেত্রে বিশেষ আব্রু হিসেবে পরিগণিত। নারীর লাজুকতার বিকল্প নেই। তার বহুমুখী সৌন্দর্যের পেছনে লাজুকতা একটি বিরাট অনুষঙ্গ। কারণ পুরুষের থেকে নারীর শারীরিক অবয়ব মোহনীয় করে সৃষ্টি করা হয়েছে। এর হেফাজত আর সুরক্ষার উপায় হচ্ছে তার শালীনতা বজায় রাখা। ইসলাম ধর্মে শালীনতা-লাজুকতা বজায় রাখাকে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে, অন্যান্য ধর্মের বেলায় ততটা নয়।

প্রিয় নবীর (স.) ইরশাদ হচ্ছে “প্রত্যেক ধর্মের একটি বিশিষ্ট চরিত্র আছে। আমাদের ধর্মের বিশিষ্ট চরিত্র হচ্ছে লজ্জাশীলতা।” (মুয়াত্তা, মালেক (র.)। লজ্জাবোধ মানুষকে ‘আখলাকে হাসানা’য় (উত্তম চরিত্র) উন্নীত করে। মহানবী (স.) এ প্রসঙ্গে বলেছেন, “মানুষের মধ্যে লজ্জাবোধ থাকলে সে নিশ্চয়ই সত্কর্মশীল হয়।” (জামেউস সাগীর)। লজ্জাশীলতা একটি ব্যারোমিটারের মতো। লজ্জাবোধ থাকা না থাকার সঙ্গে ইমানের হ্রাস-বৃদ্ধি যোগসূত্র রয়েছে।

লজ্জাহীনতা মানুষকে পশুত্ব পর্যায়ে নামিয়ে আনে। এজন্যই মানব শরীরের অতি গোপনীয় স্থাপনাকে লজ্জাস্থান বলে অভিহিত করা হয়ে থাকে। মূলত লজ্জাশীলতা যদি না থাকে সেটা এক প্রকার নগ্নতা, যা জন্তু-জানোয়ারের মতো উন্মুক্ত হয়ে পড়ে।

ইসলামী শরীয়তমতে, ‘নারী-পুরুষ সতর ঢাকার জন্য উপযুক্ত পোশাক পরিধানের নির্দেশনা রয়েছে। এটা সভ্যতা ও ইবাদত উপযোগী হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। এতদভিন্ন পোশাক পরিধান করা চরম লজ্জাহীনতা ও চূড়ান্ত অশীলতা। নবী রাসূল (স.) এর বাণী হচ্ছে, “লজ্জা ইমানের শাখা এবং ইমানদার জান্নাতে যাবে। লজ্জাহীনতা অবিশ্বাসের শাখা এবং অবিশ্বাসী (বেইমান) জাহান্নামে যাবে।” (তিরমিযী)। প্রিয় নবী (স.) আরও বলেছেন, “লজ্জা-শরম সম্পূর্ণ কল্যাণময়।” (সহীহ বুখারী)।

কোনো মানুষের লাজলজ্জা না থাকলে বুঝতে হবে তার প্রতি আল্লাহ্র কোনো অনুকম্পা নেই। ইবনে মাজা হাদিস গ্রন্থে উল্লেখ আছে, আল্লাহ তায়ালা যখন কোনো বান্দাকে ধ্বংস করতে চান, তখন তার কাছ থেকে লজ্জা ছিনিয়ে নেন। যখন তার লজ্জা থাকে না তখন সে মানুষের দৃষ্টিতে লাঞ্ছিত ও হেয় হয়ে যায়।

তিরমিযী শরিফের একখানা হাদিসে উল্লেখ রয়েছে, রাসুলুল্লাহ্ (স.) স্বয়ং পর্দানশিন রমণীদের অপেক্ষা অধিক লজ্জাশীল ছিলেন। কারো কোনো কথা বা কাজ অপছন্দ হলে (লজ্জাবশত প্রায়ই তিনি মুখে কিছু বলতেন না), তার চেহারায় তা প্রতিভাত হতো। লজ্জাই হলো ইসলাম ধর্মের শিষ্টাচার।

(একে/সেপ্টেম্বর ০২, ২০১৪)