Space For Rent

Space For Rent
মঙ্গলবার, ০২ সেপ্টেম্বর, ২০১৪
প্রচ্ছদ » রাজনীতি
  দেখেছেন :   আপলোড তারিখ : 2014-09-02
মানববন্ধন করল বিএনপি জোট
বর্তমান প্রতিবেদক : গুম-খুনের প্রতিবাদে রাজধানীর নয়া পল্টন সড়কে মানববন্ধন করেছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ঘোষিত ‘আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ’ দিবস ছিল ৩০ আগস্ট। সেদিন এই মানববন্ধন কর্মসূচি হওয়ার কথা থাকলেও পুলিশের অনুমতি না পাওয়ায় জোটের সিদ্ধান্ত মতে মঙ্গলবার এই কর্মসূচি পালন করা হয়। বিশ্বব্যাপী গুম-অপহরণের প্রতিবাদ ও সচেতনতা তৈরিতে জাতিসংঘ ২০১১ সাল থেকে প্রতিবছর ৩০ আগস্ট ‘ইন্টারন্যাশনাল ডে ফর ভিকটিমস অব এনফোর্সড ডিসঅ্যাপিয়ারেন্স’ পালন করে আসছে।  
কাকরাইলের নাইটিঙ্গেল রেস্তোরাঁর মোড় থেকে ফকিরাপুল মোড় পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে ২০ দলের নেতাকর্মীরা ব্যানার-ফেস্টুন হাতে বেলা ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত এই মানববন্ধনে অংশ নেন। যদিও আগের দিন ঢাকা মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল বর্তমানকে জানিয়েছিলেন, নাইটিঙ্গেল মোড় থেকে আরামবাগ সড়কের শেষ প্রান্ত নটরডেম কলেজ পর্যন্ত মানববন্ধন করা হবে।
এই কর্মসূচি ঘিরে সকাল থেকেই নয়া পল্টন সড়কের বিভিন্ন মোড়ে ব্যাপক সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন ছিলো। মানববন্ধন শুরুর আগ মুহূর্তে বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে রাস্তার মাঝখানে জমায়েত হওয়া নেতাকর্মীদের সরাতে গেলে মৃদু উত্তেজনা দেখা দেয়। যদিও দলের যুগ্মমহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যায়। কিন্তু মানববন্ধন শুরু হলে ফকিরাপুল থেকে কাকড়াইলের দিকে যাওয়ার রাস্তাটি বন্ধ করে দিলে নেতাকর্মীদের জমায়েতে বন্ধ হয়ে যায়। এতে করে এসব এলাকার সংশ্লিষ্ট সড়কে ব্যাপক যানজট লেগে যায়। ঘর থেকে বের হওয়া মানুষের ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
সরে জমিনে দেখা যায়, এই মানববন্ধনে বিএনপির অনেক কেন্দ্রীয় নেতাই ছিলেন না। অঙ্গ এবং সহযোগি সংগঠনের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত থাকলেও কেন্দ্রীয় কমিটির অধিকাংশ নেতাই ছিলেন অনুপস্থিত। জামায়াতে ইসলামীর বিশাল ছিল দেখার মতো। তবে বিমানবন্দর নিউমার্কেট, নিউমার্কেট, ডেমরা, খিলগাঁও, মতিঝিল, পল্টন, শাহাবাগ, মোহাম্মদপুর, মিরপুর, তেজগাঁ এলাকার ওয়ার্ড ও থানা পর্যায়ের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নেতাকর্মীর উপস্থিতি দেখা গেছে। উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির নেতারা।  
শুরুতেই নাইটিঙ্গেল মোড় থেকে ফকিরাপুল মোড় পর্যন্ত পায়ে হেটে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, মির্জা আব্বাস ও রুহুল কবির রিজভী মানববন্ধন প্রত্যক্ষ করেন।      
২০ দলীয় জোট নেতাদের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের আমলে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এম ইলিয়াস আলী, ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর চৌধুরী আলমসহ সারাদেশে গুম হওয়া নেতাকর্মীদের  স্বজনরাও এই মানববন্ধনে অংশ নিয়ে বক্তব্য রাখেন। বিএনপির নিখোঁজ নেতা এম ইলিয়াস আলীর ছেলে অর্ণব মানববন্ধনে অংশ নিয়ে বলে, ২৮ মাস হলেও বাবার কোনো খোঁজ পাচ্ছি না আমরা। গুম করে রাজনীতি করা একটি স্বাধীন দেশে চলে না। আমরা বাবাকে ফিরে পেতে চাই।
মানববন্ধনে অংশ নেয়া স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আদনানের বোন ফারহানা সুলতানা উচ্চৈস্বরে বিলাপ  করতে করতে বলেন, উচ্চাশিক্ষার জন্য মালশিয়া যাওয়ার কথা ছিল আমার ভাইয়ের। এরই মধ্যে আদনানকে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্য পরিচয়ে তুলে নেয়া হয়। আমার ভাইয়ের মালেশিয়ার ভিসা পাওয়া গেলেও ভাইকে এখন পর্যন্ত ফিরে পাইনি। মানববন্ধনে আরও এসেছিলেন নিখোঁজ বিএনপির নেতা সাজেদুল ইসলাম সুমনের বোন মারুফা ইসলাম, ছাত্রদলের নেতা জহিরুল ইসলামের মা হোসনে আরা বেগম, তরিকুল ইসলামের বাবা নুরুল ইসলাম, পারভেজের বাবা সফরউদ্দিন প্রমুখ।  প্রত্যেকেই নিজেদের কষ্টের কথা জানান।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গুম-খুনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে বলেন, নীরবে গুম-খুন দেখার আর সময় নেই। এই অত্যাচার, অন্যায়, অপহরণ ও গুম-খুনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।
গুম-খুনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বানের পাশাপাশি অবাধ, নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন ফখরুল। তিনি বলেন, অবৈধ ও অনৈতিক সরকারকে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন দিতে বাধ্য করতে হবে। আন্দোলন তীব্র থেকে তীব্রতর করতে হবে।
বিএনপির ঢাকা মহানগর কমিটির আহ্বায়ক ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, অবিলম্বে গুম-খুন বন্ধ করতে হবে। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস করা হয়েছিল একটা সময়কে সামনে রেখে। কিন্তু এখন দেশে এই পরিস্থিতি বিরাজমান।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান, এম কে আনোয়ার, আবদুল মঈন খানসহ কেন্দ্রীয় নেতা  আবদুল্লাহ আল নোমান, সেলিমা রহমান, আব্দুল আউয়াল মিন্টু, আবদুল মান্নান, রুহুল কবির রিজভী, জয়নুল আবদিন ফারুক, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, খায়রুল কবির খোকন, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, আবু সাঈদ খান খোকন, আবদুল লতিফ জনি, শামীমুর রহমান শামীম, আসাদুল করীম শাহিনসহ দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধনে অংশ নেন।
২০ দলীয় জোট নেতাদের মধ্যে ছিলেন, জামায়াতের তাসলিম আলম, সেলিম উদ্দিন, আমিনুল ইসলাম, ইসলামী ঐক্যজোটের মাওলানা আবদুল লতিফ নেজামী, খেলাফত মজলিশের সৈয়দ মজিবুর রহমান, কল্যাণ পার্টির সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম,  এম এম আমিনুর রহমান,এনডিপির আলমগীর মজুমদার, এলডিপির রেদোয়ান আহমেদ, জাগপার শফিউল আলম প্রধান, খোন্দকার লুত্ফর রহমান, লেবার পার্টির মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, হামদুল্লাহ আল মেহেদি, ইসলামিক পার্টির আবদুল মোবিন, আবদুর রশীদ প্রধান, ডিএলর সাইফুদ্দিন আহমেদ মনি, ন্যাপের গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়া, পিপলস লীগের সৈয়দ মাহবুব হোসেন, এনপিপির ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, মুস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা, জমিয়তের উলামে ইসলামের মাওলানা মহিউদ্দিন ইকরাম, মাওলানা রেজাউল করীম।
(সেপ্টেম্বর ০২, ২০১৪)