Space For Rent

Space For Rent
মঙ্গলবার, ০২ সেপ্টেম্বর, ২০১৪
প্রচ্ছদ » প্রবাসের খবর
  দেখেছেন :   আপলোড তারিখ : 2014-09-02
‘ব্যর্থতা ঢাকতে জিয়ার বিরুদ্ধে অপপ্রচার’
বর্তমান প্রতিবেদক : নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যায় জিয়াউর রহমানের নাম জড়ানোর ‘অপচেষ্টা’ চালানো হচ্ছে বলে দাবি করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি তারেক রহমান। তার দাবি— জনগণের কাছে জিয়াউর রহমানের  বিপুল জনপ্রিয়তার কারণে শেখ মুজিবুর রহমান হত্যার সঙ্গে যারা প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে জড়িত কিংবা তাকে রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছেন, তারাই জিয়াউর রহমানকে অপপ্রচারের টার্গেট করেছেন।
স্থানীয় সময় সোমবার দলের ৩৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পূর্ব লন্ডনের অট্রিয়াম ব্যাংকুয়েটিং হলে যুক্তরাজ্য বিএনপি আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি শায়েস্তা চৌধুরী কুদ্দুসের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক এম কয়ছর আহমেদ  অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন।
তারেক রহমান বলেন, ‘যারা এখন বিএনপি কিংবা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সম্পর্কে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন মুক্তিযুদ্ধে তাদের অনেকেরই গৌরবজনক অংশগ্রহণ ছিল না’।
তার ভাষ্যমতে, শেখ মুজিব হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে ১৫ আগস্ট। আর জিয়াউর রহমান প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন ১৯৭৭ সালের ২১ এপ্রিল। এই সময়ের মধ্যে দুজন ব্যক্তি রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। একজন মোশতাক আহমদ, অপরজন বিচারপতি মোহাম্মদ সায়েম।
তার দাবি,  ‘জিয়াউর রহমান সামরিক আইন জারি করেননি। ১৫ আগস্ট সামরিক আইন জারি করেন  মোশতাক। জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর তিনি বরং সামরিক আইন প্রত্যাহার করেছিলেন। জিয়াউর রহমান ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করেননি। ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করেছিল মোশতাক সরকার ১৯৭৫ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর। জিয়াউর রহমান দালাল আইন অধ্যাদেশ বাতিল করেননি। ১৯৭৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর দালাল আইন বাতিল করেছেন তত্কালীন রাষ্ট্রপতি ও প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম’।  জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রের ক্ষমতা নিতে চাইলে এতদিন অপেক্ষা করার দরকার ছিল না বলেও মন্তব্য করেন এই বিএনপি নেতা।
বাবা সম্পর্কে তারেক বলেন, জিয়াউর রহমান ছাত্রাবস্থা থেকেই বাংলা ও বাংলাদেশি বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের চেতনা লালন করেছেন।
১৯৭২ সালে প্রকাশিত ‘একটি জাতির জন্ম’ শিরোনামে শহীদ জিয়ার একটি লেখার উদ্বৃতি দেন তারেক রহমান। নিবন্ধে জিয়াউর রহমান লিখেছিলেন— ‘স্কুল জীবন থেকেই পাকিস্তানিদের দৃষ্টিভঙ্গির অস্বচ্ছতা আমার মনকে পীড়া দিত। আমি জানতাম, অন্তর দিয়ে ওরা আমাদের ঘৃণা করে। বাঙালিদের বিরুদ্ধে একটা ঘৃণার বীজ উপ্ত করে দেয়া হতো স্কুলছাত্রদের শিশু মনেই। সেই স্কুল জীবন থেকেই মনে মনে আমার একটা আকাঙ্ক্ষাই লালিত হতো, যদি কখনও দিন আসে, তাহলে এই পাকিস্তানবাদের অস্তিত্বেই আমি আঘাত হানব। পাকিস্তানি পশুদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরার আকাঙ্ক্ষা দুর্বার হয়ে উঠত মাঝে মধ্যেই।  কামনা জাগত পাকিস্তানের ভিত্তি ভূমিটাকে তছনছ করে দিতে; কিন্তু উপযুক্ত সময় আর উপযুক্ত স্থানের অপেক্ষায় দমন করতাম সেই আকাঙ্ক্ষা’।
সভার শুরুতে জাতীয় সংগীত ও এরপর দলীয় সংগীত পরিবেশন করেন ইউকে জাতীয়তাবাদী সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংস্থা জাসাস। অনুষ্ঠানে বিএনপির প্রতিষ্ঠা থেকে এ পর্যন্ত দলের সার্বিক চিত্র তুলে ধরে তারেক রহমানের শিক্ষা ও গবেষণাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন নির্মিত ‘লং ওয়াক টু ডেমোক্রেসি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট’ শীর্ষক একটি ডকুমেন্টারি প্রদর্শিত হয়।  প্রায় সোয়া ঘণ্টার বক্তৃতার এক পর্যায়ে তারেক রহমান বলেন, জিয়া বিশ্বাস করতেন, কোনো রাজনৈতিক আদর্শ ধর্মকে ভিত্তি করে হতে পারে না। এর একটা অবদান থাকতে পারে; কিন্তু ধর্মকে কেন্দ্র করে কখনোই রাজনীতি করা যেতে পারে না। ধর্মকে কেন্দ্র করে পাকিস্তান সময়ে যখনই রাজনীতি করা হয়েছিল সেটি বিফল হয়েছে। ধর্মের অবদান থাকতে পারে রাজনীতিতে; কিন্তু রাজনৈতিক দল ধর্মকে কেন্দ্র করে হতে পারে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সভায় আরও বক্তৃতা করেন— বিএনপির মানবাধিকারবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার নাসিরুদ্দিন আহমেদ অসীম, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মাহিদুর রহমান, নির্বাহী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার নওশাদ জমীর, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সহকারী সেক্রেটারি ব্যারিস্টার মীর হেলাল, যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক এমএ মালেক, সাবেক সেক্রেটারি ব্যারিস্টার এমএ সালাম এবং আব্দুল হামিদ চৌধুরীসহ অনেকে।
(সেপ্টেম্বর ০২, ২০১৪)