Space For Rent

Space For Rent
মঙ্গলবার, ০২ সেপ্টেম্বর, ২০১৪
প্রচ্ছদ » জাতীয়
  দেখেছেন :   আপলোড তারিখ : 2014-09-02
সন্ত্রাস মোকাবিলায় সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান
বর্তমান প্রতিবেদক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বহুমাত্রিক সন্ত্রাস ও নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলায় এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মধ্যে সুসমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তিনি সন্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বিশ্ব আজ যে বহুমাত্রিক সন্ত্রাসী হুমকির সম্মুখীন, তা কোনো দেশের পক্ষে এককভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। এদেরকে মোকাবিলার জন্য সবাইকে সম্মিলিতভাবে একে অন্যের সহযোগিতা ও সমন্বয় করে কাজ করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মঙ্গলবার সকালে হোটেল রেডিসনে এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের গোয়েন্দা প্রধানদের ৭ম সম্মেলন (এপিআইসিসি) উদ্বোধনকালে এ কথা বলেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্যাসিফিক কমান্ড এবং বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর যৌথভাবে এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের গোয়েন্দা প্রধানদের এ  সম্মেলন আয়োজন করে। পাঁচদিনের এ সম্মেলনে ২৭টি দেশের গোয়েন্দা প্রধানরা অংশ নিচ্ছেন। এ সম্মেলনের সফলতা প্রত্যাশা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি আশা করি, এই সম্মেলনের মাধ্যমে আপনাদের পরস্পরের মধ্যে বিদ্যমান দেয়ালগুলো ভেঙে যাবে। আপনাদের মধ্যে দূরত্ব কমে যাবে এবং বোঝাপড়া বৃদ্ধি পাবে।
সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সন্ত্রাসীরা তাদের টিকে থাকার জন্য সবসময়ই উদ্ভাবনী শক্তিতে খুবই তত্পর। যখনই তাদের কোনো একটা কর্মকৌশল উদ্ঘাটিত হয়, সঙ্গে সঙ্গে তারা নতুন কৌশলের উদ্ভাবন ঘটায়। সুতরাং এটি সত্যিই একটি চ্যালেঞ্জিং মিশন। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে এ ধরনের সম্মেলন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ব বর্তমানে একটি ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। দেশে দেশে উগ্র জঙ্গিগোষ্ঠীর উত্থান ঘটছে। এসব জঙ্গিগোষ্ঠী সাধারণ মানুষের জানমালের পাশাপাশি বিশ্বশান্তির জন্য হুমকিস্বরূপ। বিশ্বশান্তি বজায় রাখার ক্ষেত্রে এই উগ্র জঙ্গিগোষ্ঠীর মোকাবিলা আজ শান্তিকামী জনগণের জন্য এক বিরাট চ্যালেঞ্জ।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ভয়াবহ রক্তপাতের মধ্য দিয়ে জন্ম নেয়া বাংলাদেশের জনগণ সব সময়ই শান্তির পক্ষে। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোনো হুমকিই আমাকে সন্ত্রাস এবং সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে নেয়া অবস্থান থেকে সরাতে পারবে না। ২০০৯ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দেয়া ভাষণ উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, আমার বক্তৃতায় সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়ার যে প্রতিজ্ঞা আমি করেছিলাম, তাতে আমি আমৃত্যু অবিচল থাকব।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আমরা অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি সন্ত্রাসবাদ বিস্তারের পিছনে রয়েছে রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা। বাংলাদেশের মাটি যাতে কোনো বিদেশি উগ্রবাদের চারণভূমি হতে না পারে, সেজন্য আমরা কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছি। সন্ত্রাস দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধির তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে যেন মানবাধিকার অক্ষুণ্ন থাকে তার জন্য কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছি।
সম্মেলনে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা এবং ২০০৪ সালের ২১ আগস্টের ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। ২০০৯ সালে জঙ্গি দমন ও প্রতিরোধ সংক্রান্ত ১৭ সদস্য বিশিষ্ট জাতীয় কমিটি গঠন এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে নিষিদ্ধ ঘোষিত সব সন্ত্রাসী দলকে বাংলাদেশে নিষিদ্ধ ঘোষণা করার কথাও বলেন তিনি। পাশাপাশি ২০০৯ সালে সন্ত্রাসবিরোধী আইন এবং ২০১২ সালে সন্ত্রাসবাদ বিস্তারে অর্থের জোগান বন্ধে অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইন প্রণয়নের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় তিনি জানান, সন্ত্রাস এবং অপরাধ প্রতিরোধ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ভারত এবং অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে আলাদা আলাদাভাবে দ্বিপক্ষীয় কার্যক্রম চালু রয়েছে। শেখ হাসিনা বলেন, আমি সবসময়ই একটা কথা বলে থাকি— সন্ত্রাসীদের কোনো নির্দিষ্ট সীমানা নেই। এরা দেশের শত্রু, দেশের মানুষের শত্রু, বিশ্ব মানবতার শত্রু। এরা বিশ্বশান্তির পথে অন্তরায়।
সম্মেলনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্স এজেন্সিজের (ডিআইএ) পরিচালক ডগলাস এইচ ওয়াইজ এবং ডাইরেক্টরেট জেনারেল অব ফোর্সেস ইন্টিলিজেন্সের (ডিজিএফআই) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আকবর হোসেন বক্তব্য রাখেন। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, তিনবাহিনী প্রধান, ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতরা উপস্থিত ছিলেন।
(এইচআর/সেপ্টেম্বর ০২, ২০১৪)