Space For Rent

Space For Rent
মঙ্গলবার, ০২ সেপ্টেম্বর, ২০১৪
প্রচ্ছদ » জাতীয়
  দেখেছেন :   আপলোড তারিখ : 2014-09-02
ব্লু ইকোনমির জন্য সাগরে অংশীদার চায় বাংলাদেশ
কূটনৈতিক প্রতিবেদক : বাংলাদেশের সমুদ্রসম্পদ ব্যবস্থাপনার জন্য একটি মহাপরিকল্পনা তৈরির অংশ হিসেবে ঢাকায় আয়োজিত দুই দিনের ব্লু ইকোনমি কর্মশালা মঙ্গলবার শেষ হয়েছে। ঢাকায় আয়োজিত এই বিশেষজ্ঞ কর্মশালায় যোগ দিয়েছেন প্রায় ৩২ দেশের প্রতিনিধিরা। এতে সমুদ্রসম্পদ থেকে সর্বোচ্চ সুবিধা নিশ্চিতের মাধ্যমে টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যে ‘বঙ্গোপসাগর অংশীদারিত্ব’ প্রত্যাশা করছে বাংলাদেশ।
মঙ্গলবার সোনারগাঁও হোটেলে ‘ব্লু ইকোনমি’ নিয়ে ঢাকায় অনুষ্ঠিত কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী বলেন, ব্লু ইকোনমি অবশ্যই সমন্বিত ও জনমুখী হতে হবে। সমুদ্র অর্থনীতিতে অংশীজনদের মধ্যে বিভিন্ন মাত্রায় সহযোগিতার ভিত্তিতে অংশীদারিত্ব গড়তে হবে। এ ক্ষেত্রে সহযোগিতার একটি ধারণা তুলে ধরে তিনি বলেন, সম্পৃক্ততা, পারস্পরিক আস্থা, শ্রদ্ধা, পারস্পরিক লাভ ও তার সমান বণ্টনের সুনির্দিষ্ট কিছু বৈশ্বিক নীতির ওপর ভিত্তি করে তা হতে হবে। এ ছাড়া গবেষণা, পর্যবেক্ষণ, তদারকি এবং তথ্য-উপাত্তের বিনিময়ের ক্ষেত্রেও সহযোগিতার সম্পর্ক থাকতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আন্তর্জাতিক আদালতের রায়ে ভারত ও মায়ানমারের সঙ্গে সমুদ্রসীমা নির্ধারিত হওয়ায় বাংলাদেশ ১ লাখ ১৮ হাজার ৮১৩ বর্গকিলোমিটার সমুদ্র অঞ্চল, ২০০ নটিক্যাল মাইলের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং চট্টগ্রাম উপকূল থেকে ৩৫৪ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত মহীসোপানে অবস্থিত সব ধরনের প্রাণিজ ও অপ্রাণিজ সম্পদের ওপর সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার অধিকার পেয়েছে। এতে বঙ্গোপসাগর থেকে বিপুল সম্পদ আহরণের আশা তৈরি হয়েছে এবং তার ওপর জোর দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও। তবে সমুদ্রসম্পদের প্রাপ্যতা, উত্তোলন এবং ব্যবহার সম্পর্কে বাংলাদেশের পর্যাপ্ত দক্ষ জনবল এবং প্রযুক্তির অভাব রয়েছে।
কর্মশালায় আলোচনার ভিত্তিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, উপকূলীয় দেশগুলোর টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আসুন আমরা একযোগে ব্লু অর্থনীতির জন্য বঙ্গোপসাগর অংশীদারিত্ব নিয়ে এগিয়ে যাই। ঢাকা থেকে এই বার্তা নিয়ে যাওয়ার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
টেকসই উন্নয়ন বিশেষত ২০১৫ পরবর্তী উন্নয়ন লক্ষ্য নির্ধারণে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে ব্লু অর্থনীতি। এর আগে ছোট দ্বীপ দেশগুলো বিষয়টি নিয়ে নিজেদের ফোরামে আলোচনা করে। বিশেষজ্ঞদের ভাষায়, এটা মাছ ধরা নয়। এটা বলতে সমুদ্রসম্পদের ব্যবস্থাপনা কৌশল এবং তার সুফল পাওয়ার বিষয়টিকে বিবেচনায় নেয়া হয়।
গত দুই দিনে তিনটি বিশেষায়িত সেশনে আলোচনার পর গতকাল দুপুরে হয় সমাপনী সেশন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী সমাপনী বক্তব্যে অংশগ্রহণকারী সকলকে বাংলাদেশের সমুদ্রসম্পদ ব্যবস্থাপনায় সহায়তা করতে আহ্বান জানান। পররাষ্ট্রমন্ত্রী দুই দিনের কর্মশালার মূল বক্তব্য সংক্ষিপ্ত আকারে উপস্থাপন করেন। সমাপনী অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মেরিটাইম ইউনিটের সচিব খুরশেদ আলম প্রমুখ।
এর আগে মঙ্গলবার সকালে অস্ট্রেলিয়ার ড. ম্যাপ ভানডারক্লিফটের সমন্বয়ে অনুষ্ঠিত ‘সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের জন্য সমুদ্রসম্পদ’ শীর্ষক তৃতীয় সেশনে অংশ নেন বিশেষজ্ঞরা। এতে টেকসই সমুদ্র অর্থনীতি বিষয়ে বক্তব্য উপস্থাপন করেন দক্ষিণ কোরিয়ার অধ্যাপক ড. চানওয়াহ কিম, সমুদ্র অর্থনীতি বিষয়ে প্রেজেন্টেশন করেন ইউএনইপির আলবার্টো কাপেলা এবং টেকসই সমুদ্র অর্থনীতির বাজার বিষয়ে বক্তব্য রাখেন ইউএনডিপির জোসে পাদিলা। আলোচনায় অংশ নেন যুক্তরাষ্ট্রের জিম বিগাস, বাংলাদেশের ড. সুলতান আহমেদ ও জাহেদুর রহমান চৌধুরী, কোরিয়ার হুয়াং কে হুয়াং, কেনিয়ার নেলসন দিরাংগু ও ইরানের হাজি মোহাম্মদি।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে ‘ইন্টারন্যাশনাল ওয়ার্কশপ অন ব্লু ইকোনমি’ শীর্ষক এই কর্মশালায় বাংলাদেশ ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র, চীন, জাপান, কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, সুইডেন, নেদারল্যান্ডস, ওমান, থাইল্যান্ড, ফিলিপাইনস, ভারত, ইরান, কেনিয়া, তাঞ্জানিয়া, মরিশাস ও সিসেলের বিশেষজ্ঞ প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
(এইচআর/সেপ্টেম্বর ০২, ২০১৪)