Space For Rent

Space For Rent
মঙ্গলবার, ০২ সেপ্টেম্বর, ২০১৪
প্রচ্ছদ » গ্যালারি
  দেখেছেন :   আপলোড তারিখ : 2014-09-02
অনেক অর্জনের প্রস্তুতি ম্যাচ
ক্রীড়া প্রতিবেদক : প্রস্তুতি ম্যাচে জয়-পরাজয়ের চেয়েও মুখ্য থাকে খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত নৈপুণ্য ঝালিয়ে নেয়া। এই ব্যক্তিগত নৈপুণ্য প্রদর্শনের মাধ্যমে যদি ম্যাচের মীমাংসা হয়, তা হয় বোনাস। বাংলাদেশ ও সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিসের তিনদিনের প্রস্তুতি ম্যাচে বোনাস কেউ পায়নি। কিন্তু দুই দলের খেলোয়াড়দের ব্যাটিং-বোলিংয়ের প্রস্তুতি বেশ ভালোই হয়েছে। তিন ম্যাচের একদিনের সিরিজে চরম ব্যর্থতার আলোকে টেস্ট সিরিজ শুরু হওয়ার আগে প্রস্তুতি ম্যাচে ব্যাটিং-বোলিং দুই বিভাগেই খেলোয়াড়দের সাফল্য ছিল বাংলাদেশ দলের জন্য অনেক বড় প্রাপ্তি। প্রথম ইনিংসে সাত উইকেটে ৩৭৭ রান করে ইনিংস ঘোষণা করার পর দ্বিতীয় ইনিংসেও ছিল প্রথম ইনিংসের ধারাবাহিকতা ধরে রাখা। চার উইকেটে ১৪৮ রান করার পর খেলার সমাপ্তি ঘটে। অপরদিকে বোলারদের সাফল্যও ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রতিপক্ষ বাংলাদেশের চেয়ে ২২ রান বেশি করলেও তাদের ৩৯৯ রানে অলআউট করতে পেরেছেন তারা।
প্রস্তুতি ম্যাচে বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের যেমন অর্জন আছে  তেমনি আছে  সেন্ট কিটসের খেলোয়াড়দেরও। বাংলাদেশের মুশফিকুর রহীম ও নাসির হোসেনের সেঞ্চুরির জবাবে স্বাগতিক দলেরও দুজন সেঞ্চুরি করেছেন। জেফার্স ও চন্দরপল। জেফার্স দ্বিতীয় দিনই ১১৮ রান করে সাজঘরে ফিরে গেলেও অপর সেঞ্চুরিয়ান চন্দরপল সেঞ্চুরি তুলে নেন শেষ দিন। ৭০ রানে ব্যাট করতে নেমে চন্দরপল তার সে ইনিংসকে চুইংগামের মতো টেনে নিয়ে যান ১৮৩ রানে। আউট হন শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে রুবেল হোসেনের বলে শুভাগত হোমের হাতে ধরা পড়ে। তার ৪১২ মিনিট উইকেটে টিকে থেকে ৩১৫ বল খেণে দুই ছয় ও ২০ চারে সাজানো ইনিংসই টেস্ট সিরিজ শুরু হওয়ার আগে বাংলাদেশের জন্য অনেক বড় দুর্ভাবনার কারণ হয়ে উঠবে। তবে দুর্ভাবনা বা শঙ্কা যাই থাকুক অন্তত ৫ সেপ্টেম্বর সেন্ট ভিনসেন্টে শুরু হওয়া দুই টেস্টের সিরিজের প্রথম টেস্টে বাংলাদেশ দল জ্বালানি খুঁজে পাবে অনেক কিছু।
ঘরোয়া ক্রিকেটে দুর্দান্ত ভালো করা বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম আছেন অভিষেকের অপেক্ষায়। সেই তাইজুল দলপতি মুশফিকুর রহীমের ভরসার জায়গা হয়ে ওঠার মতো নৈপুণ্য দেখিয়েছেন। তিন উইকেট তুলে নিয়েছেন ১০৯ রানে। এই তিন উইকেট বা ১০৯ রানের চেয়েও বড় বিষয় হলো তাকে দিয়ে সবচেয়ে বেশি সময় বোলিং করানো। ৩১ ওভার বোলিং করেন এই স্পিনার। যেখানে অপর স্পিনার মাহমুদউল্লাহ করেন ১৯ ওভার। ৩৪ রান দিয়ে তিনি নেন এক উইকেট। তাইজুলের মতোই মুশফিকুর রহিমের ভরসা হওয়ার  মত বোলিং করেছেন অফস্পিনার শুভাগত হোম। ১৭ ওভারে ৪৮ রান দিয়ে নিয়েছেন তিন উইকেট। প্রথম ইনিংসে ৪৮ রান করার পর দ্বিতীয় ইনিংসে এক রানে অপরাজিত থাকেন। বলা যায় সাচ্চা অলরাউন্ডার। শুধু একদিনের ক্রিকেটে লাল-সবুজের পতাকার প্রতিনিধিত্ব করলেও টেস্ট ও টি-২০ ক্রিকেটে এখনও অভিষেক হয়নি। তাইজুলের মতো তিনিও আছেন টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেকের অপেক্ষায়। স্পিনারদের পাশাপাশি পেসার রুবেলও ঢুকে পড়েছেন তিন অঙ্কের নামতায়। তিন পেসারের মাঝে সবচেয়ে বেশি ২৫ ওভার বোলিং করে ৯০ রানে নিয়েছেন তিন উইকেট।
প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ যখন ১০০  ওভার বেশি  ব্যাটিং করে ইনিংস ঘোষণা করেছিল জবাবে সেন্ট কিটসের ব্যাটসম্যানরা একই রকম রানের স্রোতে বহমান থাকেন, তখনই ম্যাচের গতিপথ নির্ধারিত হয়ে গিয়েছিল। শেষ দিন স্বাগতিকদের  অলআউট করে দেয়ার পর পুরো একটি সেসন পড়ে থাকে। সেই সময়টা বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা বেশ ভালোভাবেই নিজেদের পরখ করে নিতে পেরেছেন। প্রথম ইনিংসে দুই ওপেনার শামসুর (১০) ও তামিম (২০) বড় ইনিংস খেলতে ব্যর্থ হলেও দ্বিতীয় ইনিংসে তাদের সে কাতারে ফেলা যাচ্ছে না। উদ্বোধনী জুুটিতে ৯৪ রান আসে অনেকটা একদিনের মেজাজ ২১ ওভারে। অন্যদের ব্যাটিং অনুশীলস করার সুযোগ দেয়ার জন্য তামিম ৪৩ ও শামসুর ৪৬ রান করে অবসর নেন। প্রথম ইনিংসে ৪৪ রান করা ইমরুল কায়েস এবার রান করতে ব্যর্থ হন নয় রানে আউট হয়ে। প্রথম ইনিংসে ২৭ রান করা মাহমুদউল্লাহ এবার ২৪ রান করে অপরাজিত থাকেন। ওপেনার হিসেবে তিনটি টেস্ট খেলা এনামুল বিজয়কে প্রথম টেস্টে  ছয় নম্বরে ব্যাট করতে দেখা যেতে পারে। তারই মহড়া হয়েছে দ্বিতীয় ইনিংসে। তবে নেমেছেন পাঁচ নম্বরে। রান করেন ১৫। প্রথম ইনিংসে তিনি ব্যাট করার সুযোগ পাননি।
(এইচআর/সেপ্টেম্বর ০২, ২০১৪)