Space For Rent

Space For Rent
মঙ্গলবার, ০২ সেপ্টেম্বর, ২০১৪
প্রচ্ছদ » বাণিজ্যে বসতি
  দেখেছেন :   আপলোড তারিখ : 2014-09-02
তোবা কারখানা খুলতে উকিল নোটিস
বর্তমান প্রতিবেদক : বন্ধ হওয়া তোবা কারখানা খুলতে উকিল নোটিস দিয়েছে সুপ্রিমকোর্ট। কারখানা বন্ধ সিদ্ধ না উল্লেখ করে নোটিসে বলা হয়েছে, কারখানার মালিক যে তারিখকে উল্লেখ করে কারখানা বন্ধের ঘোষণা করেছে তা শ্রমআইন অনুযায়ী সঠিক না। তাই কারখানা বন্ধের কারণ ও তা খুলে দেয়ার জন্য ৭ দিনের সময় দিয়ে উকিল নোটিস দেয়া হয়েছে বলে বিজিএমইএ সূত্রে জানা যায়।
বিজিএমইএ সূত্রে বলা হয়, সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী সেলিম আহজান খান তোবার মালিক দেলোয়ার হোসেনের কাছে ‘তোবা গার্মেন্টস বন্ধে’ কারণ দর্শানো নোটিস দিয়েছেন। নোটিসে বলা হয়, পাওনা আদায়ে শ্রমিকরা অবৈধ ধর্মঘট করেছেন, এমন অজুহাত দেখিয়ে উত্তর বাড্ডার তোবা গ্রুপের পাঁচ কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করেছেন মালিক, যা শ্রমআইন অনুযায়ী মানা হবে না। তোবা কারখানা বন্ধের তারিখ দেখানো হয় ১০ জুন। কিন্তু শ্রমিকরা ১৮ আগস্ট পর্যন্ত কারখানায় অবস্থান করেছে।
বিজিএমইএ সূত্রে আরও জানা যায়, শ্রম আইন ২০০৬-এর ১৩ (১) ধারা অনুযায়ী কারখানা বন্ধের এই ঘোষণা ১০ জুন থেকে কার্যকর হবে না, হবে ১৮ আগস্ট থেকে। আর সে ক্ষেত্রে মালিককে শ্রমিকদের সকল পাওনা পরিশোধসহ কারণ দর্শানো নোটিস দিতে হবে। 
এ বিষয়ে তোবা কারখানার মালিক দেলোয়ার হোসেন দৈনিক বর্তমানকে বলেন, কারখানা চালু করতে ও কারখানা বন্ধের কারণ জানতে চেয়ে সুপ্রিমকোর্ট থেকে নোটিস দেয়া হয়েছে। নোটিসে আমাদের ৭ দিন সময় দেয়া হয়েছে। আমরা নোটিসের বিরুদ্ধে আবেদন করব। সেক্ষেত্রে আমরা আরও কিছু সময় চাইব।
তিনি আরও বলেন, নোটিসে কারখানা বন্ধের তারিখ ১৮ তারিখ বলে উল্লেখ করা হয়। কিন্তু আমার কারখানা ১০ জুন থেকে বন্ধ অবস্থায় আছে। তাই কারখানা বন্ধ হলে সেই তারিখ থেকে বন্ধ হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
কোর্ট যে নোটিস পাঠিয়েছে তার যথাযথ উত্তর মালিককেই দিতে হবে উল্লেখ করে বিজিএমইএ সহসভাপতি রিয়াজ-বিন-মাহমুদ বলেন, কোর্ট থেকে মালিককে কারখানা বন্ধের কারণ দর্শানো নোটিস ও খোলার নোটিস দেয়া হয়েছে। এর যথাযথ সমাধান মালিককেই করতে হবে।
এদিকে বন্ধ হওয়া তোবা গ্রুপের সব কারখানা চালু করতে এবার ৩০ কোটি টাকা ঋণের দাবি তুলেছেন কোম্পানিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক দেলোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, আমি কারখান চালু করতে চাই। কিন্তু আমরা তোবা গার্মেন্টস পুড়ে যাওয়ার পর  ‘কর্নফুলী ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির কাছে ১৮ লাখ টাকা পাই কিন্তু তারা আমাদের সে টাকা দিতে অসম্মতি জানিয়ে একটি চিঠি দিয়েছে।
ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির চিঠি প্রসঙ্গে দেলোয়ার হোসেন বলেন, কর্নফুলীর সিনিয়র ম্যানেজার মো. ফখরুদ্দীন সেলিম তোবা কারখানা নাশকতার কারণে পুড়েছে, তাই এর ক্ষয়ক্ষতির কারণে বীমা কোম্পানি থেকে যে অর্থ দেয়ার কথা ছিল তা দেয়া হবে না বলে জানিয়ে একটি চিঠি দিয়েছে।
শ্রমিকদের কোনো ক্ষতিপূরণ না দিয়েই তোবার পাঁচ কারখানা বন্ধ করে দেয়ার বিষয়ে দেলোয়ার বলেন, কারখানা বন্ধ করা ছাড়া আমার কোনো রাস্তা নেই। আমি নিঃস্ব। আমার সব শেষ হয়ে গেছে। কোনো ব্যাংক, বীমা বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান যদি স্বল্প সুদে তাকে ২৫ থেকে ৩০ কোটি টাকা ঋণ দেয়, তবে আমি আবারও কারখানাগুলো সচল করতে পারব।
শ্রমিক আন্দোলনকে কারণ হিসেবে দেখিয়ে গত ১৮ আগস্ট তোবা গ্রুপের পাঁচটি কারখানা বন্ধ করে দেন দেলোয়ার। বন্ধ কারখানাগুলো হলো— তোবা টেক্সটাইল, তায়েব ডিজাইন, মিতা ডিজাইন, বুকশান গার্মেন্টস ও তোবা ফ্যাশনস। জামিনে মুক্তি পাওয়ার কৌশল হিসেবেই দেলোয়ার তিন মাসের বেতনভাতা আটকে রেখেছিলেন বলে তোবা শ্রমিকদের অভিযোগ।
বকেয়া বেতনভাতার দাবিতে রোজার ঈদের আগের দিন থেকে অনশনে থাকা তোবা গ্রুপ সংগ্রাম কমিটির সদস্যদের গত ৭ আগস্ট কারখানা থেকে পিটিয়ে বের করে দেয় পুলিশ। এরই মধ্যে বিজিএমইএর মধ্যস্থতায় শ্রমিকদের বকেয়া বেতন পরিশোধের ব্যবস্থা হয়। এর আগে শ্রমিকদের আন্দোলনের মধ্যেই বেতন দেয়ার অঙ্গীকার করে হাইকোর্ট থেকে জামিন পান দেলোয়ার। এ গ্রুপের কারখানা তাজরীন ফ্যাশন্সে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় করা এক মামলায় কারাগারে ছিলেন তিনি।
প্রসঙ্গত, তিন মাসের বকেয়া বেতনভাতার দাবিতে রোজার ঈদের আগের দিন থেকে অনশন চালিয়ে আসা তোবা গ্রুপ সংগ্রাম কমিটির সদস্যদের গত ৭ আগস্ট কারখানা থেকে পিটিয়ে বের করে দেয় পুলিশ। এরই মধ্যে বিজিএমইএর মধ্যস্থতায় শ্রমিকদের বকেয়া বেতন পরিশোধের ব্যবস্থা হয়; শেষে বিজিএমইএর মধ্যস্থতায় ৬ ও ৭ আগস্ট দুই মাস এবং ১০ আগস্ট এক মাসের বকেয়া মজুরি ও ওভারটাইমের টাকা পান শ্রমিকরা। বিজিএমইএর সভাপতি আশ্বাস দিয়েছেন, শীঘ্রই শ্রমিকেরা ঈদ বোনাস পাবেন।
(সেপ্টেম্বর ০২, ২০১৪)