Space For Rent

Space For Rent
বুধবার, ০৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৪
প্রচ্ছদ » সম্পাদকীয়
  দেখেছেন :   আপলোড তারিখ : 2014-09-03
সমুদ্রসম্পদের নতুন দিগন্ত
বাংলাদেশের মতো উদীয়মান অর্থনৈতিক শক্তির জন্য তার সমুদ্রসম্পদ যে বিশাল অবদান রাখতে পারে, সে কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শুধু স্মরণ করানো নয়, সমুদ্রসম্পদকে অর্থনীতির নিয়ামক হিসেবে ব্যবহারের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে হলে করণীয় কি, সে সম্পর্কেও প্রধানমন্ত্রী মন্তব্য করেছেন। এক্ষেত্রে যথাযথ পরিকল্পনা, উপযুক্ত জ্ঞান ও প্রযুক্তি ঘাটতির কথা স্বীকার করে প্রধানমন্ত্রী সেসব ঘাটতি পূরণে সরকারের সক্রিয় ভূমিকার কথাও বলেছেন। গত সোমবার রাজধানীর একটি পাঁচতারা হোটেলে ‘ইন্টারন্যাশনাল ওয়ার্কশপ: ব্লু-ইকোনমি’ শিরোনামে দুদিনব্যাপী অনুষ্ঠিত এক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেছেন। যুক্তরাষ্ট্র, সুইডেন, নেদারল্যান্ডস, চীন, জাপান, ভারত এবং স্বাগতিক বাংলাদেশসহ বিশ্বের ২০টি দেশ দুদিনব্যাপী এই আন্তর্জাতিক কর্মশালায় যোগ দেয়। আমাদের বিশাল সম্ভাবনাময় সমুদ্রসম্পদ আহরণে শিল্পোন্নত দেশগুলোর সহায়তায় এসব ক্ষেত্রে উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেছেন তিনি। সমুদ্রসম্পদ আহরণে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া গেলে যে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে উন্নয়নের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী কতগুলো গুরুত্বপূর্ণ দিক চিহ্নিত করে সেসব ক্ষেত্রে সমুদ্রসম্পদের প্রাপ্যতা ও উত্তোলন এবং ব্যবহার সম্পর্কে বাংলাদেশের পর্যাপ্ত দক্ষ জনবল ও প্রযুক্তির অভাবের কথা উল্লেখ করেছেন। একই সঙ্গে এসব অভাব পূরণে বর্তমান সরকার শিল্পোন্নত দেশগুলোর সহায়তা গ্রহণের কথাও বলেছেন। ‘ব্লু-ইকোনমি’ বা সমুদ্রসম্পদভিত্তিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের দিকটি এক দশক আগেও ছিল বাংলাদেশের মানুষের কাছে প্রায় অচেনা। কিন্তু বঙ্গোপসাগরের জলসীমা তথা সমুদ্রসীমা নিয়ে মায়ানমারের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বিরোধ আন্তর্জাতিক আদালতে নিরসনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের যে বিপুল বিজয়, সে বিজয়ই সমুদ্রসম্পদ বিষয়ে বাংলাদেশকে নতুন করে ভাবতে উদ্বুদ্ধ করেছে। এর বছর দুয়েকের মধ্যেই ভারতের সঙ্গে বিদ্যমান সমস্যাও যখন আন্তর্জাতিক আদালতে নিরসন হলো এবং বাংলাদেশ তার সমুদ্রসীমায় সার্বভৌম অধিকার ফিরে পেল, তখন সম্ভাবনার বিশালতা আরও প্রসারিত হয়েছে। এ প্রসঙ্গে এ তথ্যটুকু উল্লেখ অনিবার্য যে, ওই দুই দেশের সঙ্গে সমুদ্রসীমা-সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি হয়ে যাওয়ায় তিনটি দেশেরই সমুদ্রসীমানা নির্ধারিত হয়েছে। এতে বাংলাদেশ ১ লাখ ১৮ হাজার ৮১৩ বর্গকিলোমিটার সমুদ্র অঞ্চল, ২০০ নটিক্যাল মাইলের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং চট্টগ্রাম উপকূল থেকে ৩৫৪ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত মহীসোপানে অবস্থিত সব ধরনের প্রাণিজ ও অপ্রাণিজ সম্পদের ওপর সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার অধিকার পেয়েছে। এটি কম বড় অর্জন নয়। এ অবস্থায় আমাদের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন, গভীর সমুদ্রে মত্স্য আহরণ ও বঙ্গোপসাগরের তলদেশে মহামূল্যবান তেল-গ্যাসসহ নানান খনিজসম্পদ আহরণের জন্য উন্নত প্রযুক্তির আশ্রয় নেয়া। বর্তমান সমুদ্রসীমার অনেকখানিই এখন পর্যন্ত আমাদের আওতার বাইরে রয়েছে শুধু গভীর সমুদ্রগামী জলযান ও আধুনিক যন্ত্রপাতির অভাবে। এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর একটি মন্তব্য অত্যন্ত তাত্পর্যপূর্ণ তা হলো, যে দেশ সমুদ্রকে যত ব্যবহার করতে পেরেছে, সে দেশ তার অর্থনীতিকে তত এগিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর এ উক্তি শাশ্বত সত্য বলেই বিবেচিত হবে। সুতরাং দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের ৯০ শতাংশ আসে যে সমুদ্র পরিবহনে, সেই সম্পদসমৃদ্ধ সমুদ্রের সর্বোচ্চ সম্পদ আহরণ আজ অনিবার্য হয়ে পড়েছে।