Space For Rent

Space For Rent
বুধবার, ০৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৪
প্রচ্ছদ » ইসলাম
  দেখেছেন :   আপলোড তারিখ : 2014-09-03
হজে ব্যবহূত বিশেষ স্থান ও শব্দের পরিচয়
আল ফাতাহ মামুন : মিকতা: পবিত্র ভূমি মক্কাশরীফে প্রবেশের জন্য চতুর্দিকে নির্দিষ্ট দূরত্বে বিশেষ জায়গাকে সীমারেখা করে পোস্ট বা খুঁটি পুঁতে রাখা আছে। এদের মিকতা বলা হয়। হজ ও ওমরাহকারীদের এই স্থান অতিক্রম করার আগেই এহরাম বাঁধতে হবে এই উদ্দেশ্যে যে, তারা হজ ও ওমরাহ করার জন্য প্রস্তুত আছেন ও সঙ্কল্পবদ্ধ হয়েছেন।
 
এহরাম: এহরাম অর্থ কোনো বিষয়কে হারাম বা নিষিদ্ধ করা। সাধারণ পরিধেয় পোশাকের পরিবর্তে সাদা সেলাইবিহীন দুটি থান কাপড়ের একটি পরা ও অন্যটি কাঁধের ওপর ফেলে শরীরের ঊর্ধ্বাংশ ঢেকে নেয়াকে এহরাম বলা হয়।
তালাবিয়াহ: “লাব্বাইক, আলাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শরিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা ওয়ান নে’আমাতা লাকা ওয়াল মুলক, লা শারিকা লাকা লাব্বাইক।” এই শব্দসমষ্টি পাঠ করাকেই তালাবিয়াহ পাঠ বলে। পুরুষরা উচ্চ আওয়াজে  এবং মহিলারা নিম্ন আওয়াজে তালবিয়াহ পড়বে।
 
তাওয়াফ: তাওয়াফ অর্থ প্রদক্ষিণ করা। কাবাঘরের হাজরুল আসওয়াদের কোণ থেকে সর্বদা বাঁ হাত কাবাঘরের দিকে রেখে এই তাওয়াফ করতে হয়।

সায়ী: সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের মধ্যবর্তী স্থানে সাতবার দ্রুতপদে অতিক্রম করাকে সায়ী বলে। সায়ী অর্থ হাঁটা ও দৌড়ানোর মাঝামাঝি অবস্থায় দ্রুতপদে হেঁটে চলা। সাফা পাহাড় থেকে সায়ী শুরু করতে হয়। সাফা থেকে শুরু করে মারওয়া পৌঁছলে একবার সায়ী গণ্য হবে, আবার মারওয়া থেকে সাফায় এলে আর একবার গণ্য হবে। এভাবে মারওয়াতে গিয়ে সপ্তম সায়ী পূর্ণ হবে।

রমল: রমল শব্দের অর্থ হলো হাঁটা ও দৌড়ানোর মাঝামাঝি অবস্থায় বীরদর্পে চলা। যে সব তাওয়াফের পর সায়ী করতে হয়, সেই সব তাওয়াফের প্রথম চক্করে বীরবিক্রমে কাঁধ হেলিয়ে সজোরে ঘন ঘন পা ফেলে দ্রুত পদে চলাকে ‘রমল’ বলে।
মাকামে ইব্রাহিম: কাবাঘরের পূর্বদিকে হযরত ইব্রাহিমের আ. পদচিহ্নসংবলিত একটি পাথর কাঁচের বেড়ির মধ্যে রাখা আছে। এ পাথরের ওপর দাঁড়িয়ে হযরত ইব্রাহিম আ. কাবাঘর নির্মাণ করেছিলেন। এই রক্ষিত পাথরের আশপাশটাই মাকামে ইব্রাহিম নামে পরিচিত।
 
মীনা: মীনা বা মুনা আরবি শব্দ। মীনা অর্থ প্রবাহিত। এটি মক্কাশরীফ থেকে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে পাঁচ মাইল দূরের একটি প্রান্তর। এখানে সব হাজিকেই ৮ জিলহজ পৌঁছতে হয়। এখান থেকে ৯ জিলহজ আরাফাতের উদ্দেশে রওনা হতে হয়।
আরাফাত: মক্কাশরীফ থেকে পূর্বদিকে প্রায় ২২.৫৩ কিলোমিটার দূরে পর্বতবেষ্টিত এক বালুকাময় প্রান্তরের নাম আরাফাত। এখানেই ৯ জিলহজ যোহরের পরে অবস্থান করার মাধ্যমে হজের প্রথম ও প্রধান কাজ সম্পন্ন করা হয়। আরাফা আরবি শব্দ। আরাফা শব্দের অর্থ চিনতে পারা। বেহেশ্ত থেকে নিক্ষিপ্ত হওয়ার পর হযরত আদম ও হাওয়া আ. এখানেই পরস্পরকে চিনতে পেরেছিলেন।
 
উকুফে আরাফা: উকুফ অর্থ অবস্থান। আর উকুফে আরাফা অর্থ আরাফার মাঠে অবস্থান করা। ৯ জিলহজ যোহরের পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত আরাফার মাঠে অবস্থান করাকে উকুফে আরাফা বলে। এ এলাকার মধ্যে অবস্থান না করলে হজ হবে না। এটা হজের ফরজ কাজ।
 
মুজদালিফা: মীনা ও আরাফার মাঝখানের একটি জায়গায় নাম মুজদালিফা। আরাফা থেকে ফিরে এখানে রাত যাপন করতে হয়। হযরত আদম (আ.) ও বিবি হাওয়া আরাফাত থেকে ফিরে এখানে রাতবাস করেছিলেন বলে বর্ণনা পাওয়া যায়।
 
আইয়ামে তাশরিক: ৯ জিলহজ থেকে ১৩ জিলহজ পর্যন্ত দিনগুলোকে একত্রে আইয়ামে তাশরিক বা তাশরিকের দিন বলে।

দম: এহরাম অবস্থায় কোনো ত্রুটি-বিচ্যুতি বা নিষিদ্ধ কোনো কাজ করে ফেললে তার ক্ষতিপূরণস্বরূপ যে কোরবানি দেয়া ওয়াজিব হয়ে যায় তাকে ‘দম’ বলে।

(একে/সেপ্টেম্বর ০৩, ২০১৪)