Space For Rent

Space For Rent
বুধবার, ০৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৪
প্রচ্ছদ » চারুলতা
  দেখেছেন :   আপলোড তারিখ : 2014-09-03
নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুদের সহায়ক সংস্থা
রাজীব পাল রনী : ‘বিশ্বে যা-কিছু মহান সৃষ্টি চির কল্যাণকর/অর্ধেক তার করিয়াছে নারী অর্ধেক তার নর’ বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম নারী জাতির প্রাপ্য সম্পর্কে অনেক দিন আগে দৃপ্ত কণ্ঠে ঘোষণা করলেও আজও এ দেশের নারীসমাজ কোনো না কোনো সময় কোনো না কোনো ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়।

পারিবারিক নির্যাতনের বাইরে এদেশের নারীদের অহরহ পথেঘাটে-কর্মস্থলে নানা বিড়ম্বনা, নির্যাতন ও বৈষম্যের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। অ্যাসিড নিক্ষেপ, বাল্যবিয়ে, পাচার, ফতোয়া, যৌননির্যাতনসহ ধর্ষণ প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে।

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ২ হাজার ২০৮ নারী নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ৪৩১ জন ধর্ষণ এবং ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ৪৫ নারীকে। এছাড়া ধর্ষণ চেষ্টার শিকার হয়েছে আরও ৫১ জন।

যৌন হয়রানি আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় সাম্প্রতিককালে পরিবারকে লোকলজ্জার ভয় থেকে বাঁচতে আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছে অনেকে। কিন্তু অধিকাংশ ঘটনাই আলোচনার বাইরে থেকে যাচ্ছে। তাই নির্যাতিত নারীদের সমাজের বোঝা না মনে করে তাদের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিন।

নারীর সমান অধিকার নিশ্চিত করার যাবতীয় শুভ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে রাষ্ট্রকে। একজন নাগরিক হিসেবে দেশের সংবিধানেই নারীর অধিকার নিশ্চিতকরণের ঘোষণা দেয়া আছে। কিন্তু তারপরও নারীদের যুগ যুগ ধরে সেমিনারে, সিম্পোজিয়ামে, গণমাধ্যম-সামাজিক মাধ্যমে, রাজপথে এখনও নারীর অধিকার নিয়ে বক্তব্য রাখতে হয়, সংগ্রাম করতে হয়। প্রকৃত অর্থে মানুষ হিসেবে একজন নারীর এই অধিকার, মর্যাদার বিষয়টি ধর্মীয়ভাবেও স্বীকৃতি দেয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে।

বাংলাদেশের জনসংখ্যার অর্ধেক নারী হলেও তারাই কেন পদে পদে নিগৃহীত হবেন? সন্ত্রাসের শিকার হবেন?

ইভটিজিংয়ের শ্লীলতা ও সম্ভ্রমহানির শিকার হবেন? শিকার হয়ে আইনের আশ্রয় নিলে পরবর্তীতে নিপীড়ন, হুমকির মাত্রা যাবে বেড়ে। এই যে অমানবিক আচরণ একজন মেয়ের প্রতি, একজন নারীর প্রতি—এর প্রভাব স্বাভাবিকভাবেই পড়ে পরিবারটির ওপর। পরিবারের সদস্যদের ওপর। মানসিক, সামাজিকভাবে তাদের অবস্থান তখন কোথায় যে গিয়ে দাঁড়ায় তা শুধুই ভুক্তভোগীরা মর্মে মর্মে অনুভব করতে পারবেন, অন্য কেউ নয়। অ্যাসিড সন্ত্রাস, যৌতুকের জন্য নির্যাতন, নিপীড়ন যেন এক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে।
 
নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুদের আইনগত অধিকার রক্ষায় দেশজুড়ে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে তাদের সর্বোত্তম সেবা দিয়ে যাচ্ছে। নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুদের জন্য বেশ কয়েকটি সহায়ক সংস্থা নাম ও ঠিকানা তুলে ধরা হলো। নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ ন্যাশনাল হেল্পলাইন সেন্টার, বিশেষ সহায়তা প্যাকেজ (আইনি, আশ্রয়, কাউন্সেলিং), হেল্পলাইন নম্বর-১০৯২১, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার।

বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতি, বাড়ি নং-৪৮/৩, পশ্চিম আগারগাঁও, ঢাকা। মনিকো মিনা টাওয়ার (২য় তলা), শেরেবাংলা নগর, ঢাকা-১২০৭। ফোন: ৯১৩৮৪৫৬, ৯১৪৩২৯৩, হটলাইন: ০১৭১১৮০০৪০১।
বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা, ৪ কলেজ রোড, শাহবাগ ঢাকা-১০০০। ফোন: ৯৫৬৮২২৪, হটলাইন: ০১৭১৬০২০৫০২।
 
অ্যাসিড সারভাইভার্স ফাউন্ডেশন, (এএসএফ) (অ্যাসিড আক্রমণের শিকার ব্যক্তিদের জন্য), বাড়ি নং-১২, সড়ক-২২, ব্লক-কে, বনানী মডেল টাউন, ঢাকা। ফোন: ৯৮৬২৭৭৪, ৯৮৮০১৪২।

অ্যাসিসট্যান্স ফর স্লাম ডুয়েলার্স (এএসডি), হ্যাপি হোম, বাড়ি-১৪৩, রোড-৫, মোহাম্মদিয়া হাউজিং সোসাইটি, মোহাম্মদপুর, ঢাকা, ফোন : ০১৭৪০৫৭৩২২০, ০১৭১৬৯২৬০২৯, ০১৭২৩৪৬৬১২৬।
 
মহিলা সহায়তা কর্মসূচি, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, ৩৭/৩ ইস্কাটন গার্ডেন রোড, ঢাকা। ফোন: ৯৩৫০৩৯১, ৯৩৬১৪৯২।
 
বাংলাদেশ মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নারী ও শিশু  নির্যাতন প্রতিরোধ সেল। হটলাইন: ০১৭৩০৪৪৩০৫৪, (শিশুদের জন্য) ০১৭৩০৪৪৩০৫২ (নারীদের জন্য)।

ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার (ওসিসি), ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল (জরুরি বিভাগ সংলগ্ন)। ফোন: ৯৬৬৪৬৯৯।
আইন ও সালিশ কেন্দ্র, ৭/১৭, ব্লক- বি, লালমাটিয়া, ঢাকা-১২০৭, ফোন: ৮১২৬১৩৪, ৮১২৬০৪৭।
 
আশ্রয়কেন্দ্র, ঢাকা আহছানিয়া মিশন শেল্টার হোম (পাচার এবং পারিবারিক নির্যাতনের শিকার)।
বেকুটিয়া বাজার, বেকুটিয়া, যশোর। ফোন: ০১৭২৬৮২৮৭৭৩।

অ্যাকশন অন ডিসএবল অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (এডিডি), প্রতিবন্ধীদের জন্য সহায়তা, বাড়ি : ৫৬, রোড-১১, ব্লক- সি, বনানী, ঢাকা। ফোন: ৯৮৬২৫৫৪।

শিশুপল্লী প্লাস, (বাচ্চাসহ মায়ের আশ্রয়কেন্দ্র), বাসা-২০, রোড-১৭ নিকুঞ্জ-২, ঢাকা-১২২৯। ফোন: ৮৯৫৩৩০৮।
ফ্যামিলি ফর চিলড্রেন, বাড়ি-১, রোড-১০, সেকশন-৯, উত্তরা, ঢাকা। ফোন: ৮৯১৮১৯৭, ৮৯১৮১৯৮।

(একে/সেপ্টেম্বর ০৩, ২০১৪)