Space For Rent

Space For Rent
বুধবার, ০৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৪
প্রচ্ছদ » জাতীয়
  দেখেছেন :   আপলোড তারিখ : 2014-09-03
দেশের আর্থিক খাত স্থিতিশীল
বর্তমান প্রতিবেদক : নানা প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও গত বছরে ব্যাংকিং খাতে ৩৭ হাজার কোটি টাকা মূলধন এসেছে। এ তথ্য জানিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান বলেছেন, বর্তমানে দেশের আর্থিক খাত বেশ স্থিতিশীল রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের জাহাঙ্গীর আলম কনফারেন্স হলে বুধবার দুপুরে ‘ফিন্যান্সসিয়াল স্ট্যাবিলিটি রিপোর্ট ২০১৩’-এর মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে গভর্নর এ কথা বলেন।
গভর্নর ড. আতিউর বলেন, বর্তমানে দেশের আর্থিক খাত বেশ স্থিতিশীল। গেল বছর রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে আমাদের পণ্য পরিবহনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা নিতে হয়েছে। সেই পরিস্থিতি থেকে আমাদের উত্তরণ ঘটেছে।
গভর্নর বলেন, আমরা স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণে সুপারভিশনের কাজটা নিয়মিতই করছি। আমাদের কাছে খবর আছে— কিছু ব্যাংক তাদের আলোচ্যসূচি অনুযায়ী এক্সিকিউটিভ কমিটিতে আলোচনা করে না। তিনি বলেন, যত শক্তিশালী কিংবা আমার যত কাছেরই হোন না কেন, কেউ নিয়ম ভাঙলে কঠোর অবস্থানে যেতে বাধ্য হব।
গভর্নর বলেন, ব্যাংকিং খাতের ঝুঁকিভিত্তিক মূলধন পর্যাপ্ততা অনুপাত নিশ্চিত করতে ব্যাসেল-৩ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে একটি রোডম্যাপ প্রণয়ণ করা হয়েছে এবং এর খসড়া কাঠামোর ওপর সবার মতামত চাওয়া হয়েছে। খুব শীঘ্রই ব্যাসেল-৩ সংক্রান্ত গাইডলাইন্স জারি করা হবে। নতুন এ কাঠামো প্রাথমিকভাবে ব্যাংকগুলোকে কিছুটা চ্যালেঞ্জের মধ্যে ফেললেও ক্রমান্বয়ে তা ব্যাংকিং খাত ও সমগ্র অর্থনীতির জন্য সুফল বয়ে আনবে।
যুক্তরাজ্যের ‘গ্যালপের’ এক জরিপের বরাত দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর ড. আতিউর রহমান বলেন, বাংলাদেশে ৮৪ শতাংশ গ্রাহকের ব্যাংকিং খাতের ওপর আস্থা রয়েছে, যেখানে পার্শ্ববর্তী ভারতে ব্যাংকিং খাতে আস্থাশীল গ্রাহক ৭৭ শতাংশ।
অনুষ্ঠানে ব্যাংকারদের সতর্ক করে গভর্নর বলেন,  দু-একটি ব্যাংকে সমস্যা নেই এমন নয়, সমস্যা আছে। যেসব ব্যাংকে সুশাসনের ঘাটিত রয়েছে, রিস্ক ঋণ প্রদান করা হয়, তা মনিটরিং করা হচ্ছে।  
অর্থনীতির অগ্রযাত্রা অব্যাহত রয়েছে উল্লেখ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক গভর্নর আরও বলেন, ২০১৩ সালের অধিকাংশ সময় জুড়ে বাংলাদেশের আর্থিক ব্যবস্থা সার্বিকভাবে সুষ্ঠু ও অভিঘাত সহনীয় ছিল। মোট দেশজ উত্পাদনে ব্যাংকিং খাতের অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য। আর্থিক সক্ষমতার সূচকগুলোতে ছিল ঊর্ধ্বমুখী ধারা। পুঁজিবাজারে কিছুটা ওঠা-নামা থাকলেও তাকে সচল রাখা এবং তার ওপর জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রণোদনা প্রদান অব্যাহত ছিল।
অন্যদিকে বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও আর্থিক খাত দৃঢ় ভিত্তির ওপর দাঁড়াতে সক্ষম হয়েছে। বিশ্বের নামকরা রেটিং এজেন্সিগুলো (এসএন্ডপি ও মুডি’স) গত চার বছর ধরে এ স্থিতিশীল অবস্থানের স্বীকৃতি দিয়ে যাচ্ছে।
অনুষ্ঠানে গভর্নর আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে এসময় ডেপুটি গভর্নর সীতাংশু কুমার সুর চৌধুরী, নাজনীন সুলতানা, নির্বাহী পরিচালক ম. মাহফুজুর রহমান, মোহাম্মদ নওশাদ আলী চৌধুরী, আহমেদ জামাল, নির্মল কুমার ভক্ত, অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. মো. আখতারুজ্জামান, বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং সুপারভিশন অ্যাডভাইজার গ্লেন টাস্কি, ফাইন্যান্সিয়াল স্ট্যাবিলিটি ডিপার্টমেন্টের মহাব্যবস্থাপক দেবাশিস চক্রবর্তী, ডিপার্টমেন্ট অব সাইট সুপারভিশনের মহাব্যবস্থাপক এস. এম. রবিউল হাসান, ডিপোজিট ইন্স্যুরেন্স ডিপার্টমেন্টের মহাব্যবস্থাপক খগেশ চন্দ্র দেবনাথ, ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগের মহাব্যবস্থাপক মো. নাসিরুজ্জামানসহ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী ও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
(সেপ্টেম্বর ০৩, ২০১৪)