Space For Rent

Space For Rent
বুধবার, ০৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৪
প্রচ্ছদ » জাতীয়
  দেখেছেন :   আপলোড তারিখ : 2014-09-03
বন্যার্তদের মানবেতর জীবন
বর্তমান ডেস্ক : দেশের ১৭ জেলায় এবারের বন্যায় ২০ লাখেরও বেশি মানুষ পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। সরকারের সামান্য ত্রাণের বাইরে রাজনৈতিক-সামাজিক কোনো সংগঠন এবং ব্যবসায়ী-শিল্পপতি বা কোনো এনজিও বানভাসি মানুষের সাহায্যে এগিয়ে আসছে না। এদিকে বগুড়া, টাঙ্গাইলসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে এখনও বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। দু’দিন ধরে কয়েকটি নদীর পানি কমলেও এখনও বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইছে। ভেসে যাচ্ছে রাস্তাঘাট, ফসলি জমি, তলিয়ে যাচ্ছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বেশিরভাগ বন্যাকবলিত এলাকায় খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও ওষুধের তীব্র অভাব দেখা দিয়েছে।  আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর:
শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি জানান, বাঙালি ও করতোয়া নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় নতুন করে ৪টি ইউনিয়নের অন্তত ৫০ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে প্রায় ১৫ হাজারের মত পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। কোন কোন এলাকার লোকজন ইতিমধ্যেই বাস্তুহারা হয়েছেন। বন্যার পানিতে প্রায় দেড় হাজার হেক্টর জমির ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। রাস্তা-ঘাটের পাশাপাশি এসব এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো পানিতে তলিয়ে গেছে। ফলে শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মক বিঘ্নিত হচ্ছে।
ধুনটের আড়কাটিয়া আশ্রয়ণ পল্লী প্লাবিত হয়েছে। ফলে বন্যার্তরা ওই পল্লী ছেড়ে বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান বলেন, উপজেলার প্রায় ১৭০টি গ্রাম বন্যাকবলিত হয়েছে। পানিবন্দি মানুষগুলোর দুর্ভোগের চিত্র প্রায় একই। এজন্য গুচ্ছগ্রামের পরিবারগুলোর জন্য আলাদা করে কিছু করার নেই।
গাইবান্ধা প্রতিনিধি জানান, গাইবান্ধায় সবগুলো নদ-নদীর পানি বিপদসীমার নিচে নেমে যাওয়ায় সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির ক্রমেই উন্নতি হচ্ছে। যারা অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছিল, তাদের অনেকেই ঘরে ফিরে গেছে। তবে চরাঞ্চলের নিচু এলাকাগুলো এখনও ডুবে থাকায় সেসব এলাকার লোকজন এখনও ঘরে ফেরেনি। তাছাড়া ঘরে খাবার না থাকায় কর্মহীন মানুষরা  বিপাকে পড়েছে। বন্যাকবলিত এলাকায় রাস্তা-ঘাট এখনও জেগে ওঠেনি। ফলে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত অবস্থায় রয়েছে। উপদ্রুত এলাকায় ডায়রিয়াসহ পানিবাহিত রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।
কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, বন্যায় সুন্দরগঞ্জ, সাঘাটা, ফুলছড়ি ও সদর উপজেলার ৩০টি ইউনিয়নে ৩৬ হাজার কৃষকের ৩ হাজার ৪২৯ হেক্টর ফসলি জমি বিনষ্ট হয়েছে।
সরিষাবাড়ী (জামালপুর) প্রতিনিধি জানান, সরিষাবাড়ীতে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও বানভাসি মানুষের দুর্ভোগ কমেনি। স্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টি ও ঘরবাড়ি থেকে পানি সরে না যাওয়ায় বানভাসি মানুষের দুর্ভোগ আরো বেড়েছে। ৪২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাঠদান বন্ধ রয়েছে। প্রায় সাড়ে ৩ হাজার হেক্টর জমির ফসল বিনষ্ট।
জানা যায়, গত ২ সপ্তাহে যমুনা ও ব্রহ্মপুত্র নদের পানি অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় ঝিনাই ও সুবর্ণখালী নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এতে উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার অধিকাংশ এলাকা প্লাবিত হয়। এতে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার হেক্টর ফসলি জমি তলিয়ে যায়। এছাড়া প্রায় ৫ লক্ষাধিক টাকার পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। শ্রেণি কক্ষে বন্যার পানি প্রবেশ করায় প্রায় অর্ধ শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধ হয়ে পড়ে। এছাড়া পানির তোড়ে প্রায় ৪০ কি.মি কাঁচা পাকা সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। স্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টি ও বন্যার পানি সরে না যাওয়ায় প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের ৪২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধ রয়েছে।
মাদারীপুর প্রতিনিধি জানান, পদ্মা ও আড়িয়াল খাঁ নদে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় ভয়াবহ ভাঙনে শিবচরের ৫টি ইউনিয়ন বিপর্যস্ত হলেও পর্যাপ্ত ত্রাণ তত্পরতা না থাকায় ভাঙন এলাকায় হাহাকার ও তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
সরেজমিনে চরাঞ্চলসহ নদী ভাঙনকবলিত এলাকা ঘুরে দেখা যায়, পদ্মা নদীর বিপদসীমার ৩২ সেমি. উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়ে শিবচরের চরজানাজাতে নদীভাঙন ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করে প্রায় ৮ শতাধিক ঘর বাড়ি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।
আড়িয়াল খাঁ নদের ভাঙনে সন্ন্যাসীরচর ইউনিয়নে শতাধিক ঘর বাড়ি, বহেরাতলা ইউনিয়নের ১টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও চরজানাজাত ইউনিয়নের এমএস দাখিল মাদ্রাসাসহ অর্ধ শতাধিক ঘরবাড়ি, ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক নদী রক্ষা বাঁধের ৩শ মিটারসহ ৫০টি ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
এদিকে পদ্মার আকস্মিক ভাঙনে বিলীন হয়ে যাওয়া রো-রো ফেরিঘাটের র্যামের উদ্ধার কাজ চলছে। বিআইডব্লিউটিএর উদ্ধারকারী জাহাজ রুস্তম সোমবার রাতে মাওয়া ঘাটে এনে নোঙর করে রাখা হয়েছিল। মঙ্গলবার সকাল থেকে বুধবার দুপুর পর্যন্ত রো-রো ফেরিঘাটের ডুবে যাওয়া র্যামের উদ্ধার তত্পরতা অব্যাহত রেখেছে উদ্ধারকারী জাহাজ রুস্তম। টানা ১৫ দিন ধরে মাওয়া-কাওড়াকান্দি নৌরুটে ফেরি চলাচল ব্যাহত হওয়ায় দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার হাজার হাজার যাত্রীদের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে।