Space For Rent

Space For Rent
বৃহস্পতিবার, ০৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৪
প্রচ্ছদ » সম্পাদকীয়
  দেখেছেন :   আপলোড তারিখ : 2014-09-04
মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে প্রতারণা নয়
প্রতিটি জাতিরই কিছু কিছু গৌরবের বিষয় থাকে, যার সঙ্গে কোনো কিছুরই তুলনা হয় না। ১৯৭১-এ সংঘটিত আমাদের মুক্তিযুদ্ধ তেমনই এক অতুলনীয় গৌরবের বিষয়। একাত্তরে বঙ্গবন্ধুর উদাত্ত আহ্বানে যারা মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন, তারাও জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান মুক্তিযোদ্ধা। আজও আমরা তাদের জন্য গর্বিত। তাদের শ্রদ্ধা করি, সমীহ করি। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধার পরিচয় দিয়ে যখন কেউ ইতিহাসের সঙ্গে প্রতারণা করেন, তখন মুক্তিযুদ্ধের অনন্য গৌরবই শুধু ম্লান হয় না, ম্লান হয় মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানও। যারা ওই যুদ্ধে শহীদ হয়েছেন, বাংলাদেশ অনন্তকাল তাদের পরম শ্রদ্ধায় স্মরণ করবে। যারা বেঁচে আছেন, তারাও শ্রেষ্ঠ সন্তান হিসেবে বরেণ্য। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক সত্য এই যে, জাতির এই শ্রেষ্ঠ সন্তানদের মর্যাদা ও মহিমা কতিপয় স্বার্থান্বেষীর লোভ-মোহের কারণে আজ ভূলুণ্ঠিত। মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগ সব সময়ই মুক্তিযোদ্ধাবান্ধব সরকার। চাকরিক্ষেত্রে প্রবেশের বয়সসীমা কিছুটা শিথিল করে মুক্তিযোদ্ধাদের সুবিধাও প্রদান করেছে। মুক্তিযোদ্ধাদের সবারই আবার চাকরির মেয়াদ দু’বছর বাড়িয়ে সুবিধা ও সম্মান দিয়েছে। তাদের সন্তান ও স্বজনদের জন্য সরকারি চাকরিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কোটা সংরক্ষণের ব্যবস্থাও করে মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দেয়া দল আওয়ামী লীগের সরকার। তাতে মুক্তিযোদ্ধা এবং তাদের সন্তানরা কিছুটা হলেও উপকৃত হয়েছেন। চাকরিরত মুক্তিযোদ্ধারা দু’বছর বেশি চাকরির সুযোগও পেয়েছেন। এই সুযোগ গ্রহণের জন্য যখন কোনো ব্যক্তি মিথ্যা সার্টিফিকেট সংগ্রহ করে মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় দেন, তখন দেশবাসী সে খবর জেনে লজ্জিত হন। কারণ, মুক্তিযুদ্ধ এমন এক মহত্তম বিষয়, যা নিয়ে প্রতারণা করলে আমাদের জাতীয় গৌরবকেই অপমান করা হয়। এ প্রসঙ্গে উল্লেখ করতে হয় যে, গত কয়েক মাস ধরে সংবাদ মাধ্যমে একটি খবর তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। তা হলো, সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাসহ অনেকের ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ ধরা পড়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনসহ একাধিক সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানকে সরকার নির্দেশ দিয়েছে। এমনকি সরকারের ৫ সচিবের মুক্তিযোদ্ধা সনদ যে ভুয়া, সে তথ্য উদ্ঘাটন করে তা বাতিলের পাশাপাশি বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে সুপারিশ করেছে। মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ না করেও তারা মুক্তিযোদ্ধা সনদ নিলেন কেমন করে, সেটাই বিস্ময়কর প্রশ্ন। এমনকি যে মন্ত্রণালয় মুক্তিযোদ্ধা সনদ দিয়ে থাকে, সেই মন্ত্রণালয়ের একজন সচিব (বর্তমান ওএসডি) ও একজন যুগ্ম সচিব পর্যন্ত মুক্তিযোদ্ধা না হয়েও সনদ গ্রহণ করেছেন! দুর্ভাগ্যজনক বললেও সবটুকু বলা হয় না। কারণ যাদের মুক্তিযুদ্ধ করার মতো বয়সও ছিল না এবং যুদ্ধে অংশগ্রহণের সপক্ষে কোনো দালিলিক প্রমাণও দেখাতে পারেননি— তাদের মুক্তিযোদ্ধার গেজেট থেকে নাম বাদ দেয়া, সনদ বাতিল করা আর চাকরির বাড়তি দু’বছরের সুযোগ বাতিল করাই কি যথেষ্ট হবে? সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তা হয়ে তারা যদি মিথ্যা তথ্য দিয়ে অসদাচরণের মতো কাজ করেন, বিশেষত মুক্তিযুদ্ধের গৌরব নিয়ে প্রতারণা করেন, তাহলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়াই সমীচীন। কারণ, আইন সবার জন্য সমান।