Space For Rent

Space For Rent
শুক্রবার, ০৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৪
প্রচ্ছদ » সম্পাদকীয়
  দেখেছেন :   আপলোড তারিখ : 2014-09-05
সম্প্রচারনীতি ও দায়িত্বশীলতা
জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালা-২০১৪ নিয়ে দেশে সাম্প্রতিককালে যথেষ্ট আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে। এমন অনেক আলোচনাও শোনা যায় টিভি এবং গোলটেবিল বৈঠকে, যা সব সময় প্রাসঙ্গিক নয়। যেমন সংবাদপত্র-সংশ্লিষ্টরাও অনেকে সম্প্রচার নীতিমালোর তীব্র সমালোচনা করে এই নীতিমালা প্রত্যাখ্যানের কথা বলছেন। পক্ষান্তরে জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালার মূল্য লক্ষ্য হচ্ছে, দেশের ইলেকট্রনিক গণমাধ্যম তথা সরকরি-বেসরকারি ও টেলিভিশন চ্যানেল পরিচালনার জন্য একটি গাইডলাইন। টেলিভিশন-সংশ্লিষ্ট সিনিয়র সাংবাদিক ও টিভিব্যক্তিত্বদের মন্তব্য থেকেও তা পরিষ্কার। সেদিন একটি গোলটেবিল আলোচনা সম্পূর্ণ রাজনৈতিক দর্শনে বিশ্বাসী দুজন টিভিব্যক্তিত্ব একই ভাষায় বলেছেন, জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালা প্রণয়নের দাবি আমাদের অনেক দিনের। আমরা চাইছিলাম এমন একটি নীতিমালা প্রণয়ন হোক যার মাধ্যমে বেতার ও টিভির নিয়োগ, বেতনকাঠামোসহ প্রতিষ্ঠানের গাইডলাইন পাওয়া যায়। প্রসঙ্গত, দেশে সংবাদপত্র পরিচালনার জন্য নিয়োগবিধি, বেতনকাঠামো ইত্যাদি প্রণয়নে  বিএফইউজে এবং ডিইউজে নামের দুটি সংগঠনও রয়েছে। কিন্তু টেলিভিশন ও বেতারের ক্ষেত্রে কোনো কাঠামোই নেই। মূলত এ বাস্তবতা থেকেই তাদের পরিচালনায় নীতিমালা প্রণয়নে সরকার উদ্যোগী হয়। কিন্তু এই নীতিমালা নিয়ে যত না গঠনমূলক আলোচনা হচ্ছে, ততোধিক হচ্ছে রাজনীতি। এ মন্তব্য টিভিব্যক্তিত্বরাই টকশোতে করেছেন। সব মিলিয়ে দৃষ্টিভঙ্গির একপেশে বাস্তবতা প্রকট হয়ে ওঠায় এর ভালো দিকগুলো আড়াল হয়ে যাচ্ছে। সব মিলিয়ে জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালা নিয়ে সত্যিকারের গঠনমূলক কোনো আলোচনা দেখা বা শোনা যাচ্ছে না। যেখান থেকে কিছু গ্রহণ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এর মানোন্নয়ন ঘটাতে পারেন। সম্ভবত সে কারণেই জাতীয় সম্পচারনীতি নিয়ে খোদ দেশের প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রব্য করতে বাধ্য হয়েছেন। জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তরপর্বে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে বলেছেন, নীতিমালা ছাড়া গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার সম্প্রচার কার্যক্রমের স্বাধীনতা, বহুমুখিতা, দায়বদ্ধতা এবং দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করা যায় না। এই উদ্দেশ্যে নীতিমালাটি প্রণয়ন করা হয়েছে। সবার সঙ্গে আলোচনা করেই সম্প্রচার নীতিমালা করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেছেন, জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালা নিয়ে সমালোচকরা যেসব প্রশ্ন উত্থাপন করেন, খসড়া নীতিমালা চূড়ান্ত করার সময় তা উত্থাপন করা হয়নি। এ প্রসঙ্গে স্মরণ করা যেতে পারে যে, খসড়া নীতিমালাটির জন্য সর্বস্তরের মানুষের মতামত আহ্বান করে ২১ দিন তথ্য মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে উন্মুক্ত রাখা হয়েছিল। যারা মতামত দিয়েছেন তাদের অনেকের মতামত বিবেচনায় নেয়া হয়েছে। সমালোচনা করা অবশ্যই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় উত্তম পন্থা। যার সমালোচনা করা হয় তিনি বা তারা গাইডলাইন পান। তবে সমালোচনাটি হওয়া চাই গঠনমূলক, যুক্তিনিষ্ঠ ও জাতির জন্য কল্যাণকর। এমনকি আমাদের সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদও আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বাধানিষেধসাপেক্ষে সব নাগরিকের চিন্তা ও বিবেক, বাক এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা প্রদানের কথা বলা হয়েছে। সুতরাং সম্প্রচার নীতিমালা যেমন গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ও বিধিবিধানের বাইরে নয়, তেমনি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা আর দায়িত্বশীলতাও সমান প্রত্যাশিত।