Space For Rent

Space For Rent
শনিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৪
প্রচ্ছদ » সম্পাদকীয়
  দেখেছেন :   আপলোড তারিখ : 2014-09-06
উপমহাদেশেও আল কায়েদার থাবা!
ভারতীয় উপমহাদেশ তথা সার্কের এই বিস্তীর্ণ অঞ্চলে কি তাহলে থাবা বিস্তারের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা নিয়েছে আল কায়েদা! এই বিস্ময় আর উদ্বেগ মেশানো প্রশ্ন আজ সচেতন নাগরিক মাত্রেরই। বিশেষ করে যখন বিশ্বব্যাপী ত্রাস সৃষ্টিকারী এই সংগঠনটির শীর্ষনেতা আয়মান আল জাওয়াহিরি এই উপমহাদেশের কয়েকটি দেশ ও শহরের নাম উল্লেখ করে সেসব স্থানে আল কায়েদার শাখা গঠনের কথা বলেন, তখন উদ্বেগ তো সৃষ্টি হবেই। গত বুধবার অনলাইনে প্রকাশিত জাওয়াহিরির ভিডিওবার্তায় যে ঘোষণা প্রকাশ করা হয়েছে, তাতে আল কায়েদার বদনজর যে এ অঞ্চলেও পড়েছে তা স্পষ্ট হয়ে গেছে। ভিডিওবার্তায় আল কায়েদাপ্রধান ভারতের আসাম, গুজরাট, আহমেদাবাদ, জম্মু ও কাশ্মীর এলাকার নাম উল্লেখ করেছেন। আমাদের জন্য উদ্বেগের বিষয় এই যে, জাওয়াহিরি তার ভিডিওবার্তায় বাংলাদেশ এবং মায়ানমারের নামও উল্লেখ করেছেন। তার মানে, পর্যায়ক্রমে ভারতীয় উপমহাদেশের প্রতিটি অঞ্চলে শাখা গঠনের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা রয়েছে এই সশস্ত্র সন্ত্রাসবাদী সংগঠনটির। এমন ধারণাই পোষণ করেছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা। শান্তির ধর্ম হিসেবে বিশ্বময় পরিচিত ও প্রতিষ্ঠিত ইসলাম ধর্মের নাম ভাঙিয়ে যারা সন্ত্রাস ও সহিংসতার পথ বেছে নিয়ে সারা পৃথিবীতে মুসলমানদের সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা সৃষ্টি করছে, তারা আর যাই হোক ইসলামের এবং মুসলিম জাতির কল্যাণকামী হতে পারে না। আল কায়েদা, আলসাবা, হিযবুত তাওহীদ, বোকোহারামসহ বহু নামে এসব সাম্প্রদায়িক সংগঠন পৃথিবীতে রক্ত ঝরিয়ে চলেছে। দুর্ভাগ্যের বিষয়, বাংলাদেশে তালেবান-জঙ্গিগোষ্ঠীসহ নানান সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী ছিল বটে কিন্তু আল কায়েদার মতো বিশ্বময় পরিচিত কুখ্যাত সংগঠন কাজ করতে পারেনি। এখন জাওয়াহিরির ভিডিওবার্তা অনুযায়ী মনে হচ্ছে, এদেশেও এই বিষবৃক্ষের বীজ বপন করা হবে। জাওয়াহিরির কুদৃষ্টি থেকে দেশটিকে রক্ষার ব্যাপারে বাংলাদেশ যে সতর্ক, তা বোঝা গেছে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের কথায়। তিনি বলেছেন, আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠনটির প্রধানের এই ভিডিওবার্তা গুরুত্বের সঙ্গেই দেখছে বাংলাদেশ। জাওয়াহিরির ভিডিওবার্তার ঘোষণা যে অত্যন্ত বিপজ্জনক, তা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় জাগ্রত প্রগতিশীল একটি সরকার যে উপলব্ধি করবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। এ প্রসঙ্গে মনে পড়ছে, যখন চারদলীয় জোট সরকারের আমলে জামায়াতে ইসলামী রাষ্ট্রক্ষমতার অংশীদার, তখন তথাকথিত বাংলাভাইসহ একাধিক জঙ্গিধারা আফগানিস্তানে মুজাহিদ বাহিনীর সদস্য হয়ে যুদ্ধ করে দেশে কি করেছিল? তারা দেশে এমন এক তাণ্ডব সৃষ্টি করেছিল যে, জেএমবি নামের সংগঠনের প্লাটফর্মে তারা সারাদেশেই ছড়িয়ে পড়তে চেয়েছিল। আন্তর্জাতিক চাপের মুখে তাদের গ্রেপ্তার এবং ২০০৭ সালে গঠিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিচার করে দণ্ড দিয়েছিল। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গঠিত মহাজোট সরকার র্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সর্বাত্মক সহযোগিতায় মৌলবাদী জঙ্গিগোষ্ঠীকে দমনে অসাধারণ সাহসী ভূমিকা পালন করেছে। বর্তমান সরকারও সেই ধারাবাহিকতায় অগ্রসর হবে, প্রগতিশীল মানুষমাত্রই সেই প্রত্যাশা করে। আল কায়েদাপ্রধানের ভিডিওবার্তায় ভারত সে দেশে রেড অ্যালার্ট জারি করে সর্বাত্মক সতর্কতা গ্রহণ করেছে। আমরাও আশা করব, দেশের বৃহত্তর স্বার্থেই সরকারসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলও এই আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে রুখে দাঁড়াবে এবং মুক্তিযুদ্ধের রক্তস্নাত দেশটির প্রগতিশীল চরিত্র রক্ষা করবে।