Space For Rent

Space For Rent
শনিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৪
প্রচ্ছদ » ইসলাম
  দেখেছেন :   আপলোড তারিখ : 2014-09-06
লোভে পাপ, পাপে পতন
এম. শামসুদদোহা তালুকদার : ‘লোভে পাপ, পাপে মৃত্যু’—প্রাচীন এ নীতিকথাটির মানে আমরা সবাই জানি। লোভী ব্যক্তির শেষ দশা মৃত্যু পর্যন্ত ঠেকে, তা-ই এর অন্তর্নিহিত মর্ম।

মানুষের চাহিদা বরাবর ছিল, এখনও আছে, আগামীতেও তা সমানে থাকবে। আর এ চাহিদা পূরণে সবাই ব্যস্ত থাকে। কেউ পূরণ করতে পারে, কেউ পারে না। পার্থিব জগতের বর্ধিষ্ণু আকাঙ্ক্ষাকেই ‘লোভ’ বলে। একজন মানুষ তার জ্ঞানবুদ্ধি ও যোগ্যতানুযায়ী স্বভাবত সমাজ ও পরিবারে প্রতিষ্ঠিত হয়।

কিন্তু ওই ব্যক্তির যদি আরও বেশি চাওয়া থাকে, তাহলে সে সর্বদা হাহাকারের মধ্যেই থাকবে। মূলত চাহিদার কোনো সীমারেখা নেই, যে কারণে তা পূরণও হয় না। তবে লোভের একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য হলো, অযৌক্তিক ও অবৈধ বিষয়ের প্রতি তীব্র আকাঙ্ক্ষা। এজন্যই আল্লাহ্র রাসুল প্রিয় নবী (স.) স্পষ্টত বলেছেন, ‘মানুষ স্বভাবত নিষিদ্ধ বস্তুর প্রতি লোভী।’ (জামেউস সাগীর)।

মানুষের জীবনাচরণের মাঝে এটি একটি অশুভ রিপু। লোভের কারণে মানুষ এক পর্যায়ে বেপরোয়া হয়ে ওঠে। সাধারণত অর্থসম্পদ ও ক্ষমতার মোহে মানুষ লোভাতুর হয়। তার যা আছে বা যা সে পেতে পারে, তার বাইরে মরিয়া হয়ে সর্বদা কামনা করে— সে অর্থ বা সম্পদ তাকে পেতেই হবে। এ ধরনের কামনাই লোভ-লালসার বহিঃপ্রকাশ। লোভের কারণে মানুষ তার মর্যাদার প্রতি অনাচার করে থাকে।

প্রিয় নবী (স.)-এর বাণী—‘মানুষের কাছে দুটো মাঠভরা সম্পদ থাকলেও সে ওর সঙ্গে আরও একটা যোগ করার জন্য সব সময় চিন্তা ও কৌশল করত।’ (সহীহ ও মুসলিম)। অর্থাত্ তার প্রকৃত চাহিদা থাকুক বা না থাকুক, সে আরও কিছু পাবার কামনায় তার জ্ঞানবুদ্ধি ব্যবহার করে। সাময়িক অবস্থানের ক্ষেত্রই হচ্ছে এ পৃথিবী। এখানে নির্দিষ্ট সময় অবস্থান করে সবাই চির গন্তব্যের দিকে ছুটে যায়, যা শতভাগ বাস্তবতা।

পৃথিবীর ক্ষণস্থায়িত্ব সম্পর্কে বিখ্যাত ‘মাসাল’ যা হজরত আলকামা (রা.), হজরত আব্দুল্লাহ্ (রা.) থেকে রেওয়ায়েত করেন, তিনি বলেন— আমি একদা রাসুলুল্লাহ্ (স.)-এর কাছে গিয়ে দেখি তার পার্শ্বদেশে চাটাইয়ের দাগ পড়ে গেছে। তখন আমি তাকে বললাম, ইয়া রাসুলুল্লাহ্ (স.)! আপনি যদি এর চাইতে নরম বিছানায় শুতেন, তখন রাসুলুল্লাহ্ (স.) বললেন— ‘দুনিয়ার সঙ্গে আমার কী সম্পর্ক! আমার এবং দুনিয়ার উদাহরণ হলো ওই পথিকের ন্যায়, যে কোনো মরুভূমিতে চলতে গিয়ে বৃক্ষের নিচে বিশ্রাম নিয়ে আবার চলে গেল।’
 
মূলত লোভী মানুষ কোনোক্রমেই সুখী হয় না, সচ্ছলও হয় না। লোভীর সারা জীবনটা দরিদ্রতার অভিশাপে পূর্ণ থাকে। ইসলামে লোভী মানুষ অপাঙক্তেয়। নির্লোভ, লোভ—এ দু’ধারার মানুষে পরিপূর্ণ এ সমাজ, তাদের গন্তব্যও হবে আলাদা জায়গায়। মহানবী (স.)-এর বাণী হচ্ছে, ‘মুমিনদের মধ্যে যারা সংযমী তারাই উত্কৃষ্ট, আর যারা লোভী তারাই নিকৃষ্ট।’ তিনি (স.) আরও বলেছেন, ‘লোভী কখনও জান্নাতে যাবে না।’ (জামেউস সাগীর)।

মানুষের লোভ-লালসা ধনসম্পদ, গাড়ি-বাড়ি, ব্যবসা-বাণিজ্য আর সুন্দরী স্ত্রীর প্রতিই থাকে না, এর সাথে অধুনা যোগ হয়েছে ক্ষমতার প্রতি তীব্র আকর্ষণ। ক্ষমতা প্রভাব-প্রতিপত্তি হাতে পেয়ে মানুষ নিজের ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে, বিবেকবুদ্ধির বিনাশ ঘটে। এক পর্যায়ে নিজের কৃতকর্মের ফলে সে লাঞ্ছিত ও অপদস্ত হয়। সবার কাছে সে ঘৃণিত ব্যক্তিতে পরিণত হয়।

(একে/সেপ্টেম্বর ০৬, ২০১৪)