Space For Rent

Space For Rent
রবিবার, ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৪
প্রচ্ছদ » সম্পাদকীয়
  দেখেছেন :   আপলোড তারিখ : 2014-09-07
পদ্মা সেতু: অতঃপর সুসংবাদ
বাংলাদেশের যোগাযোগ ক্ষেত্রে এক নতুন যুগের সূচনা করবে পদ্মা সেতু। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার দায়িত্ব  নেয়ার পরপরই অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করেছিল পদ্মা নদীর ওপর নির্মিতব্য এই বিশাল ব্রিজের প্রকল্প। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, নানারকম অপরাজনীতি আর আন্তর্জাতিক চক্রান্তে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে এই অসাধারণ প্রকল্পটিতে অর্থ বরাদ্দ থেকে সরে দাঁড়ায় বিশ্বব্যাংক। ফলে ঢাকা থেকে দেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় জনপদ খুলনা-মংলা পর্যন্ত সড়কপথে যোগাযোগে নতুন যুগ সৃষ্টির বিশাল সম্ভাবনাময় এই প্রকল্পটি ২০০৯ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত এসে গড়ায়। কিন্তু কাজের কোনো গতি হচ্ছিল না কিছুতেই। শেষ পর্যন্ত বর্তমান সরকার যখন দৃঢ়তার সঙ্গে দেশীয় অর্থায়নেই পদ্মা সেতু নির্মাণের কথা ঘোষণা করল, তখন নড়েচড়ে বসল অনেকেই। চীনসহ বেশ কটি দেশ অর্থায়নে আগ্রহও প্রকাশ করেছিল। দেশের এই বিশাল সম্ভাবনাময় সেতুটি দেশীয় অর্থায়নের পাশাপাশি চীনের অর্থ সহায়তাও গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। বিশাল অঙ্কের বিনিয়োগে নির্মিতব্য এই সেতুর নির্মাণ অবশেষে শুরু হয়ে গেছে, যা দেশের জন্য অত্যন্ত সুসংবাদ। ইতিমধ্যে সয়েল টেস্টের কাজ শুরুর প্রক্রিয়া চলছে। নদীশাসনের জন্য আন্তর্জাতিক দুটি প্রতিষ্ঠান সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে চীনের একটি এবং দক্ষিণ কোরিয়ার একটি প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব প্রদানের সুপারিশ করা হয়েছে। চলতি সপ্তাহের মধ্যে নদীশাসনের জন্য প্রতিষ্ঠান দুটির অনুমোদন বিবেচনার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হবে। অনুমোদন শেষে প্রতিষ্ঠান দুটির সঙ্গে নদীশাসনের চুক্তি হবে বলে গতকাল দৈনিক বর্তমানে প্রকাশিত প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে। সবচেয়ে সুখের কথা হচ্ছে, ২০১৮ সালের মধ্যেই চালু হবে পদ্মা সেতু। এর জন্য ইতিমধ্যে আড়াই হাজার কোটি টাকার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। যোগাযোগমন্ত্রী জানিয়েছেন, শীঘ্রই সয়েল টেস্টের কাজ শুরু হবে। সেতু নির্মাণের যন্ত্রপাতি এরই মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছেছে। সবকিছু মিলিয়ে আশাবাদী একটা পরিবেশ যে সৃষ্টি হয়েছে সে কথা প্রায় নিশ্চিত করেই বলা যায়। সচেতন মানুষ মাত্রই জানেন, পদ্মা সেতুর তাত্পর্য কী! এ সেতু শুধু দক্ষিণাঞ্চলকেই সড়কপথে রাজধানীসহ সারাদেশের সঙ্গে যুক্ত করবে না, দেশের অর্থনীতিতে দক্ষিণাঞ্চল বিশাল অবদান রাখতেও সক্ষম হবে। উন্নয়নের জন্য উন্নত যোগাযোগের তথা দ্রুতগতির যোগাযোগের কোনো বিকল্প নেই। এত চড়াই-উতরাই আর বাধাবিপত্তি পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত যে ২০১৮ সালের মধ্যে পদ্মা সেতু চালু করার সুসংবাদ জাতিকে দিতে পেরেছে সরকার, তা কম আনন্দের নয়। এ প্রসঙ্গে বলে রাখা দরকার যে, দেশের দরিদ্র মানুষের শ্রমঘামের অর্থে বা ট্যাক্সের পয়সায় যে অর্থনীতির চাকা ঘুরছে, সেই অর্থভাণ্ডার থেকেও বহু টাকা ব্যয় হচ্ছে পদ্মা সেতুতে। আমাদের প্রত্যাশা, সম্পূর্ণ দুর্নীতিমুক্তভাবে উন্নত প্রযুক্তি প্রয়োগে নির্মিত পদ্মা সেতু দেশের অর্থনীতিতে গতিশীলতা বয়ে আনবে।