Space For Rent

Space For Rent
রবিবার, ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৪
প্রচ্ছদ » ইসলাম
  দেখেছেন :   আপলোড তারিখ : 2014-09-07
হজে ব্যবহূত আরও কিছু বিশেষ স্থান ও শব্দের পরিচয়
আল ফাতাহ মামুন : হারাম শরীফ: পবিত্র কাবাঘরের চারপাশের বিশাল মসজিদকে বলা হয় হরম বা হেরেম শরীফ।
হাতিম: কাবা শরীফসংলগ্ন উত্তর-পশ্চিম দিকে অর্ধবৃত্তাকার দেয়ালঘেরা জায়গাকে ‘হাতিম’ বলে। এটি দোয়া কবুলের অন্যতম একটি স্থান।
 
মিজাবে রহমত: মিজাব আরবি শব্দ। মিজাব অর্থ নল। হাতিমের মধ্যে একটি পাথরের ওপর পবিত্র কাবাঘরের ছাদের পানি পড়ার জন্য যে স্বর্ণের নল আছে, সেই নলটিকেই মিজাবে রহমত বলে। বৃষ্টি হলে এই বরকতময় পানি সংগ্রহের জন্য ভিড় জমে যায়।
 
মুলতাযিম: পবিত্র কাবাঘরের দক্ষিণ-পূর্ব কোণে একখণ্ড বেহেশতি পাথর লাগানো আছে। এখান থেকে কাবাঘরের দরজা পর্যন্ত দেয়ালের অংশটিকে মুলতাযিম বলে। এটি দোয়া কবুলের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান।
 
বাবুস সালাম: মসজিদুল হারেমের পূর্বদিকের যে দরজা দিয়ে প্রিয়নবী (সা.) বেশিরভাগ সময়ই কাবা শরীফে প্রবেশ করতেন, তাকে বাবুস সালাম বলা হয়।

রোকনে ইয়েমেনি: রোকন শব্দের অর্থ হলো ‘কোণ’। ইয়েমেন দেশের দিকের কোণকে রোকনে ইয়েমেনি বলে। কাবা শরীফের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণটি হলো রোকনে ইয়েমেনি।

যমযম: আল্লাহ্র নির্দেশে অলৌকিকভাবে প্রবাহিত হওয়া একটি প্রাচীন ঝরনার নাম জমজম। এটি হজরত হাজেরা ও হজরত ইসমাইলের (আ.) জীবনের ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত। এই পানি দাঁড়িয়ে কেবলামুখী হয়ে পান করতে হয়।
 
জাবালে রহমত: এটি আরাফাতের মাঠের একটি পাহাড়। হজের সময় এরই সন্নিকটে অবস্থান করতে হয়। এই পাহাড়ের পাদদেশ থেকেই হজরত মোহাম্মদ (সা.) বিদায় হজের ঐতিহাসিক মনোমুগ্ধকর ভাষণ প্রদান করেছিলেন।
 
মসজিদে নামেরা: আরাফাতের ময়দানের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত সুবৃহত্ মসজিদ হলো ‘মসজিদে নমেরা’। এখানে ফেরেশতা জিব্রাইল (আ.) হজরত ইব্রাহিমকে (আ.) হজের নিয়মকানুন শিক্ষা দিয়েছিলেন। এখানেই হজরত আদম ও বিবি হাওয়া (আ.) পরস্পরকে চিনতে পেরেছিলেন।
 
জামারাত: মীনাতে শয়তানকে পাথর মারার জন্য নির্ধারিত স্থান। এখানে হাজীদের নিয়মমতো শয়তানকে পাথর মারতে হয়। যখন হজরত ইব্রাহিম (আ.) হজরত ইসমাইলকে (আ.) কোরবানির জন্য নিয়ে যাচ্ছিলেন তখন শয়তান এই জায়গায় তাকে বিরত রাখার জন্য তার মধ্যে দুর্বলতা সৃষ্টির মাধ্যমে বাধা সৃষ্টি করতে ছেয়েছিলেন। সেই ঘটনা স্মরণ করে এখানে শয়তানকে পাথর মারা হয়।

রমী: রমী শব্দের অর্থ নিক্ষেপ করা। মীনায় শয়তানকে পাথর মারাকে রমী বলে।
 
জাবালে নূর: এটি সেই পাহাড়, যার চূড়ায় অবস্থিত বিখ্যাত হেরা গুহা। এখানেই হজরত নবুয়তের পূর্বে ছয় মাস নির্জনে ধ্যান করেছিলেন এবং পবিত্র কোরানের প্রথম আয়াত এখানেই অবতীর্ণ হয়।
 
জাবালে আবু কোবায়েস: এটি সাফা পাহাড়সংলগ্ন একটি সুউচ্চ পাহাড়। এটি মসজিদুল হারাম থেকে দেখা যায়। এই পাহাড়ের নাম আবু কোবায়েস। কাবাগৃহের নির্মাণকাজ শেষ করে হজরত ইব্রাহিম (আ.) আল্লাহ্র নির্দেশে এই পাহাড়ের চূড়ায় আরোহণ করে লোকদের হজের জন্য আহ্বান করেছিলেন। হাজরে আসওয়াদকে বেহেশত থেকে এনে প্রথম এই পাহাড়ে রাখা হয়েছিল। এই পাহাড়ে দাঁড়িয়ে প্রিয় নবী হজরত মোহাম্মদ (সা.) অবিশ্বাসীদের চ্যালেঞ্জের উত্তরস্বরূপ অঙুলির নির্দেশে চাঁদকে দ্বিখণ্ডিত করেছিলেন। হজরতের এই চাঁদ দ্বিখণ্ডিত করাকে শাক্কাল কামার বলে।
 
মসজিদে আকাবা: মক্কার অদূরে আকাবা নামক একটি জায়গায় হিজরতের পূর্বে মদিনার ৬০ তীর্থযাত্রী এখানে হজরতের কাছে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন এবং মদিনায় গিয়ে তারা ইসলাম ধর্ম প্রচার করেন। এখানে তারা হজরতকে সর্বপ্রকার সাহায্যের আশ্বাস দেন। এই স্থানে নির্মিত মসজিদের নাম হলো মসজিদে আকাবা।

(একে/সেপ্টেম্বর ০৭, ২০১৪)