Space For Rent

Space For Rent
রবিবার, ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৪
প্রচ্ছদ » জাতীয়
  দেখেছেন :   আপলোড তারিখ : 2014-09-07
ঘরে ফিরছে মানুষ
বর্তমান প্রতিবেদক : দেশের বন্যা পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। বেশিরভাগ এলাকার পানি কমে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বাসিন্দারা নিজ নিজ বাসায় ফিরতে শুরু করেছে। নতুন করে কোনো এলাকা প্লাবিত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
বন্যাকবলিত এলাকায় ত্রাণ বিতরণের পাশাপাশি চলছে ব্লিচিং পাউডার, খাবার স্যালাইন ও পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বিতরণ। এ ছাড়া বিভিন্ন এলাকায় মেডিক্যাল টিম চিকিত্সাসেবা দিচ্ছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, দেশের সকল নদ-নদীর পানি হ্রাস পাচ্ছে।
আগামী ৭২ ঘণ্টায় ঢাকা শহরসংলগ্ন নদ-নদী বুড়িগঙ্গা, বালু, তুরাগ ও টঙ্গীখালের পানি হ্রাস অব্যাহত থাকতে পারে।

জামালপুর প্রতিনিধি জানান, যমুনা নদীতে পানি হ্রাস অব্যাহত থাকায় জেলার বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, রবিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় বাহাদুরাবাদ ঘাট পয়েন্টে যমুনার পানি ২৩ সেন্টিমিটার হ্রাস পেয়েছে এবং তা বিপদসীমার ৯৯ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন অফিস জানায়, বন্যায় জেলার ৭টি উপজেলার ৫৪টি ইউনিয়নে ৫ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বন্যাকবলিত এলাকায় ত্রাণ বিতরণের পাশাপাশি ব্লিচিং পাউডার, খাবার স্যালাইন ও পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বিতরণ করা হচ্ছে।
জেলা সিভিল সার্জন জানান, বন্যাকবলিত এলাকায় মেডিক্যাল টিম কাজ করছে। তিনি বলেন, বন্যাকবলিত এলাকায় পানিবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, জেলায় ৩৩ হাজার ৫১৫ হেক্টর জমির আউশ, আমন, বীজতলা ও মরিচ বন্যার পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন অফিস জানায়, জেলার বন্যাকবলিত মানুষের মধ্যে ৪৫৫ মেট্রিক টন চাল এবং ২১ লাখ ৭০ হাজার টাকা মূল্যের শুকনো খাবার ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।
বগুড়া প্রতিনিধি জানান, যমুনার পানি বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায়  জেলার ৩টি উপজেলার বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। প্লাবিত অধিকাংশ এলাকা থেকে বন্যার পানি দ্রুত নেমে যাচ্ছে।
জেলায় ত্রাণ তত্রপরতা অব্যাহত রয়েছে। জেলায় এ পর্যন্ত ৪৭৫ মেট্রিক টন চাল এবং ১১ লাখ ২৫ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়েছে।
ভোলা প্রতিনিধি জানান,  চলতি মৌসুমের কয়েক দফা বন্যায় জেলায় ২৫ কোটি ৫৪ লাখ ১৯ হাজার টাকার ফসলের ক্ষতি হয়েছে। এতে জেলায় ১৫ হাজার ২২৭ জন কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। আক্রান্ত এলাকার মধ্যে চরফ্যাশন উপজেলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উপজেলার মাদ্রাজ, হাজারীগঞ্জ, আসলামুর, কুকরী-মুকরী ঢালচরসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
জেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, চলতি বর্ষা মৌসুমে সদর, চরফ্যাশন, মনপুরা, দৌলতখান ও তজুমদ্দিন উপজেলায় বাধ ভেঙে জোয়ারের পানিতে বিস্তীর্ণ জনপদ প্লাবিত হয়েছে। এছাড়া বাধবিহীন এলাকাতে জোয়ারের পানি প্রবেশ করে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।                         
জোয়ারে সৃষ্ট বন্যায় এক হাজার ৯৮ হেক্টর জমির আমনের বীজ তলা, ৩৪৪ হেক্টর আউশ ধান এবং ৬০২ হেক্টর সবজি ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছেন জেলার জেলার ১৫ হাজার ২২৭ কৃষক।
এ ব্যাপারে ভোলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের শস্য উত্পাদন কর্মকর্তা দেব দুলাল ঢালী বলেন, জোয়ারের পানিতে ক্ষয়ক্ষতির তালিকা তৈরি করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। এই মুহূর্তে কৃষকদের আর্থিক সহযোগিতার পরিকল্পনা নেই। তবে ভবিষ্যতে কর্তৃপক্ষ যদি পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করে তাহলে সে অনুয়ায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি জানান, নদ-নদীর পানি কমায় বানভাসি মানুষ নিজেদের বসতভিটায় ফিরতে শুরু করেছেন। ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ি-ঘর সংস্কার ও আসবাবপত্র ঘরে তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন এসব মানুষ। বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সাথে সাথে সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার উদ্যোগে ত্রাণ তত্পরতার পাশাপাশি বিনামূল্যে চিকিত্সা, গবাদিপশুর ভ্যাকসিন প্রদান ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহসহ বন্যা-পরবর্তী নানা কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি গত শনিবার থেকে ৭টি ইউনিয়নের চরে মাসব্যাপী বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ শুরু করেছে।
জেলায় এ পর্যন্ত এক হাজার ৫০ মেট্রিক টন চাল ও ১২ লাখ টাকা ত্রাণ হিসেবে বরাদ্দ পাওয়া গেছে।
এদিকে ব্রহ্মপুত্রের তীব্র ভাঙ্গনে গত ২ দিনে দৈ খাওয়া বিজিবি সীমান্ত ফাঁড়ি ও দৈখাওয়া বাজারসহ আশপাশে বসবাসকারী অন্তত ৬০টি পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছে।
৪৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মোফাজ্জল হোসেন আখন্দ জানান, ভাঙনের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় মাত্র দুদিনের ব্যবধানে দৈখাওয়া সীমান্ত ফাঁড়ির ২টি সৈনিক ব্যারাক, ২টি জেসিও ব্যারাক, মসজিদ ও রান্নাঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

(সেপ্টেম্বর ০৭, ২০১৪)