Space For Rent

Space For Rent
রবিবার, ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৪
প্রচ্ছদ » জাতীয়
  দেখেছেন :   আপলোড তারিখ : 2014-09-07
‘মালিকদের অধিক মুনাফার প্রবণতা নৌদুর্ঘটনায় দায়ী’
বর্তমান প্রতিবেদক : নৌপথে বেশিরভাগ দুর্ঘটনার জন্য মালিকদের অধিক মুনাফা করার প্রবণতাকে দায়ী করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় নৌপথের দুর্ঘটনা রোধে নৌযানের নকশা প্রণয়নে প্রযুক্তিগত বুদ্ধি কাজে লাগানোর পরামর্শ এবং চালক ও ক্রুদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

রবিবার সকালে সচিবালয়ে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী এসব পরামর্শ দেন। এ সময় তিনি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী, সচিব ও বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, সামান্য বাতাসে লঞ্চ ডুবে যাবে— এটা তো হতে পারে না। সেদিকে লক্ষ রেখে ডিজাইনটা এমন হওয়া উচিত, যাতে যে কোনো অবস্থায় এটা ভাসমান থাকতে পারে। তিনি বলেন, সঠিক ডিজাইনে নৌযান তৈরি করা উচিত। ঝড় এলে কীভাবে নদীতে টিকে থাকবে, তা মাথায় না রেখে, শুধু পয়সার কথা মাথায় রেখে বেশি করে কেবিন বানানো, বেশি করে যাত্রী নেয়া; এগুলো করতে গিয়েই কিন্তু অ্যাক্সিডেন্ট হয়। এ জন্য নৌযানের সঠিক নকশা নিশ্চিত করার পাশাপাশি চালকদের জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে নির্দেশ দেন তিনি।

সম্প্রতি মাওয়ায় ডুবে যাওয়া পিনাক-৬ লঞ্চের উদাহরণ টেনে শেখ হাসিনা বলেন, ওই ঘটনা খুবই দুঃখজনক। চোখের সামনে দেখা যাচ্ছে অথচ মানুষগুলো বাঁচতে পারছে না। নিশ্চয়ই সেখানে কোনো লাইফবয়া ছিল না, নিজেদের রক্ষার ব্যবস্থা ছিল না।

ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারে নৌপথকে কাজে লাগানোর তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু ঢাকাভিত্তিক বা চট্টগ্রামভিত্তিক না, বাংলাদেশভিত্তিক আমরা শিল্প-কলকারখানা গড়ে তুলতে চাই। উত্পাদিত পণ্যের বাজারজাত বা রপ্তানি করতে হলে অথবা এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় নিতে হলে নদী পথই হলো সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ। অল্প খরচে, নিরাপদে পণ্য পরিবহন করা যাবে।

নৌ যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ ভৌগোলিক অবস্থার কারণে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের মধ্যে একটা সেতুবন্ধ রচনা করতে পারে। সেই সুযোগটা আমাদের কাজে লাগাতে হবে। সমস্ত বিশ্বে পণ্য পরিবহন এ অঞ্চল থেকেই বেশি হয়। কাজেই এখানে বাংলাদেশের গুরুত্ব অনেক বেশি। সেদিকটা মাথায় রেখে আমাদের নৌ যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও উন্নত করতে হবে।

বাংলাদেশের অবস্থান ব-দ্বীপে হওয়ায় পলি অপসারণ করে নাব্য ধরে রাখার জন্য প্রতিটা নদীতেই ক্যাপিটাল ডেজিং করারও নির্দেশ দেন তিনি। তিনি বলেন, বাংলাদেশকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে নদীগুলোকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। এর পর প্রতিবছরই নৌপথ সচল রাখতে মেইটেইন্যান্স ড্রেজিং করতে হবে।

নদীদূষণ ও দখল রোধে ব্যবস্থা নিতেও সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, কেউ যেন নদীর পাড় দখল করে সেগুলো অপব্যবহার না করে সেটা দেখতে হবে। আর দূষণটাও। প্রয়োজনে নদীদূষণ রোধে ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট স্থাপন করতে হবে। বুড়িগঙ্গায় যাওয়ার পর আমার কান্নাই পাচ্ছিল যে, এই বুড়িগঙ্গা দিয়ে বহুবার স্টিমারে যাতায়াত করেছি। সেই নদী মরে পচা দুর্গন্ধ বের হচ্ছে। এটা আমাদের জন্য সত্যিই দুঃখজনক এবং কষ্টকর। বুড়িগঙ্গার মতো অবস্থা যেন অন্য নদীগুলোর না হয় সেদিকে নজর দেয়ার নির্দেশ দেন।

শেখ হাসিনা জানান, ঢাকার চারপাশের বালু, তুরাগ, বুড়িগঙ্গা ও শীতলক্ষ্যা নদীর নাব্য বাড়ানো ও দূষণমুক্ত করার জন্য বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে।

এ সময় শেখ হাসিনা তার সরকারের নেয়া বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মসূচির কথাও তুলে ধরেন। তিনি জানান, তার সরকারের সময় আট লাখ ঘনমিটার ড্রেজিং এবং চার লাখ ঘনমিটার খনন কাজ শেষ হয়েছে। ৫৩টি নদীর নাব্য ফিরিয়ে আনার জন্য ১২ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে ৩৬টি নদীর খনন কাজ চলছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৯৬ সালে তার সরকারের সময় পশুর নদী খনন করে মংলা বন্দরকে সচল করা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ক্ষমতায় এলে মংলা বন্দর বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে মংলা বন্দরকে আবার সচল করা হয়েছে।

পরিদর্শনে এসে প্রধানমন্ত্রী প্রথমে নৌ মন্ত্রণালয়ের অটোমেশন ও ভিডিও কনফারেন্সিং ব্যবস্থার উদ্বোধন করেন। এ ব্যবস্থার মাধ্যমে এখন থেকে নৌ মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে নিয়মিত পারস্পরিক যোগাযোগ করা সম্ভব হবে। এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে মংলা ও মেরিন একাডেমি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেন।

(এইচআর/সেপ্টেম্বর ০৭, ২০১৪)