Space For Rent

Space For Rent
রবিবার, ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৪
প্রচ্ছদ » জাতীয়
  দেখেছেন :   আপলোড তারিখ : 2014-09-07
অভিশংসন ক্ষমতার বিল সংসদে
বর্তমান প্রতিবেদক : সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনের প্রস্তাব সংসদে উঠেছে। বিলটি রবিবার সংসদে উত্থাপন করেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। উত্থাপনের সময় তিনি বলেছেন, ‘বিলটি আইনে পরিণত হলে স্বাধীন বিচার বিভাগের প্রতি জনগণের আস্থা আরও বৃদ্ধির পাশাপাশি নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির কাছে এটির জবাবদিহিতা থাকা সংক্রান্ত সংবিধানের মৌলিক কাঠামো সমুন্নত থাকবে মর্মে আশা করা যায়।’

উত্থাপনের পর ‘সংবিধান (ষোড়শ সংশোধন) বিল-২০১৪’ বিলটি আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠিয়েছেন স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী।

বিলটি পরীক্ষা করে প্রতিবেদন দিতে প্রবীণ রাজনীতিক সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত নেতৃত্বাধীন সংসদীয় এই কমিটিকে এক সপ্তাহ সময় দেয়া হয়েছে।

সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত কয়েক দিন আগে বলেছেন, বিলটি তার কমিটিতে এলে তিনি সবার মতামত নেবেন। তার ভাষায়, ‘চাইলে বিএনপিও মতামত দিতে পারবে। সুপ্রিমকোর্ট, বার কাউন্সিলকে ডাকব। তাদের মতামত নেয়া হবে। সমস্ত মতামত রেকর্ড করা হবে এবং সংসদীয় কমিটির কাছে থাকবে।’

উল্লেখ্য, ১৯৭২ সালে সংবিধান প্রণয়নের সময় এর ৯৬ অনুচ্ছেদের বলে উচ্চ আদালতের বিচারকদের পদের মেয়াদ নির্ধারণ ও তাদের অভিশংসনের ক্ষমতা সংসদের হাতে ছিল।

এর দুই বছর পর ১৯৭৪ সালে সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর (বাকশাল গঠন) মাধ্যমে বিচারপতিদের অভিশংসনের ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির হাতে ন্যস্ত হয়।

চতুর্থ সংশোধনী বাতিল হলে জিয়াউর রহমানের সামরিক সরকারের আমলে এক সামরিক আদেশে বিচারপতিদের অভিশংসনের জন্য সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠন করা হয়। এখন পর্যন্ত তা-ই বলবত্ রয়েছে।

রবিবার  সংসদে উত্থাপিত বিলে বর্তমান সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদ সংশোধনের প্রস্তাব করে বলা হয়েছে, ‘বিচারকদের পদের মেয়াদ-(১) এই অনুচ্ছেদের বিধানাবলী সাপেক্ষে কোন বিচারক ৬৭ বত্সর বয়স পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত স্বীয় পদে বহাল থাকিবেন। (২) প্রমাণিত অসদাচরণ বা অসামর্থ্যের কারণে সংসদের মোট সদস্য সংখ্যার অন্যূন দুই-তৃতীয়াংশ গরিষ্ঠতার দ্বারা সমর্থিত সংসদের প্রস্তাবক্রমে প্রদত্ত রাষ্ট্রপতির আদেশ ব্যতীত বিচারককে অপসারিত করা যাইবে না।’ এই অনুচ্ছেদের (২) দফার অধীন প্রস্তাব সম্পর্কিত পদ্ধতি এবং কোন বিচারকের অসদাচরণ বা অসামর্থ্য সম্পর্কে তদন্ত ও প্রমাণের পদ্ধতি সংসদ আইনের দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করিবেন। (৪) কোন বিচারক রাষ্ট্রপতিকে উদ্দেশ্য করিয়া স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে স্বীয় পদত্যাগ করিতে পারিবেন।’

সংবিধানে নতুন করে সংশোধনের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে আইনমন্ত্রী বলেন, সংসদের আস্থা হারালে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকারও যেহেতু পদে থাকতে পারেন না, সেই একই বিষয় বিচারপতিদের ক্ষেত্রে থাকলেও তা পরে বাদ দেয়া হয়। এখন তা  পুনঃস্থাপিত হচ্ছে।

বিচারপতি অপসারণের বর্তমান পদ্ধতি সংবিধানের মূল চেতনার বিরোধী জানিয়ে তিনি বলেন, ‘জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দ্বারা গঠিত সংসদে রাষ্ট্রের অন্যান্য অঙ্গের ন্যায় উচ্চ আদালতের বিচারকদের জবাবদিহিতার নীতি বিশ্বের অধিকাংশ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বিদ্যমান রয়েছে।’
গত ১৮ আগস্ট সংবিধান সংশোধনের এই প্রস্তাব মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর দশম সংসদের চলমান অর্থাত্ তৃতীয় অধিবেশনেই বিলটি পাস হবে বলে আগেই ইঙ্গিত মিলছিল।

২০১১ সালে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর সময়ে বিচারপতিদের অভিশংসনের ক্ষমতা সংসদের হাতে ফিরিয়ে দেয়া নিয়ে আলোচনা ওঠে। যদিও তখন তা করা হয়নি। পরে ২০১২ সালে তত্কালীন স্পিকার ও বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের একটি রুলিংকে কেন্দ্র করে কয়েকজন সংসদ সদস্য হাইকোর্টের একজন বিচারপতিকে অপসারণের দাবি তোলেন। মূলত সে সময়েই বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে ফিরিয়ে আনার দাবি জোরালো হয়।

বিলটি উত্থাপনের সময় সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু বিরোধীদলীয় নেতা উপস্থিত ছিলেন না। তবে তিনি জানিয়েছেন, এ বিলে তার পূর্ণ সমর্থন রয়েছে।

(সেপ্টেম্বর ০৭, ২০১৪)