Space For Rent

Space For Rent
সোমবার, ০৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৪
প্রচ্ছদ » সম্পাদকীয়
  দেখেছেন :   আপলোড তারিখ : 2014-09-08
এ এক ঐতিহাসিক সফর
রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও অবকাঠামোসহ প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও বাংলাদেশ অভাবনীয় সাফল্যের দ্বারপ্রান্তে। ২০০৯ থেকে ২০১৪ সালের এ যাবত্ দেশে অর্থনৈতিক উন্নতি ঘটেছে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে। বস্ত্রশিল্পসহ বিভিন্ন খাতের রপ্তানি আর প্রবাসী শ্রমশক্তির যে বিপুল অঙ্কের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, তা গত ৪৩ বছরের ইতিহাসে রেকর্ড ঘটনা। যোগাযোগব্যবস্থায় বিপুল উন্নতি, শিক্ষা ও প্রযুক্তিক্ষেত্রে অগ্রগতির পাশাপাশি মানুষের জীবনমান ও গড়আয়ু বেড়ে দেশ এখন মধ্যম আয়ের কাছাকাছি। এ রকম এক সন্ধিক্ষণেই বাংলাদেশ সফরে এলেন উন্নত দেশ জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে।  সংক্ষিপ্ত হলেও এ এক ঐতিহাসিক সফর হিসেবে স্মরণীয়। এ কথা ইতিহাসের সত্য যে, জাপান বাংলাদেশের দীর্ঘকালের পরীক্ষিত বন্ধু। শিল্পসমৃদ্ধ অর্থনীতিতে দীর্ঘকালের স্বনির্ভর সংগ্রামী ও পরিশ্রমী জাতি হিসেবে পরিচিত জাপান এদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে সমর্থন দিয়েছে। শুধু সমর্থন নয়, যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনে ও বঙ্গবন্ধু সরকারকে বিপুল সমর্থন ও সহযোগিতা দিয়েছে। কিন্তু দুটি দেশের অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে এতকাল যথেষ্ট ব্যবধান থাকায় সহযোগিতা ও আর্থিক ঋণ লেনদেনে সম্পর্ক ছিল দাতা আর গ্রহীতার। কিন্তু জাপানি প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফরে এবার সেই সম্পর্কের পরিবর্তন ঘটছে। দাতা-গ্রহীতার সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে এসে সমন্বিত অংশীদারিত্বের পথে এগিয়ে যেতে কর্মসূচি গ্রহণ করেছে দুই দেশ। দুই প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে অনুষ্ঠিত শীর্ষ বৈঠকে গত শনিবার দাতা-গ্রহীতার পরিবর্তে সমন্বিত অংশীদারিত্বের বিষয়টার ওপরই গুরুত্বারোপ করলেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী। জাপানি প্রধানমন্ত্রী তথা জাপান সরকারের এ মনোভাব নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের জন্য এক বিশাল অর্জন। প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ে দুই দেশের এ শীর্ষ বৈঠকে ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ে উন্নীত হতে এবং অন্যান্য লক্ষ্যার্জনে বন্ধু হিসেবে বাংলাদেশের পাশে থাকার যে অঙ্গীকার করে গেছেন জাপানি প্রধানমন্ত্রী, নিঃসন্দেহে তা গুরুত্বপূর্ণ। এ প্রসঙ্গেই স্মরণীয়, দুই দেশের এ শীর্ষ বৈঠকশেষে দুই প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে ২৫ দফা যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন। প্রসঙ্গত, দীর্ঘ ১৪ বছর পর জাপানের কোনো প্রধানমন্ত্রীর এটিই প্রথম ঢাকা সফর। দুই প্রধানমন্ত্রীই আশা প্রকাশ করেছেন, এ ধরনের উচ্চপর্যায়ের সফর ও শীর্ষ বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছবে। দুই দেশের প্রতিনিধি দলের মধ্যে স্বাক্ষরিত যৌথ বিবৃতিতে যা বলা হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে— গত ২৫ মে থেকে ২৮ মে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জাপান সফরের সময় দুই দেশের সম্পর্ক, শান্তি, গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আইনের শাসনের বিষয়ে অভিন্ন মূল্যবোধের ভিত্তিতে ‘সার্বিক অংশীদারিত্বে’ উন্নীত করে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার কথা। গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের বিষয়ে অভিন্ন মূল্যবোধের সার্বিক অংশীদারী কাঠামোর আওতায় দুই দেশের সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করা এবং দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক, আন্তর্জাতিক বহুপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিশদ আলোচনা হয়। জাপানি প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হচ্ছে বাংলাদেশকে মর্যাদাবান এক বন্ধু হিসেবে গ্রহণের মনোভাব প্রকাশ। এদেশে বিনিয়োগে নিজ দেশের ব্যবসায়ীদের উত্সাহী করার অঙ্গীকারও করেছেন জাপানি প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশ ও তার বন্ধুর জন্য সর্বাত্মক সহযোগিতা ও সমর্থনের হাত প্রসারিত করেছে। যেমন জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ থেকে বাংলাদেশ তার অস্থায়ী সদস্যপদ প্রত্যাহার করে নিয়েছে জাপানকে সদস্য হতে সমর্থন দেয়ার জন্য। জাপান নিশ্চয়ই কৃতজ্ঞতাপাশে আবদ্ধ হলো। এদেশের প্রতি জাপান যে সহযোগিতার নতুন দিগন্ত প্রসারিত করেছে, তাতে এর সুফল পাবে বাংলাদেশ। সঙ্গত কারণেই শিনজো আবের এ সফর একদিন ইতিহাসে স্থান পাবে।