Space For Rent

Space For Rent
সোমবার, ০৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৪
প্রচ্ছদ » সম্পাদকীয়
  দেখেছেন :   আপলোড তারিখ : 2014-09-08
তেইশ বছরেও কার্যকর হলো না!
কথায় আছে, কৃষককে এক টাকা ঋণ দিলে তার কাছ থেকে দুই টাকা ফেরত পাওয়া যায়। এ কথার প্রমাণ তারা সব সময়েই দিয়ে এসেছে। তাই দেশের খাদ্য নিরাপত্তার স্বার্থেই কৃষককে সব ধরনের সহযোগিতা করা উচিত। বর্তমান সরকার ‘কৃষিবান্ধব’ খ্যাতি পেয়েছে। তারা নিরলস কাজও করে যাচ্ছে। অথচ ২৩ বছর আগে ১৯৯১ সালে তত্কালীন সরকারের ক্ষতিগ্রস্ত সমবায়ী কৃষকদের পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফের সরকারি ঘোষণা আজো বাস্তবায়িত হয়নি। গতকাল সহযোগী একটি দৈনিকে এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। গ্রামীণ সমাজ উন্নয়নের জন্য বঙ্গবন্ধু সমবায়কে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছিলেন। বর্তমান সরকারও সমবায়কে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে আসছে। অথচ যারা অনাহারে-অর্ধাহারে থেকেও দেশবাসীকে খাদ্য দিয়ে বাঁচিয়ে রেখেছে, সেই কৃষকের সামান্য ঋণ মওকুফই ঝুলে আছে। দেশের বড় অনেক ব্যবসায়ীকে সরকার হাজার কোটি টাকা ঋণ সুদসহ মওকুফের নজির আছে। অথচ গরিব কৃষকদের সামান্য পাঁচ হাজার টাকা কৃষিঋণ মাফ হলো না! এর জন্য সরকারের মাত্র ৩শ কোটি টাকা প্রয়োজন। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ জরুরি বিবেচিত হোক। কৃষিক্ষেত্রের অগ্রগতি ধরে রাখার স্বার্থে সরকার অন্যান্য বছরের মতো এ বছরও কৃষকদের জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছে। জলবায়ুর পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব থেকে কৃষকদের রক্ষার জন্য কৃষিঋণ নীতিমালায় সরকার বিশেষ দৃষ্টি দিচ্ছে। তারা যাতে সময়মতো ঋণ পান, তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ ১০ কার্যদিবসের মধ্যে আবেদন নিষ্পত্তি করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সরকারের অব্যাহত এই ঋণ প্রণোদনার ফলে গত চার বছরে দেশে কৃষি উত্পাদন বেড়েছে চারগুণ। দেশ এখন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। ২০০৭-০৮ অর্থবছরে দেশে মোট কৃষির উত্পাদন ছিল ৩৭৭ দশমিক ৬৮ লাখ টন। ২০১১-১২ অর্থবছরে তা বেড়ে ৪৪৩ দশমিক ৮৭ লাখ টনে দাঁড়িয়েছে। কৃষির এই অগ্রগতিতে সরকার এখন চাল রপ্তানির কথা ভাবছে। এসব অগ্রগতি সত্ত্বেও কৃষির যান্ত্রিকীকরণ এবং সর্বাধুনিক কনজারভেশন অ্যাগ্রিকালচার প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে পরিবর্তিত জলবায়ু পরিস্থিতিতেও অল্পব্যয়ে এবং স্বল্পসময়ে আরও শতকরা ২০ ভাগ খাদ্য উত্পাদন বৃদ্ধি করা সম্ভব। সার্বিক উন্নয়ন অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশ দ্রুততম সময়ে উন্নত দেশে পরিণত হবে, তাতে সন্দেহ নেই। তাহলে দরিদ্র কৃষকের সামান্য ঋণ মওকুফের বিষয়টা কেন ২৩ বছর ঝুলে থাকবে?