Space For Rent

Space For Rent
মঙ্গলবার, ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৪
প্রচ্ছদ » প্রথম পাতা
  দেখেছেন :   আপলোড তারিখ : 2014-09-09
জজ মিয়াকে নিয়ে নাটকের বর্ণনা দিলেন মা জোবেদা
বর্তমান প্রতিবেদক
২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় নাটক সাজিয়ে জজ মিয়া নামক যে ব্যক্তির মিথ্যা স্বীকারোক্তি করানো হয়েছিল সেই জজ মিয়ার মা জোবেদা খাতুনের (৭০) সাক্ষ্য গ্রহণ করেছে ট্রাইব্যুনাল। ঢাকার এক নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে সোমবার মামলাটিতে ১০২ নম্বর সাক্ষী হিসেবে তিনি এ সাক্ষ্য দেন। জোবেদা খাতুন তার জবানবন্দিতে ট্রাইব্যুনালে বলেন, তার ছেলে জজ মিয়াকে ধরে আনার পর সিআইডি কার্যালয়ে তাকে ডেকে আনা হয়। সেখানে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির রুহুল আমিন, আব্দুর রশীদসহ অন্যরা তাকে বলেন, ‘আপনার ছেলের বিষয়ে কোনো চিন্তা করবেন না। জজ মিয়াকে সাক্ষ্য দেয়ার পরে বিদেশে পাঠিয়ে দেয়া হবে। যতদিন সাক্ষ্য শেষ না হচ্ছে, ততদিন আপনার সংসার চালাতে আমরা দুই হাজার টাকা করে দেবো’। জোবেদা খাতুন আরও বলেন, এভাবে ছয় মাসে সিআইডি অফিসে গিয়ে মোট সাড়ে ১২ হাজার টাকা এনেছিলাম। শেষ মাসে সিআইডি ৫শ’ টাকা বেশি দিয়েছিল। কিন্তু সপ্তম মাসে টাকা আনতে যাওয়ার আগে আমার মেয়ে খোরশেদা মিডিয়ার কাছে দুই হাজার টাকা করে নেয়ার কথা বলে দেয়। এরপর টাকা আনতে গেলে রুহুল আমিন বলেন, ‘মিডিয়াকে বলে দিয়ে তোমরা তোমাদের রিজিক হারিয়েছ। আর টাকা পাবে না’।
তিনি আরও বলেন, এরপর থেকে ছেলেকে মামলা থেকে বাঁচাতে স্বামীর ভিটা বিক্রি করে অভাবে আছি। এখানে-সেখানে ভাড়া থেকে জীবন বাঁচাচ্ছি। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় পরের তদন্ত কর্মকর্তা ফজলুল হককে সব ঘটনা শুনে তিনি আমার ছেলে জজ মিয়াকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়। জোবেদা খাতুনের জবানবন্দি শেষ হওয়ার পর আসামি পক্ষের আইনজীবীরা তাকে আংশিক জেরা করেন। অবশিষ্ট জেরার জন্য বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিন আগামী বুধবার দিন ধার্য করেন।
সাক্ষ্য গ্রহণকালে মা জোবেদা খাতুনের সঙ্গে জজ মিয়া ও তার বোন খোরশেদা খাতুন উপস্থিত ছিলেন। জজ মিয়ার মায়ের সাক্ষ্য প্রদানের পর জজ মিয়া ও তার বোন সাক্ষ্য দিবেন বলে জানা গেছে।
রাষ্ট্রপক্ষে সাক্ষ্যগ্রহণে সহায়তা করেন মামলাটির প্রধান প্রসিকিউটর সৈয়দ রেজাউর রহমান ও অ্যাডভোকেট আকরাম উদ্দিন শ্যামল।
উল্লেখ্য, ২০০৫ সালের ৯ জুন জজ মিয়াকে তার গ্রামের বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি। ১০ জুন থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত এ মামলায় রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পর ২৬ জুন তাকে দিয়ে স্বীকারোক্তি করানো হয়। যেখানে জজ মিয়া প্রত্যক্ষভাবে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় জড়িত ছিলেন বলে উল্লেখ করা হয়েছিল। মামলাটিতে মোট সাক্ষী রয়েছে ৫৮২ জন। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমানসহ আসামি রয়েছে ৫২ জন।
মামলায় খালেদা জিয়ার ভাগ্নে লে. কমান্ডার (অব.) সাইফুল ইসলাম ডিউক, সাবেক আইজিপি মো. আশরাফুল হুদা, শহিদুল হক ও খোদা বক্স চৌধুরী এবং মামলাটির তিন তদন্ত কর্মকর্তা সাবেক বিশেষ পুলিশ সুপার রুহুল আমিন, সিআইডির সিনিয়র এএসপি মুন্সী আতিকুর রহমান, এএসপি আব্দুর রশীদ ও সাবেক ওয়ার্ড কমিশনার আরিফুল ইসলাম জামিনে আছেন।
অন্যদিকে সাবেক মন্ত্রী জামায়াত নেতা আলী আহসান মুহাম্মাদ মুজাহিদ, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুত্ফুজ্জামান বাবর, সাবেক উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টু, হুজি নেতা মুফতি আবদুল হান্নানসহ ২৫ জনকে কারাগারে আছেন।
অন্যদিকে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, কাজী শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন কায়কোবাদসহ ১৯ জন আসামি পলাতক আছেন!
উল্লেখ্য, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জনসভায় গ্রেনেড হামলায় আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক সম্পাদিকা ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভি রহমানসহ ২৪ জনের নির্মম মৃত্যু হয়। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে  গেলেও শ্রবণশক্তি হারার।