Space For Rent

Space For Rent
মঙ্গলবার, ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৪
প্রচ্ছদ » প্রথম পাতা
  দেখেছেন :   আপলোড তারিখ : 2014-09-09
শেখ হাসিনাকে সাহসী নারী বললেন ইউনেস্কো প্রধান
বর্তমান প্রতিবেদক
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করে ইউনেস্কোর প্রধান ইরিনা বোকোভা বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একজন সাহসী নারী। বিশ্ব পর্যায়েও প্রধানমন্ত্রীর নারী ও কন্যাশিশুদের ক্ষমতায়নে রয়েছে জোরালো কণ্ঠ।
গতকাল বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস-২০১৪ উপলক্ষে আয়োজিত ‘নারী ও কন্যাশিশুদের সাক্ষরতা ও শিক্ষা: টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর হাতে ‘শান্তিবৃক্ষ’ স্মারক তুলে দেয়ার সময় ইউনেস্কো প্রধান এসব কথা বলেন। জাতিসংঘ মহাসচিবের গ্লোবাল এডুকেশন ফার্স্ট ইনিসিয়েটিভের (জিইএফআই) সহায়তায় বাংলাদেশ সরকার ও ইউনেস্কো এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
সম্মেলনে নারী ও কন্যাশিশুদের সাক্ষরতা ও শিক্ষা প্রসারে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ‘শান্তিবৃক্ষ’ স্মারক পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ইউনেস্কো মহাপরিচালক ইরিনা বোকোভা তার হাতে স্মারক তুলে দেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে ইরিনা বোকোভা বলেন, আপনি (শেখ হাসিনা) ইউনেস্কোর একজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু। ২০১১ সালে যখন বৈশ্বিক অংশীদারিত্বে নারী ও কন্যাশিশুদের জন্য শিক্ষার কাজ শুরু করি, তখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অংশগ্রহণে বিশেষভাবে সম্মানিত হয়েছিলাম। তিনি বলেন, ভিন্নধরনের নেতৃত্বের কারণেই বাংলাদেশ ‘গ্লোবাল এডুকেশন ফার্স্ট ইনিশিয়েটিভ’-এর অন্যতম ‘চ্যাম্পিয়ন’ দেশ হয়।
শেখ হাসিনার নেতৃত্বের সাফল্যের কথা তুলে ধরে তাকে ইউনেস্কোর ‘শান্তিবৃক্ষ’ দেয়ার ঘোষণা দেন ইউনেস্কো প্রধান। এ স্মারক শান্তি ও স্বাধীনতার প্রতীক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ইরিনা বোকোভা বলেন, ইউনেস্কো মনে করে টেকসই শান্তি ও স্বাধীনতা তখনই অর্জন করা সম্ভব হবে যখন নারী ও কন্যাশিশুর ক্ষমতায়ন হবে এবং পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রে তারা অবদান রাখতে পারবে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী এই কাজটিই করছেন।
প্রধানমন্ত্রী ‘শান্তিবৃক্ষ’ স্মারকটি সমগ্র বিশ্বের নারীদের উত্সর্গ করে বলেন, ‘এই স্বীকৃতি আমি বাংলাদেশের মা-বোনদের, তথা বিশ্বের সব নারীর উদ্দেশে উত্সর্গ করছি। এর দাবিদার তারাই।’
এছাড়া শিক্ষা ও সাক্ষরতায় অসামান্য অবদানের জন্য বিশ্বব্যাপী ৭ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ‘ইউনেস্কো লিটারেসি অ্যাওয়ার্ড ২০১৪’ সম্মাননায় পুরস্কৃত করে ইউনেস্কো। প্রধানমন্ত্রী প্রতিনিধিদের হাতে সনদ, স্মারক ও পুরস্কারের অর্থ তুলে দেন এবং তাদের অভিনন্দন জানান। এ সময় ইউনেস্কোর মহাপরিচালক প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন।
অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী, ইউনেস্কোর মহাপরিচালক ইরিনা বোকোভা, কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত লী ইয়াং-ইয়ং ও চীনের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স কিউ ইউ গাংঝু বক্তৃতা করেন। স্বাগত বক্তৃতা করেন গণশিক্ষামন্ত্রী অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান। মন্ত্রীবর্গ, সংসদ সদস্যবৃন্দ, কূটনীতিক, শিক্ষাবিদ, বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ এ সময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন অটিজম বিশেষজ্ঞ ও প্রধানমন্ত্রীর কন্যা সায়মা হোসেন পুতুল।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবার সামনে বাংলাদেশের শিক্ষার অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, সরকার শিক্ষার মানোন্নয়নে নতুন কারিকুলাম প্রণয়ন করেছে। প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা থেকে শুরু করে জুনিয়র স্কুল, মাধ্যমিক স্কুল ও উচ্চ মাধ্যমিকসহ সব প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের ‘আত্মবিশ্বাস বেড়েছে’। এখন ৯২ শতাংশ পাস করছে। পরবর্তীকালে কম করে হলেও ৯৮ ভাগ পাস করবে, এটাই আমাদের লক্ষ্য।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের প্রতিটি শিশু বিশেষ করে কন্যাশিশুকে শিক্ষাদান আমাদের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। আজও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে মেয়েরা স্কুলে যেতে বিভিন্ন প্রতিকূলতার শিকার হয়। তাদের পড়ালেখা বন্ধ হয়ে যায়। আমরা এর অবসান চাই। এটাই হোক আজকের এই সম্মেলনে আমাদের দৃপ্ত শপথ। তিনি বলেন, বাংলাদেশ এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে এসেছে। প্রতিটি শিশু স্কুলে যেতে পারছে।
বিএনপি-জামায়াত জোটের সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা যখন ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসি, তখন সাক্ষরতার হার ছিল ৪৫ শতাংশ। সেটাকে ২০০১ সালে আমরা ৬৫ ভাগে নিয়ে যাই। কিন্তু পরবর্তীকালে বিএনপি-জামায়াত সরকার সেই অর্জন ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়। ২০০৬ সালে সাক্ষরতার হার ৪৪ শতাংশে নেমে আসে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘২০১৫-পরবর্তী টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার আলোকে আমরা আমাদের রূপকল্প-২০৪১-এর ভিত্তিতে একটি উন্নত, সুশিক্ষিত ও বিজ্ঞানমনস্ক সমাজ গঠনের সোপান রচনায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এই কর্মযজ্ঞে নারী ও মেয়ে শিশুরা সব সময়ই আমাদের বিবেচনার অগ্রভাগে থাকবে।’
শেখ হাসিনা মেয়ে শিশুদের শিক্ষা ও তাদের আত্মনির্ভরশীলতা অর্জনের পথের বাধাগুলো অপসারণে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বাংলাদেশের পাশে থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, উপযুক্ত শিক্ষাই একটি মেয়েকে সামাজিক, মানসিক ও অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার পাশাপাশি যে কোনো ধরনের অন্যায় ও বৈষম্যমূলক আচরণের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর সাহস জোগাতে পারে।’ এ লক্ষ্যে নারী শিক্ষা ও সাক্ষরতাকে ২০১৫-পরবর্তী উন্নয়ন প্রস্তাবনায় টেকসই উন্নয়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে চিহ্নিত করে এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী।
শিক্ষার উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের তথ্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা ২০১১ সালের মধ্যেই বিদ্যালয়ে গমনোপযোগী শতভাগ শিশুর ভর্তি নিশ্চিত করেছি। আমরা প্রতি বছরের প্রথম দিন প্রথম শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পাঠ্যপুস্তক ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে বিনামূল্যে বিতরণ করছি।
নারীশিক্ষা প্রসারে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা মেয়েদের জন্য প্রথম শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত বিনামূল্যে পড়াশোনার ব্যবস্থা করেছি। দরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি দেয়া হচ্ছে। স্নাতক পর্যায়ে নারী শিক্ষাকে উত্সাহিত করতে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট ফান্ড গঠন করেছি। ফান্ড থেকে স্নাতক ও সমপর্যায়ের ১ লাখ ২৯ হাজার ৮১০ জন ছাত্রীকে প্রায় ৭৩ কোটি টাকার উপবৃত্তি প্রদান করা হয়েছে। আগামীতে ছাত্রদেরও উপবৃত্তি দেয়া হবে।’
নারীর কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সরকারের পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা মেয়েদের নতুন নতুন পেশায় যুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছি। বেকার নারীদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। আত্মকর্মসংস্থানের লক্ষ্যে তাদের প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। নারী উদ্যোক্তা সৃজনে জামানতবিহীন ঋণ দেয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী জানান, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতার ক্ষেত্রে নারীদের জন্য ৬০ শতাংশ কোটা বরাদ্দ রাখা হচ্ছে। আমরা বৃত্তিমূলক ও কারিগরি শিক্ষার ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছি।
শিক্ষায় তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহারের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তথ্য প্রযুক্তিকে শিক্ষার মাধ্যম হিসেব ব্যবহার করা হচ্ছে।