Space For Rent

Space For Rent
মঙ্গলবার, ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৪
প্রচ্ছদ » প্রথম পাতা
  দেখেছেন :   আপলোড তারিখ : 2014-09-09
রাজধানীর বেহাল সড়কে দুর্ভোগ
মতিন আব্দুল্লাহ
এবড়ে-খেবড়ো গর্ত। উঠে গেছে পিচ। বেরিয়ে পড়েছে খোয়া। কোথাও কোথাও ইট, খোয়া উঠে বেরিয়ে এসেছে মাটি। একটু বৃষ্টি হলে এসব গর্তে পানি জমে যায়। যানবাহন-মানুষ চলাচলে কর্দমাক্ত হয়ে যায়। এ রকম সড়কে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। প্রায় এক বছর ধরে রাস্তার এই করুণ দশা থাকলেও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের এসব ব্যাপারে কোনো মাথাব্যথা নেই। এই চিত্র মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধ থেকে আল্লাহকরিম মসজিদ সড়কের। এটি ঢাকার একটি এলাকার চিত্র মাত্র। রাজধানীর বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে সড়কের চিত্র এখন এমনই। সিটি করপোরেশনের অভ্যন্তরীণ এক বিশ্লেষণের তথ্য মতে, রাজধানীর চার হাজার ১০৭টি সড়কের দৈর্ঘ্য দুই হাজার ২৮৯ কিলোমিটার। এর মধ্যে ভিআইপি সড়কসহ গুরুত্বপূর্ণ কিছু সড়ক বাদে ৬০ ভাগের বেশি সড়কের করুণ হাল। সেই হিসেবে দেড় হাজার কিলোমিটারের বেশি সড়কের চিত্র বেহাল। এর মধ্যে ৩০ ভাগ চলাচলের অনুপযোগী। ভাঙাচোরা এসব সড়কে ছোট-বড় অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। গর্তগুলো এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। রাজধানীর সড়কের সংস্কারের দায়িত্ব ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের। পর্যাপ্ত বরাদ্দ, জনবল থাকলেও সড়ক সংস্কার হচ্ছে না।
সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরের শুরুতে বাজেট পর্যালোচনা বৈঠকে রাজধানীতে নতুন করে সংস্কারের জন্য সড়কের পরিমাণ উল্লেখ করা হয় প্রায় ১ হাজার ৪৯৮ কিলোমিটার। তাদের অনুমানভিত্তিক পরিমাপ অনুযায়ী, যথাসময়ে সংস্কারের অভাবে প্রায় ৫০০ কিলোমিটার সড়কে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। ফ্লাইওভার পাইলিংসহ বিভিন্ন নির্মাণকাজ এবং ওয়াসা, ডেসা ও টিঅ্যান্ডটিসহ বিভিন্ন সংস্থার খোঁড়াখুঁড়িতে বিপর্যস্ত ৪০০ কিলোমিটার সড়ক। এ ছাড়া ওয়াসার লাইন ফেটে কিংবা ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণে আরও ২০০ কিলোমিটার সড়ক দীর্ঘদিন জলাবদ্ধতা থেকে নষ্ট হয়েছে।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ফারুক জলীল এ ব্যাপারে বর্তমানকে বলেন, বৃষ্টি, খোঁড়াখুঁড়ি ও জলাবদ্ধতার কারণে উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার কিছু সড়ক ভেঙে গেছে। বর্ষার মৌসুম শেষ হলে এসব সড়কের সংস্কার কাজ শুরু করা হবে। তিনি বলেন, সিটি করপোরেশন কোনো সড়ক খনন করে না। সিটি করপোরেশনের কাজ শুধু সংস্কার করা। কিন্তু অবাক হলেও সত্য ওয়াসাসহ কিছু প্রতিষ্ঠান নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে খোঁড়াখুঁড়ি করেই চলেছে।
দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আনছার আলী খান বর্তমানকে বলেন, দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের জুরাইন, মালিবাগ ও কামরাঙ্গীরচর এলাকার সড়কগুলোর অবস্থা খুবই খারাপ। এটা আমরা ঘুরেও দেখেছি। বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে সড়কগুলোর অবস্থা এত খারাপ হয়েছে। মালিবাগ এলাকার সড়কগুলো ফ্লাইওভারের কাজ শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত  ওই এলাকার সড়ক সংস্কারের দায়িত্ব সড়ক বিভাগের। অন্যান্য এলাকার সড়কের কাজ পর্যায়ক্রমে সংস্কার করা হবে বলে জানান তিনি।
খোঁজখবর নিয়ে জানা গেছে, বর্ষার শুরু থেকেই তিতাস, বিটিসিএল, ওয়াসা, ডেসাসহ বিভিন্ন সেবা কর্তৃপক্ষ পাল্লা দিয়ে রাস্তাঘাট খোঁড়াখুঁড়ি শুরু করেছে। সরেজমিনে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, মহানগরীর অন্যতম ব্যস্ততম এলাকা জুরাইন-পোস্তগোলার সড়কগুলো বেহাল। জুরাইন এলাকার ব্যাংক এশিয়ার সামনের রাস্তায় দেখা গেল বড় বড় গর্ত। পোস্তগোলা এলাকার রাস্তা খানাখন্দে ভরা। খানাখন্দের কারণে বড় বাস, মিনিবাস, সিএনজিচালিত অটোরিক্সা, ট্রাক, রিক্সা ও ভ্যানগুলোকে চলতে হচ্ছে খুবই সাবধানে। শ্যামপুর থানার সামনের সড়কেও বড় বড় গর্ত। প্রতিনিয়ত এসব সড়কে দুর্ঘটনা ঘটছে বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেছেন। সায়েদাবাদ-যাত্রাবাড়ী এলাকার সড়কগুলো ঘুরেও দেখা গেছে, বেহাল চিত্র। এই সড়ক নির্মাণে দেড়শ কোটি টাকা খরচ করা হলেও এখন ওই সড়কে চলাচল করা যায় না। সময় যায়, দাবি ওঠে কিন্তু রাস্তার চেহারার আর পরিবর্তন হয় না। যাত্রাবাড়ী থেকে মতিঝিলমুখী পরিবহনগুলো প্রতিদিনই ভাঙাচোরা রাস্তার দুর্ভোগ মাড়িয়ে চলাচল করছে। গর্তে পড়ে গিয়ে বাস বিকল হয়ে থাকার দৃশ্য নিত্যদিনের। মিরপুরের কালশী সড়কের অবস্থাও অত্যন্ত খারাপ। এলাকাবাসী জানান, এই সড়কে কোনো ভালো গাড়ি চলাচল করলেও এক-দুবারে তার ত্রুটি দেখা দেবে। তবে দুর্ভোগ মাড়িয়ে মানুষ চলাচল করছে পায়ে হেঁটে। মহানগরীর কামরাঙ্গীরচরের সড়কগুলোর অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। ওই এলাকার কোনো সড়কেরই পিচ নেই। খানাখন্দে ভরা। স্যুয়ারেজের পানি জমে এখন বেশির ভাগ সড়কে হাঁটু সমান পানি। এই পানি-কাদা মাড়িয়ে মানুষ চলাচল করছেন। ওই এলাকায় ঘটছে দুর্ঘটনা।