Space For Rent

Space For Rent
মঙ্গলবার, ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৪
প্রচ্ছদ » অন্যদেশ
  দেখেছেন :   আপলোড তারিখ : 2014-09-09
ওবামার আমলে আইএস দমন সম্ভব নয়
বর্তমান ডেস্ক
ঊর্ধ্বতন মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, ওবামার আমলে ইসলামিক স্টেট (আইএন) গোষ্ঠীটিকে পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব হবে না। কেননা এতে তিন বছর সময় লেগে যেতে পারে। ততদিনে অবসরে যাবেন ওবামা। ইরাক ও সিরিয়ায় প্রভাব বিস্তারকারী আইএসকে মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এ ঘোষণার পর কর্মকর্তারা এ কথা বলেন। আগামী বুধবার ওবামা জনসমক্ষে সেই পরিকল্পনা ঘোষণা করবেন। এদিকে আইএস পরিচালিত নারী পুলিশবাহিনীতে যোগ দিচ্ছে ব্রিটেনের জিহাদি নারীরা। আইএসের এই নারী পুলিশের ব্রিগেডের নাম আল খানসা। ধারণা করা হচ্ছে, অন্তত ৬০ জন ব্রিটিশ নারী এই বাহিনীতে যোগ দিয়েছেন। যে সব নারী ইসলাম বিরোধী কার্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত তাদের শায়েস্তা করতেই এই নারী পুলিশবাহিনী গঠন করেছে আইএস। এছাড়া পাঁচ শতাধিক ব্রিটিশ পুরুষ আইএস যোদ্ধাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন বলে কয়েকটি ব্রিটিশ গণমাধ্যমে সোমবার এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। খবর: বিবিসি, রয়টার্স ও আল জাজিরা অনলাইন।
রবিবার নিউইয়র্ক টাইমস পত্রিকায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয, আইএসকে মোকাবিলায় ওবামা  যে পরিকল্পনা ঘোষণা করতে যাচ্ছেন তাতে তিনটি পর্যায় রয়েছে। প্রথম দফায় ইরাকের ধর্মীয় এবং জাতিগত সংখ্যালঘু এবং মার্কিন কূটনৈতিক, গোয়েন্দা ও সামরিক সদস্যদের প্রতিরক্ষায় উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলীয় ইরাকে বিমান হামলা চালান হবে। যদিও গত মাস থেকে আইএসের বিরুদ্ধে ওই হামলা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ইতিমধ্যে সেখানে প্রায় ১৪৫ বার বিমান হামলা করা হয়েছে।
দ্বিতীয় পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য হচ্ছে ইরাকে শিয়া, সুন্নি ও কুর্দিদের অংশগ্রহণে একটি সর্বসম্মত ও গ্রহণযোগ্য সরকার প্রতিষ্ঠা করা। এই সরকারের বিভিন্ন কর্মকর্তা এবং সেনাবাহিনীকে প্রশিক্ষণ দেবে যুক্তরাষ্ট্র। পরিকল্পনার চূড়ান্ত এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে ওই গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান পরিচালনা করা। এই অভিযান সম্পন্ন হতে দু থেকে তিন বছর সময় লেগে যেতে পারে। তাই ওবামা সরকারের আমলে তা শেষ করা সম্ভব হবে না।
পেন্টাগনের কয়েকজন পরিকল্পনাকারী বলেন, এই সামরিক অভিযান শেষ করতে অন্তত ৩৬ মাস লেগে যাবে। ওবামা তার সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে পাকিস্তান বা ইয়েমেনে যেসব অভিযান চালিয়েছেন এটি হবে তার চেয়ে ভিন্ন। আফগানিস্তানের মতো আইএসের বিরুদ্ধে মার্কিন স্থল সেনাদের ব্যবহার করারও কোনো পরিকল্পনা নেই ওবামার।  এছাড়া ১৯৯৯ সালে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন এবং ন্যাটো জোট কসোভোতে ৭৮ দিনের যে কৌশলী বিমান হামলা চালিয়েছিল সেটি থেকেও আলাদ হবে আইএস বিরোধী অভিযান। এমনকি ২০১১ সালে লিবিয়ার স্বৈরশাসক মুয়াম্মার আল গাদ্দাফিকে ক্ষমতাচ্যুত করতে যে বিমান অভিযান চালানো হয়েছিল এতে সে ধরনের কোনো কৌশলের আশ্রয় নেয়া হবে না।
আইএস দমনে গত সপ্তাহে ব্রিটেনের ওয়েলসে অনুষ্ঠিত ন্যাটো সম্মেলনে একটি জোট গঠনের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ওই জোটে যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স, ডেনমার্ক ছাড়াও মধ্যপ্রাচ্যে ওবামার বন্ধুরাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃত সৌদি আরব, জর্দান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত ও তুরস্ক অংশ নেবে। সেখানে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি বলেন, ‘আইএসআইএলকে ধ্বংস করার সামথ্য আমাদের রয়েছে। এ কাজে এক বছর, দুবছর বা তিন বছর সময় লাগতে পারে। যত সময়ই লাগুক না কেন আমরা তাদের ধ্বংস করতে বদ্ধপরিকর।’এই মিশনকে একটি প্রলম্বিত অভিযান হিসেবে উল্লেখ করেছেন ওবামার জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা অ্যান্টনি জে ব্লিনকেন।
গত সপ্তাহে সংবাদ সংস্থা সিএনএনকে দেয়া এক সাক্ষাত্কারে তিনি বলেছিলেন,‘ এ জঙ্গি গোষ্ঠীকে দমন করতে সময় লাগবে। হয়তবা ততদিনে এই প্রশাসন ক্ষমতায় নাও থাকতে পারে।’ আইএস বিরোধী জোটের প্রতি সমর্থন আদায়ের জন্য মধ্যপ্রাচ্য সফরে যাচ্ছেন জন কেরি। সোমবার মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী চাক হেগেলের আইএস বিরোধী লড়াইয়ে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রর অন্যতম সমর্থক তুরস্ক সফরে যাওয়ার কথা। তবে উদিয়মান এই জোট আইএসকে কীভাবে মোকাবিলা করবে সে বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। কয়েকজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তাদের ধারণা মিত্র দেশগুলো এ অভিযানে গোয়েন্দা সহায়তা দেবে।