Space For Rent

Space For Rent
মঙ্গলবার, ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৪
প্রচ্ছদ » অন্যদেশ
  দেখেছেন :   আপলোড তারিখ : 2014-09-09
ভারত-পাকিস্তানে বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ
বর্তমান ডেস্ক
ছয়দিন পেরিয়ে গেলেও বন্যা পরিস্থিতির কোনও উন্নতি হয়নি ভারত ও পাকিস্তানে। উল্টে ফের বৃষ্টির কারণে চিন্তিত হয়ে পড়েছে উদ্ধারাকর্মী ও কর্মকর্তারা। বন্যায় এ পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা প্রায় ৪শতে দাঁড়িয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কয়েক লাখ মানুষ। উদ্ধারকাজে সেনা ও বিমান বাহিনীকেও নামানো হয়েছে। খবর: এনডিটিভি, টাইমস অব ইন্ডিয়া ও দ্য ডনের।  
কাশ্মীরে গত ৬০ বছরের মধ্যে এমন ভয়াবহ বন্যা দেখেননি বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী। ভারত ও পাকিস্তানে বন্যায় সোমবার পর্যন্ত  অন্তত ছয়শ গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। কাশ্মীরে ভূমিধসে অন্তত ১৭৫ জন মারা গেছেন। পাকিস্তানে মারা গেছেন ২০৫ জন। প্রবল এ বন্যার কারণে উভয় দেশের হাজার হাজার মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন। পাকিস্তান ও কাশ্মীরে উদ্ধার কাজে বিমান ও নৌকা ব্যবহার করা হচ্ছে। পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ওই প্রদেশে অন্তত ১৩১ জন মারা গেছেন। তিনি জানান, বৃহস্পতিবার থেকে পাঁচ হাজার মানুষকে বন্যাকবলিত এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া উদ্ধার কাজ করতে গিয়ে তিন সেনাসদস্য নিখোঁজ হয়েছেন। পাকিস্তান জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের মুখপাত্র আহমেদ কামাল জানান, পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে ৪৮ জন মারা গেছেন। এছাড়া পার্শ্ববর্তী গিলগিট বেলুচিস্তানে মারা গেছেন ১১ জন। তিনি জানান, পাঞ্জাবের ২৮৬টি গ্রাম বন্যা প্লাবিত হয়েছে। প্রবল স্রোতের কারণে উদ্ধার কাজ ব্যাহত হচ্ছে। কামাল জানান, গৃহহীন মানুষের জন্য ৯৫টি ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। এদিকে, ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরেও প্রবল স্রোত ও নৌকার স্বল্পতার কারণে উদ্ধার কাজ দ্রুত হচ্ছে না বলে জানান কর্মকর্তারা।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রবিবার বিমানে বন্যাদুর্গত এলাকা পর্যবেক্ষণ করেছেন। বন্যা পরিস্থিতি মোকবিলায় করণীয় নিয়ে বৈঠক করেন কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা ও সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে। সব রকম পরিস্থিতির মোকাবিলায় কেন্দ্রের সহায়তার কথা ঘোষণা করেন তিনি। এই বন্যা পরিস্থিতিকে ‘জাতীয় বিপর্যয়’ হিসাবে ঘোষণা করে রাজ্যের জন্য এক হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করেন মোদি। বন্যার কারণে কাশ্মীরের রাজধানী শ্রীনগরে বিমানবন্দর ও প্রধান হাইওয়ে সড়কে যাতায়াত বন্ধ রয়েছে। সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট জেনারেল সুব্রত সাহা জানিয়েছেন, শ্রীনগরে উদ্ধারকাজে বেশি জোর দেয়া হচ্ছে। বক্সিনগর ও রাজনগরসহ রাজধানীর বেশ কয়েকটি এলাকা ছয় থেকে সাত ফুট পানির নিচে রয়েছে। বাড়িগুলোর অবস্থা এমন হয়েছে, যে কোনও মুহূর্তেই ধসে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ কারণে বাড়ির ছাদে আশ্রয় নেওয়া মানুষদের দ্রুত উদ্ধারের চেষ্টা করা হচ্ছে। গত তিন দিন ধরে খারাপ আবহাওয়ার কারণে উদ্ধারকাজ চালাতে সেনাবাহিনীকে যথেষ্ট বেগ পেতে হয়। তবে এখন পুরো দমে উদ্ধারকাজ চালানো হচ্ছে বলে জানান সুব্রত।  ঝিলমের পানি উপচে শ্রীনগরের বেশির ভাগ জায়গা ভেসে গিয়েছে। কোথাও আবার দু’তিন তলা বাড়ির উচ্চতায় পানি পৌঁছে গিয়েছে। সেখান থেকে আরও উঁচু ও নিরাপদ জায়গায় বাসিন্দাদের সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।