Space For Rent

Space For Rent
মঙ্গলবার, ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৪
প্রচ্ছদ » সম্পাদকীয়
  দেখেছেন :   আপলোড তারিখ : 2014-09-09
রোগীরা কেন জিম্মি হবেন!
অবশেষে টানা ৩০ ঘণ্টা দুর্ভোগ পোহানোর পর শত শত রোগী জিম্মিদশা থেকে মুক্ত হলো গত রবিবার। এক শিক্ষানবিশ ডাক্তার ও এক নার্সের মধ্যে ঢাকা মিটফোর্ড হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডে রোগীর হাতে ক্যানোলা লাগানো নিয়ে নার্সকে মারধর ও লাঞ্ছিত করার ঘটনায় শনিবার দুপুরে শুরু হয় এই ধর্মঘট। নার্সরা কর্মবিরতিতে যান ওই ডাক্তারের রেজিস্ট্রেশন বাতিলসহ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ শনিবারই অভিযুক্ত তরুণ চিকিত্সককে সাময়িক বরখাস্তের পাশাপাশি ঘটনা তদন্তে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করে। রবিবার দুপুরে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে আন্দোলনকারী নার্সরা বৃহস্পতিবার পর্যন্ত কর্মবিরতি স্থগিত করে কাজে যোগ দিয়েছেন। কিন্তু নার্সদের কর্মবিরতি প্রত্যাহারের পরপরই শিক্ষানবিশ চিকিত্সকরা সহকর্মীর সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহরের দাবিতে কর্মবিরতি শুরু করেছেন। চিকিত্সক আর নার্সদের এ ধরনের পাল্টাপাল্টি কর্মবিরতির কারণে মিটফোর্ড হাসপাতালের চিকিত্সাধীন রোগীদের যে এখন কী চরম দুর্ভোগ, তা ভুক্তভোগী ছাড়া কারো পক্ষেই উপলব্ধি করা সম্ভব নয়। চিকিত্সা না পেয়ে অনেক রোগী হাসপাতাল ছাড়ছেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও অনেক মুমূর্ষু রোগী দ্রুত চিকিত্সা পেতে ছুটে আসছেন মিটফোর্ড হাসাতালে।  কারণ, যাদের বাড়ি কাছাকাছি তারা তো ওখানেই যাবেন। গিয়ে তাদের চরম দুর্গতির মধ্যে পড়তে হচ্ছে। এর দায় কি কেউ এড়াতে পারবেন? অপ্রিয় হলেও সত্য এই যে, বাংলাদেশে আজ ট্রেড ইউনিয়নিজম সব ক্ষেত্রে এমনভাবে ঘাঁটি গেড়ে বসেছে যে, মানবিক মূল্যবোধ পর্যন্ত লোপ পেয়ে গেছে অনেকের। একজন নার্স অথবা একজন চিকিত্সক যদি অন্যায় করেন, তিনি কেন শাস্তির ঊর্ধ্বে থাকবেন? কেন তার পক্ষ নিয়ে সহকর্মীরা কর্মবিরতি শুরু করে দেবেন? এ কোন অমানবিক ইউনিয়নিজম! একটি হাসপাতালে নার্স এবং ডাক্তার একে অন্যের পরিপূরক। শুধু ডাক্তার দিয়েও চিকিত্সা চলে না, শুধু নার্স দিয়েও চিকিত্সা চলে না। এ সত্য দুই পক্ষকেই মনে রাখতে হবে। ডাক্তার ব্যবস্থাপত্র লিখে দিয়ে যান; সেই নির্দেশনা কার্যকর করেন নার্সরা। সুতরাং পদমর্যাদায় কিছুটা ঊর্ধ্বে বলে নার্সদের যেমন তুচ্ছে ভাবার অবকাশ নেই, তেমনি ডাক্তারদের প্রতিও উপেক্ষার আচরণ ঠিক নয়। মনে রাখা দরকার, ডাক্তার আর নার্স সবাই সেবামূলক পেশায় চাকরি করেন। আর দশটা পেশার থেকে এটা আলাদা। যারা এ পেশার মর্যাদা ক্ষুণ্ন করবেন, তাদের বিরুদ্ধে শক্ত ব্যবস্থা নিতে স্বাচিপ এবং ড্যাবকেও সহযোগিতা দিতে হবে। এ নিয়ে রাজনীতি করা অন্যায় হবে। প্রয়োজনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে বসে স্থায়ীভাবে এই অপসংস্কৃতি বন্ধ করার পদক্ষেপ নিন।