Space For Rent

Space For Rent
মঙ্গলবার, ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৪
প্রচ্ছদ » সম্পাদকীয়
  দেখেছেন :   আপলোড তারিখ : 2014-09-09
আর নয় গণপরিবহনের ভোগান্তি
সকালে অফিস শুরুর আগে এবং বিকালে ছুটির পর প্রতিদিনই অসহনীয় ভোগান্তিতে পড়ছেন নগরবাসী। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে ট্যাক্সিক্যাব ও সিএনজি অটোরিকশা চালকদের দৌরাত্ম্য। জাইকার সমীক্ষা অনুযায়ী, রাজধানীতে ৬শ যাত্রীর জন্য রয়েছে মাত্র একটি বাস। রাজধানীর মানুষের জন্য অন্তত সাড়ে সাত হাজার বাস-মিনিবাস প্রয়োজন। চলছে সাড়ে ৩ হাজারের কিছু বেশি। গতকাল দৈনিক বর্তমান রাজধানীর গণপরিবহনের ভোগান্তি সম্পর্কে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। রাস্তায় নেমে প্রায়ই বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয় নগরবাসীদের। গন্তব্যে যাওয়ার তাড়া আছে, কিন্তু নেই কাঙ্ক্ষিত পরবহন। অফিস, বাচ্চার স্কুল, বিয়ে-দাওয়াত, পার্টিতে যাওয়া, এমনকি রোগী নিয়ে হাসপাতালে যাওয়া— কোনো গন্তব্যেই যে সময়মতো পৌঁছানো যাবে, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। বাসে তিলধারণের ঠাঁই নেই। ট্যাক্সিক্যাব অপ্রতুল, ভাড়াও অতিরিক্ত। সিএনজিচালিত অটোরিকশা মিটারে যাবে না। যাবে চালকের চাহিদামতো টাকায়। যাত্রীর কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে যেতে নারাজ। এ অবস্থায় ভোগান্তির সীমা-পরিসীমা থাকে না। তার ওপর যানজটে রাজধানী স্থবির হয়ে থাকে অধিকাংশ সময়। অথচ একটি দেশের রাজধানীতে মূল্যবান সময় যদি এভাবে রাস্তায় নষ্ট হয়, তাহলে সেই দেশের ভবিষ্যত্ কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে? যানজটে বছরে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি। সব রুটেই চলাচলে কমপক্ষে রোজ ৩ কর্মঘণ্টা অপচয় হয়। রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে গণপরিবহনে অরাজকতা, ভাড়া নির্ধারণে অনিয়ম এবং যাত্রীসেবার নামে প্রতারণা ছাড়াও পরিবহনভেদে একই গন্তব্যে ভিন্নহারে ভাড়া আদায় এখন নিত্যদিনের বিষয়। বাড়তি ভাড়া নিতে সিটিং সার্ভিসের সাইনবোর্ড লাগিয়ে অধিকাংশ বাস যাত্রীদের প্রতারিত করছে। পরিবহন অব্যবস্থাপনায় দেশবাসীর ক্ষোভ দিন দিন বৃদ্ধি পেলেও তা দেখার কোনো কর্তৃপক্ষ দেশে আছে বলে মনে হয় না। যাত্রীদের এ সমস্যা সম্পূর্ণ পাশ কাটিয়ে যাচ্ছে রাষ্ট্রীয় খাতের একমাত্র প্রতিষ্ঠান বিআরটিসি। অথচ নাগরিকের পরিবহন সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় সবরকম ব্যবস্থা গ্রহণ এই প্রতিষ্ঠানেরই দায়িত্ব। বিআরটিসি বাস চলতেই দিতে চায় না একশ্রেণির বাস মালিক। নানা প্রতিবন্ধতা সৃষ্টি করে পরিবহন খাতে একচেটিয়া প্রাধান্য বজায় রাখছে ব্যক্তিমালিকানাধীন বাস। পরিকল্পিতভাবে বিআরটিসির বাসগুলো রাস্তায় নামালে দেশবাসীর পরিবহন সঙ্কট অনেকাংশে কমে যেত বলে মনে করেন অভিজ্ঞরা। সরকার দেশে স্বল্পমূল্যে দ্রুত, দক্ষ, আরামপ্রদ, আধুনিক ও নিরাপদ সড়ক পরিবহন ব্যবস্থা বিআরটিসি বাস সেবা চালু করলেও ২০০৪ সালে বেসরকারি পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের সঙ্গে সরকার চুক্তি করে পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন রুট থেকে বিআরটিসির বাস উঠিয়ে নেয়। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের পথ একটাই— বিআরটিসিকে সচল করা। ঝামেলাহীন ও ভোগান্তিমুক্ত যাতায়াত ব্যবস্থায় একটি অভিন্ন ভাড়াভিত্তিক সুষ্ঠু পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি। এজন্য সব ধরনের যাত্রী পরিবহন সমন্বিত ব্যবস্থাপনায় আনতেই হবে। বিআরটিসিকেও প্রসারিত করে যাত্রীসেবায় মনোযোগ দিতে হবে।