Space For Rent

Space For Rent
মঙ্গলবার, ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৪
প্রচ্ছদ » শেষ পাতা
  দেখেছেন :   আপলোড তারিখ : 2014-09-09
এবার আপদ নদীভাঙন
বর্তমান প্রতিবেদক
দেশের বন্যা পরিস্থিতির সার্বিক উন্নতি হলেও কয়েকটি এলাকায় নদীভাঙন নতুন আপদ হিসেবে দেখা দিয়েছে। গাইবান্ধায় যমুনা ও মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে ধলাই নদীতে ভাঙনের তীব্রতা বেড়েছে।
এদিকে বন্যার পানি নামতে শুরু করায় বিভিন্ন এলাকায় ক্ষয়ক্ষতির চিত্র স্পষ্ট হতে শুরু করেছে। প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর—
গাইবান্ধা: গত এক সপ্তাহে গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার গোবিন্দপুর, গাড়ামারা ও হলদিয়া গ্রামের ৬০টি পরিবারের বসতভিটা যমুনা নদীরগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। নদীগর্ভে চলে গেছে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কবরস্থানের অর্ধেকাংশ। ভাঙনের তীব্র বেশি দেখা দিয়েছে গোবিন্দপুর গ্রামে।  গোবিন্দপুর গ্রামের আয়নাল হক জানান, গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে গতকাল সোমবার পর্যন্ত এ গ্রামের ৬০ বাড়ি যমুনার ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে। যেভাবে ভাঙছে তাতে আর দুএকদিনের মধ্যে আরো অর্ধশত ঘরবাড়ি নদীতে চলে যাবে।  স্থানীয়রা জানান, ভাঙনের ভয়ে গ্রামের মানুষ রাতে ঘুমাতে পারছে না। দীর্ঘদিনের পুরনো গাড়ামারা কবরস্থান ও গাড়ামারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি মাত্র ৪ দিনের ব্যবধানে নদীগর্ভে চলে গেছে।
কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) : কমলগঞ্জ উপজেলায় টানা বর্ষণে ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে ধলাই নদীতে স্রোতের তীব্রতা বেড়েছে। গত কয়েকদিনে চৈন্যগঞ্জ গ্রামের এক মুক্তিযোদ্ধাসহ ৫ পরিবারের বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এসব পরিবারের সদস্যরা এখন ধলাই প্রতিরক্ষা বাঁধে আশ্রয় নিয়েছে। রবিবারে চৈত্যন্যগঞ্জ গ্রামের গিয়ে দেখা যায়, ধানি জমিসহ ৬টি বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
সরিষাবাড়ী (জামালপুর): বন্যায় জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে প্রায় ২৪ কোটি টাকার ফসলের ক্ষতি হয়েছে। এতে উপজেলার প্রায় ২৮ হাজার ৫০০ জন কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এবারের বন্যায় উপজেলার  ৮টি ইউনিয়নের মধ্যে ৭টিই আক্রান্ত হয়। আক্রান্ত এলাকার মধ্যে পৌরসভার একাংশসহ পিংনা, সাতপোয়া ও কামরাবাদ ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, বন্যায় ২০ কোটি ৪৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার ২ হাজার ৯২৫ হেক্টর জমির রোপা আমন, ৩ কোটি টাকার ১৫০ হেক্টর জমির সবজি, ৩৭ লাখ ৫ হাজার টাকার ৬০ হেক্টর জমির বীজতলা ও ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকার ২ হেক্টর জমির মরিচ খেতের ক্ষতি হয়েছে।
উপজেলা উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম জানান, বন্যায় ৩ হাজার ১৩৭ হেক্টর জমির ফসলের ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতির পরিমাণ ২৩ কোটি ৮৯ লাখ ৫ হাজার টাকা।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নুরুজ্জামান জানান, এখনো ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরি করা হয়নি। কর্তৃপক্ষ আর্থিক সহযোগিতা দিলে তা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে বিতরন করা হবে।
বগুড়া : ছয় উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতি উন্নতি হলেও ধীরে ধীরে বন্যাকবলিত এলাকার ক্ষয়ক্ষতি স্পষ্ট হয়ে উঠছে। বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় ঘরে ফিরতে শুরু করেছে বাঁধে আশ্রয় নেয়া মানুষ। বন্যাকবলিত এলাকার সব টিউবওয়েল পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় সেগুলো অকেজো হয়ে গেছে। ফলে বিশুদ্ধ পানির অভাবে দেখা দিয়েছে ডায়রিয়াসহ পানিবাহিত রোগ। বিশেষ করে শিশু এবং বৃদ্ধরা এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছে বেশি।
সোনাতলা এবং সারিয়াকান্দি এলাকা ঘুরে দেখা যায়, পানি কমে যাওয়ায় লোকজন বসত বাড়িতে ফিরতে শুরু করেছেন। কয়েকদিনে পানিতে ভিজে থাকা ফসল ও গাছের পচন বেড়ে যাওয়ায় এলাকায় দুর্গন্ধের সৃষ্টি হয়েছে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুস সালাম জানান, সরকারী হিসাব অনুযায়ী সারিয়াকান্দিতে ৭৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৮টি উচ্চ বিদ্যালয়, ৬টি মাদ্রাসা, ১টি কলেজ, ধুনটে মোট ৮০টি ও সোনাতলায় ১৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আপত্কালীন ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এসব স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসা প্রাঙ্গণ থেকে বন্যার পানি এখনও সরে যায়নি। ফলে আগামী বার্ষিক পরীক্ষা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।