Space For Rent

Space For Rent
মঙ্গলবার, ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৪
প্রচ্ছদ » গ্যালারি
  দেখেছেন :   আপলোড তারিখ : 2014-09-09
ব্যাটিং ব্যর্থতার মহড়া!
ক্রীড়া প্রতিবেদক
কি ব্যাখ্যা আছে?
আসলে বাংলাদেশ দলের ব্যাটিং নিয়ে কোনো ব্যাখ্যাই চলে না। সব তথ্য-উপাত্ত এনে হাজির করলেও কোনো কাজে আসবে না। যতই পরিকল্পনা করা হোক তাও ব্যর্থ হবে।
ব্যাটিং সেই তথৈবচ। যেন ব্যাটিং ব্যর্থতার মহড়া!
ব্যর্থতার সাগরে হাবুডুবু খাওয়া। কূল নেই, কিনার নেই। নেই কোনো খড়কুটে। যা ধরে বাঁচার জন্য আঁকড়ে ধরা যায়। যার সারমর্ম হতে পারে বাংলাদেশ দলের ব্যাটিংয়ের অপর নাম ব্যর্থতা। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে গিয়ে সেই ব্যর্থতা যেন সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। সময় যত গড়াচ্ছে। সিরিজ শেষ হওয়ার সময় ঘনিয়ে আসছে। কিন্তু বাংলাদেশ দল ব্যর্থতার চোরাবালি থেকে মুক্ত হতে পারছে না। যে ভিনসেন্টের উইকেটে স্বাগতিকরা রানের উত্সব করেছে। সেই উইকেটেই বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা কচুকাটা। দুই দিনেরও বেশি সময় (বৃষ্টির কারণে নষ্ট হওয়া সময় বাদে) ব্যাট করে সাত উইকেটে ৪৮৪ রান করে ইনিংস ঘোষণা করে স্বাগতিকরা।  সেখানে বাংলাদেশ দল একটি দিনও টিকতে পারেনি। মাত্র ১৮২ রানে অলআউট হয়ে। তৃতীয় দিনের খেলা শেষে ফলোঅনে পড়ে ৩০২ রানে পিছিয়ে । ব্যাটিংয়ের যে দৈন্যদশা দেখা গেছে তাতে করে  দ্বিতীয় ইনিংসে আহমরি কিছু ঘটানো অন্তত বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের পক্ষে সম্ভব নয়। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে  দলের সংগ্রহ  তিন উইকেটে ১০৫। তামিম ৫২ ও মাহমুদউল্লাহ ১ রানে ব্যাট করছেন। শামসুর ৪, ইমরুল ২৫ ও মুমিনুল ১২ রান করে সাজঘরে ফিরেছেন।
২০১৪ সালে যে বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য কলঙ্কিত বছর তা যেন সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে আরও বেশি করে আষ্টেপৃষ্ঠে বাসা বাঁধছে।
সেন্ট ভিনসেন্টের টেস্টকে সামনে রেখে জয় সম্ভব নয় জেনে মুশফিকুর রহীম ড্র করার রণ পরিকল্পনা করেই মাঠে নেমেছিলেন। যে কারণে দলে আট-আটজন প্রতিষ্ঠিত ব্যাটসম্যান নেয়া হয়েছিল। কিন্তু তাতেও শেষ রক্ষা হয়নি। এই আটজনের মাঝে আবার চারজন  তামিম ইকবাল ( ১), ইমরুল কায়েস (৯), মাহমুদউল্লাহ (৭) ও নাসির হোসেন (২) দুই অঙ্কেরই রান করতে পারেননি। বাকি চারজনের মাঝে রান করেছেন  মুমিনুল (৫১), দলপতি মুশফিকুর রহীম (৪৮*) ও শামসুর রহমান (৩৫)। এ ছাড়া শুভাগত হোম করেন (১৬)। এই চার ব্যাটসম্যান মিলে দলের মোট ১৮২ রানের ১৬০ রানই করেছেন। এর মাঝে আবার লক্ষণীয় ছিল এই চারজনই উইকেটে টিকে থাকার আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন। যে কারণে দলের ইনিংস ৭১.৪ ওভারের মাঝে তারা খেলেছেন ৫১.৫ ওভার। শামসুর ১৪৭ মিনিট উইকেটে থেকে বল খেলেছেন ৮৫টি। মুমিনুল ১৫২ মিনিট টিকে থেকে বলের ব্যাবহার করেছেন ১১২টি। মুশফিক ৭৯ বল খেলেছেন ১৩২ মিনিটে। শুভাগত হোম ২৫ বলে খেলেন ২৭ মিনিটে।
মুমিনুল-শামসুর-মুশফিকুরের এ রকম প্রতিরোধ ভেঙে পড়ার কারণ স্বাগতিক দলের স্পিনারদের ভেল্কি। বাংলাদেশের যেমন তাইজুল ইসলাম অভিষেকেই পাঁচ উইকেট তুলে নিয়েছিলেন। যদিও তা ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটসম্যানদের জন্য কোনো মাথাব্যথার কারণ ছিল না। কিন্তু সোলেমান বেনের পাঁচ উইকেট বাংলাদেশের ইনিংস গুঁড়িয়ে দেয়। শুরুতে তামিম-ইমরুল ফিরে যাওয়ার পর মুমিনুল-শামসুর মিলে প্রতিরোধের দেয়াল গড়ে তুলেছিলেন ৬২ রান। কিন্তু শামসুরকে আউট করে সোলেমান তার মিশন শুরু করার পর তা গিয়ে ঠেকে ক্যারিয়ারে পঞ্চমবারের মতো ইনিংসে পাঁচ উইকেট পাওয়ার মাধ্যমে। আট টেস্টের ক্যারিয়ারে বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল ধারাবাহিক ব্যাটসম্যান মুমিনুল চতুর্থ হাফ সেঞ্চুরি করার পর আর বেশি দূর যেতে পারেনি। ৫১ রানেই ফিরে যান গ্য্যাব্রিয়েলের একমাত্র শিকার হয়ে। উইকেটের পেছনে দিনেশ রামদিনের নেয়া ক্যাচ সন্দেহ হওয়াতে রিভিউ পদ্ধতি নিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি। ইনিংসের বাকি যা সংগ্রহ তা ছিল মুশফিকুরের। কিন্তু সঙ্গীহারা হয়ে যাওয়াতে তিনি আর শেষ চেষ্টা করতে পারেননি।