Space For Rent

Space For Rent
মঙ্গলবার, ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৪
প্রচ্ছদ » সবুজ পৃথিবী
  দেখেছেন :   আপলোড তারিখ : 2014-09-09
পরিবেশবান্ধব নৌকা আর নেই
তোফাজ্জল হোসেন : নদীবাহিত বাংলাদেশ। নদী পার হওয়া বিচিত্র কিছু নয়। এ অভিজ্ঞতা প্রায় সবারই আছে। শহরের বাসিন্দাদেরও গ্রামে আসা যাওয়ার মাঝে কখনো নদী পথ পাড়ি দিতে হয়। অথচ শান্ত সুন্দর এ পারাপারেও আমাদের শব্দদূষণের বাধা ডিঙ্গাতে হয়। কিংবা বিস্তৃত নদীর তীরের বাসিন্দারা যারা প্রতিদিনই এপার-ওপার আসা যাওয়া করেন তারাই বেশি ভুক্তভোগী এ শব্দ দূষণে। সাধারণত নৌকায় আমরা পারাপার হই আর নৌকা একটি পরিবেশ বান্ধব ও রোমান্টিক বাহন। তাই নৌকাতে কোনো আপত্তির প্রশ্নই আসে না। যত আপত্তি নৌকার মধ্যে ফট্ফট্ শব্দের যে ইঞ্জিনটা বসানো হয়েছে তার ওপর।
বাংলাদেশে অগণিত খেয়াঘাট আছে যেখানে নদীর দুপারের মানুষ পারাপার হন। এমনি একটি বৈদ্যেরবাজার খেয়াঘাট। নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে যার অবস্থান। এ খেয়াঘাট থেকে মেঘনার অপূর্ব রূপ চোখে পড়ে। নদীর এমনিতে একটা সৌন্দর্য আছে। কিছু কিছু জায়গায় সে সৌন্দর্য অভিভূত করে তুলে। এখানকার মেঘনার রূপও তেমনি মুগ্ধ হওয়ার মতো। প্রমত্তা মেঘনা এখানে ইচ্ছামতো বিস্তৃত হয়ে জায়গা দখল করে নিয়েছে। আর গতিপথকে এমনভাবে ছড়িয়েছে যে তাতে সৌন্দর্য আরও বেশি ফুটে উঠেছে। সে সাথে ভরা বর্ষা হলে তো কথাই নেই। ভ্রমন পিপাসুরা এখানে বেড়াতে আসেন ওই সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য। তবে তারা নদীতে নৌকা দিয়ে ঘুরতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। কিন্তু পরিবেশবান্ধব নৌকা না পেয়ে কিছুটা হতাশ হন। এখানে নদীর বুুকে একটা বিশাল চড় জেগেছিল। চরটি নদীর সৌন্দর্যকে বাড়িয়েছিল শতগুণ। এ খেয়া ঘাটে দাঁড়ালে সে চরের কথাটি মনে পড়ে যায়। ছোট হলেও সাগরের বুকে একটুকরো দ্বীপের মতোই মনে হতো ওই চরটিকে। ওখানে পিকনিক হতো। যারা বেড়াতে আসতো তারা নৌকা দিয়ে ওই চরে নেমে খালি পায়ে হাঁটত, দৌরাত। দুহাত মেলে নির্মল বাতাসে প্রশান্তি ভোগ করত। ওই চরটি ছিল মূল আকর্ষণ। চরকে ঘিরেই এ এলাকায় বেড়াতে আসাদের সংখ্যা বেড়েছিল ও পরিচিতি পেয়েছিল। কিন্তু সে চরটি এখন আর নেই।
দখলবাজ সুযোগ সন্ধানী কিছু লোকের কবলে পড়ে ড্রেজারের নির্মম বলির শিকার হয়ে চরটি হারিয়ে গেছে। প্রশাসনের নির্লিপ্ততার সুযোগে বর্ষায় চর থেকে বালু কাটা সহজ ও অধিক মুনাফা হওয়ায় তারা চর কেটে এখানকার সৌন্দর্যকে কমিয়ে দিয়েছে। তাই কিছুটা মন খারাপ হওয়ারই কথা। আর এ মন  খারাপ নিয়ে নৌকায় চড়ে বসতেই আবার ধাক্কা খেতে হয়। এ খেয়া ঘাটে ৬০ থেকে ৭০টির মতো নৌকা পারাপারের জন্য চলাচল করে। এর সব কটিই শব্দ দূষণের ফট্ফট্ শব্দের ইঞ্জিনচালিত। পরিবেশবান্ধব নৌকা একটিও নেই। বেশ কিছু স্পিডবোট সংযোজন হয়েছে। এগুলো বৈদ্যেরবাজার ঘাট থেকে ছেড়ে চালিভাঙ্গা, নলচর, ফরাজীকান্দি, মৈষারচর, নুনেরটেক, কালাপাহাড়িয়া, চন্দনপুরাসহ তুলাতুলি পর্যন্ত যাতায়াত করে থাকে। যাদের গন্তব্য আরো দূরে তারা চন্দনপুরা তুলাতুলি ঘাট থেকে আবারও একই বাহনে চড়ে বাকি পথ পাড়ি দিতে পারেন। বৈদ্যেরবাজার থেকে সবচেয়ে কাছে চালিভাঙ্গা ও নলচর, বাকিগুলো মাঝামাঝি ও তুলাতুলি, চন্দনপুরা দূরের পথ। তুলাতুলি বা চন্দনপুরা যেতে একই সময় প্রায় এক ঘণ্টা লাগে। আর স্পিডবোটে প্রায় ১৫ মিনিট। যখন এসব ইঞ্জিন ছিল না। তখনও এসব পথে নৌকায় চলাচল হত। ইঞ্জিনের তুলনায় নৌকার সময় উজান পথে দেড় থেকে দুইগুন আর ভাটি পথে দুই থেকে তিনগুন বেশি লাগত। এ যে ইঞ্জিনচালিত নৌকা এটা কোনো প্রচলিত বাহন না। এটা মনগড়া একটা ব্যবস্থা কেউ একজন নৌকার মধ্যে পাম্প বসিয়ে বাহবা কুড়ালেন আর তাই দেখে সবাই হুমরি খেয়ে পড়লেন ফলে যা হওয়ার তাই হলো। সব নৌকায় ইঞ্জিন বসানোর প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে গেল। এভাবেই এটার বিস্তার। কিন্তু সময়ের ব্যবহার করতে গিয়ে আমরা কি পাচ্ছি আর কি হারাচ্ছি তা কি কখনো ভাবি? ঘণ্টাব্যাপী এ সব শব্দে আমরা শুধু পরিবেশকে ভারী করে তুলছি তাই নয় নিজেদেরও  ক্ষতি করছি। শব্দের প্রভাবে চিন্তা শক্তি বাধাগ্রস্ত হয়। কথা বলা ও শোনার ক্ষেত্রেও স্বাভাবিক ব্যত্যয় ঘটে।
শারীরিক ও মানসিক সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছি আমরা প্রতিনিয়ত। এ ব্যপারে সচেতনতার বড় অভাব। পরিবেশের স্বার্থে ও নিজেদের স্বার্থে বিকল্প কিছু ভাবা দরকার। ইঞ্জিনচালিত সকল নৌযানের নীতিমালা আছে। কিন্তু এটার তা নেই। প্রতিনিয়ত বিভিন্ন দুর্ঘটনা ঘটলেও জবাবদিহিতারও কিছু নেই। নদীপথ পূর্বে ছিল বর্তমানে আছে ভবিষ্যতেও থাকবে। এটা অস্বীকার করার উপায় নেই। তাই ডিজিটালের জমানায় নদীপথের দিকে আমাদের দৃষ্টি দেয়া উচিত। ইঞ্জিন বসানো নৌকাকে শুধু মালামাল পারাপারের কাজে সীমাবদ্ধ রেখে লোক পারাপারের ক্ষেত্রে নৌকাতে উন্নতমানের পাল ব্যাবহারের মাধ্যমে গতিশীল করা যায়। আর নদীতে জেগে ওঠা চর ভোগ দখল বা লুটপাটে ধ্বংস না করে সৌন্দর্য বৃদ্ধি আর নদীর গতি পথের সুবিধার্থে এটা সংরক্ষণ করা উচিত। যথাযথ কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি আমাদের চারিপাশকে আরও সুন্দর করে তুলতে পারে।
পরিবেশবান্ধব নৌকা আর নেই
তোফাজ্জল হোসেন : নদীবাহিত বাংলাদেশ। নদী পার হওয়া বিচিত্র কিছু নয়। এ অভিজ্ঞতা প্রায় সবারই আছে। শহরের বাসিন্দাদেরও গ্রামে আসা যাওয়ার মাঝে কখনো নদী পথ পাড়ি দিতে হয়। অথচ শান্ত সুন্দর এ পারাপারেও আমাদের শব্দদূষণের বাধা ডিঙ্গাতে হয়। কিংবা বিস্তৃত নদীর তীরের বাসিন্দারা যারা প্রতিদিনই এপার-ওপার আসা যাওয়া করেন তারাই বেশি ভুক্তভোগী এ শব্দ দূষণে। সাধারণত নৌকায় আমরা পারাপার হই আর নৌকা একটি পরিবেশ বান্ধব ও রোমান্টিক বাহন। তাই নৌকাতে কোনো আপত্তির প্রশ্নই আসে না। যত আপত্তি নৌকার মধ্যে ফট্ফট্ শব্দের যে ইঞ্জিনটা বসানো হয়েছে তার ওপর।
বাংলাদেশে অগণিত খেয়াঘাট আছে যেখানে নদীর দুপারের মানুষ পারাপার হন। এমনি একটি বৈদ্যেরবাজার খেয়াঘাট। নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে যার অবস্থান। এ খেয়াঘাট থেকে মেঘনার অপূর্ব রূপ চোখে পড়ে। নদীর এমনিতে একটা সৌন্দর্য আছে। কিছু কিছু জায়গায় সে সৌন্দর্য অভিভূত করে তুলে। এখানকার মেঘনার রূপও তেমনি মুগ্ধ হওয়ার মতো। প্রমত্তা মেঘনা এখানে ইচ্ছামতো বিস্তৃত হয়ে জায়গা দখল করে নিয়েছে। আর গতিপথকে এমনভাবে ছড়িয়েছে যে তাতে সৌন্দর্য আরও বেশি ফুটে উঠেছে। সে সাথে ভরা বর্ষা হলে তো কথাই নেই। ভ্রমন পিপাসুরা এখানে বেড়াতে আসেন ওই সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য। তবে তারা নদীতে নৌকা দিয়ে ঘুরতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। কিন্তু পরিবেশবান্ধব নৌকা না পেয়ে কিছুটা হতাশ হন। এখানে নদীর বুুকে একটা বিশাল চড় জেগেছিল। চরটি নদীর সৌন্দর্যকে বাড়িয়েছিল শতগুণ। এ খেয়া ঘাটে দাঁড়ালে সে চরের কথাটি মনে পড়ে যায়। ছোট হলেও সাগরের বুকে একটুকরো দ্বীপের মতোই মনে হতো ওই চরটিকে। ওখানে পিকনিক হতো। যারা বেড়াতে আসতো তারা নৌকা দিয়ে ওই চরে নেমে খালি পায়ে হাঁটত, দৌরাত। দুহাত মেলে নির্মল বাতাসে প্রশান্তি ভোগ করত। ওই চরটি ছিল মূল আকর্ষণ। চরকে ঘিরেই এ এলাকায় বেড়াতে আসাদের সংখ্যা বেড়েছিল ও পরিচিতি পেয়েছিল। কিন্তু সে চরটি এখন আর নেই।
দখলবাজ সুযোগ সন্ধানী কিছু লোকের কবলে পড়ে ড্রেজারের নির্মম বলির শিকার হয়ে চরটি হারিয়ে গেছে। প্রশাসনের নির্লিপ্ততার সুযোগে বর্ষায় চর থেকে বালু কাটা সহজ ও অধিক মুনাফা হওয়ায় তারা চর কেটে এখানকার সৌন্দর্যকে কমিয়ে দিয়েছে। তাই কিছুটা মন খারাপ হওয়ারই কথা। আর এ মন  খারাপ নিয়ে নৌকায় চড়ে বসতেই আবার ধাক্কা খেতে হয়। এ খেয়া ঘাটে ৬০ থেকে ৭০টির মতো নৌকা পারাপারের জন্য চলাচল করে। এর সব কটিই শব্দ দূষণের ফট্ফট্ শব্দের ইঞ্জিনচালিত। পরিবেশবান্ধব নৌকা একটিও নেই। বেশ কিছু স্পিডবোট সংযোজন হয়েছে। এগুলো বৈদ্যেরবাজার ঘাট থেকে ছেড়ে চালিভাঙ্গা, নলচর, ফরাজীকান্দি, মৈষারচর, নুনেরটেক, কালাপাহাড়িয়া, চন্দনপুরাসহ তুলাতুলি পর্যন্ত যাতায়াত করে থাকে। যাদের গন্তব্য আরো দূরে তারা চন্দনপুরা তুলাতুলি ঘাট থেকে আবারও একই বাহনে চড়ে বাকি পথ পাড়ি দিতে পারেন। বৈদ্যেরবাজার থেকে সবচেয়ে কাছে চালিভাঙ্গা ও নলচর, বাকিগুলো মাঝামাঝি ও তুলাতুলি, চন্দনপুরা দূরের পথ। তুলাতুলি বা চন্দনপুরা যেতে একই সময় প্রায় এক ঘণ্টা লাগে। আর স্পিডবোটে প্রায় ১৫ মিনিট। যখন এসব ইঞ্জিন ছিল না। তখনও এসব পথে নৌকায় চলাচল হত। ইঞ্জিনের তুলনায় নৌকার সময় উজান পথে দেড় থেকে দুইগুন আর ভাটি পথে দুই থেকে তিনগুন বেশি লাগত। এ যে ইঞ্জিনচালিত নৌকা এটা কোনো প্রচলিত বাহন না। এটা মনগড়া একটা ব্যবস্থা কেউ একজন নৌকার মধ্যে পাম্প বসিয়ে বাহবা কুড়ালেন আর তাই দেখে সবাই হুমরি খেয়ে পড়লেন ফলে যা হওয়ার তাই হলো। সব নৌকায় ইঞ্জিন বসানোর প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে গেল। এভাবেই এটার বিস্তার। কিন্তু সময়ের ব্যবহার করতে গিয়ে আমরা কি পাচ্ছি আর কি হারাচ্ছি তা কি কখনো ভাবি? ঘণ্টাব্যাপী এ সব শব্দে আমরা শুধু পরিবেশকে ভারী করে তুলছি তাই নয় নিজেদেরও  ক্ষতি করছি। শব্দের প্রভাবে চিন্তা শক্তি বাধাগ্রস্ত হয়। কথা বলা ও শোনার ক্ষেত্রেও স্বাভাবিক ব্যত্যয় ঘটে।
শারীরিক ও মানসিক সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছি আমরা প্রতিনিয়ত। এ ব্যপারে সচেতনতার বড় অভাব। পরিবেশের স্বার্থে ও নিজেদের স্বার্থে বিকল্প কিছু ভাবা দরকার। ইঞ্জিনচালিত সকল নৌযানের নীতিমালা আছে। কিন্তু এটার তা নেই। প্রতিনিয়ত বিভিন্ন দুর্ঘটনা ঘটলেও জবাবদিহিতারও কিছু নেই। নদীপথ পূর্বে ছিল বর্তমানে আছে ভবিষ্যতেও থাকবে। এটা অস্বীকার করার উপায় নেই। তাই ডিজিটালের জমানায় নদীপথের দিকে আমাদের দৃষ্টি দেয়া উচিত। ইঞ্জিন বসানো নৌকাকে শুধু মালামাল পারাপারের কাজে সীমাবদ্ধ রেখে লোক পারাপারের ক্ষেত্রে নৌকাতে উন্নতমানের পাল ব্যাবহারের মাধ্যমে গতিশীল করা যায়। আর নদীতে জেগে ওঠা চর ভোগ দখল বা লুটপাটে ধ্বংস না করে সৌন্দর্য বৃদ্ধি আর নদীর গতি পথের সুবিধার্থে এটা সংরক্ষণ করা উচিত। যথাযথ কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি আমাদের চারিপাশকে আরও সুন্দর করে তুলতে পারে।

(একে/সেপ্টেম্বর ০৯, ২০১৪)