Space For Rent

Space For Rent
মঙ্গলবার, ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৪
প্রচ্ছদ » ইসলাম
  দেখেছেন :   আপলোড তারিখ : 2014-09-09
হজ সফরে মহিলাদের মাহরাম
আল ফাতাহ মামুন : হজ ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। সামর্থ্যবান প্রত্যেক নারী-পুরুষের ওপর হজ ফরজ। ইসলামী শরীয়তের বিধান হলো, মহিলাদের জন্য মাহরাম ব্যতীত একাকী সফরে যাওয়া জায়েজ নয়। এ ব্যাপারে সব বিশেষজ্ঞ একমত। তবে মহিলারা মাহরাম ছাড়া হজ করতে পারবে কি না এ প্রসঙ্গে বিশেষজ্ঞদের মাঝে যথেষ্ট মতভেদ রয়েছে।

একদল বিশেষজ্ঞ মনে করে, মহিলাদের ওপর হজ ফরজ হওয়ার জন্য তার স্বামী বা মাহরাম শর্ত। মাহরাম ছাড়া হজ সফর মহিলাদের জন্য জায়েজ নয়। তবে সফরের দূরত্ব যদি ৪৮ মাইল বা তার কম হয়, তবে ইমাম আবু হানিফাসহ কতিপয় হানাফী বিশেষজ্ঞদের মতে মাহরাম প্রয়োজন নেই। (শরহে বেকায়া।) কিন্তু ইমাম মালিকসহ একদল হানাফী বিশেষজ্ঞদের মত হলো, পথ অল্পবিস্তর যাই হোক, মাহরাম ছাড়া সাধারণ কিংবা হজ, কোনো সফরই জায়েজ নয়। কারণ রাসূল সা. বলেছেন, মাহরাম ছাড়া কোনো মহিলা যেন সফর না করে। (বুখারী।)

অন্য বর্ণনায় তিনি সা. বলেছেন, মাহরাম ছাড়া কোনো মহিলা যেন হজ না করে। (দারা কুতনী।) বিশেষজ্ঞদের মধ্যে সুফিয়ান সাওরী, হাসান বসরী, ইবরাহীম নাখয়ী, ইমাম আহমদ, ইসহাক, ইবনে মুনযির ও ইমাম আজম আবু হানীফা রহ. এ মত পোষণ করেন। (ফতোয়ায়ে লাজনা।)
 
আরেক দল বিশেষজ্ঞ বলেন, হজ সফরে মহিলাদের জন্য মাহরাম শর্ত নয়। কারণ, রাসূল সা. বলেছেন, ‘কোনো মহিলার জন্য মাহরাম না পাওয়ার কারণে হজ সফর থেকে বিরত থাকা জায়েজ নয়। তার উচিত কোনো মহিলা দলের সাথে হজ সম্পন্ন করা।’ (আবু দাউদ ও মুয়াত্তা।)

যেসব হাদিসে মহিলাদের জন্য সফরসঙ্গী হিসেবে মাহরাম বা স্বামী সঙ্গে থাকার কথা বলা হয়েছে, তার মূল উদ্দেশ্য ফিতনা থেকে রক্ষা পাওয়া। কোনো বিশ্বস্ত মহিলা দলের সাথে যাত্রা করলে এ উদ্দেশ্যপূর্ণ হয়ে যাবে। বিশ্বস্ত মহিলা দলের ব্যাখ্যায় ইমাম শাফেয়ী বলেন, ‘দলের কিছুসংখ্যক মহিলা নির্ভরযোগ্য হবে এবং তাদের সাথে মাহরাম থাকবে। তবে এমন কোনো পুরুষ দলের সাথে মহিলারা সফর করবে না, যে দলে কয়েকজন মহিলা নেই বা নিজ মাহরাম পুরুষ নেই।’ (আল উম্ম)। বিশেষজ্ঞরা এ মত পোষণ করে বলেন, মহিলাদের হজ সফরে মাহরাম থাকা শর্ত নয়। বরং শর্ত হলো ওই মহিলা নিজের ইজ্জত আবরুর হেফাজত এবং নিরাপত্তার ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া। (শরহে মুসলিম।)

মূলকথা হলো, ইসলামী শরীয়ত যদি কোনো বিষয়কে ফিতনা দূর করার জন্য নিষিদ্ধ করে থাকে, তবে পরবর্তীতে ওই ফিতনা  দূর হয়ে গেলে তা বৈধ হয়ে যায়। মহিলাদের জন্য একাকী হজ সফর নিষিদ্ধের কারণ হলো, তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। মাহরাম ছাড়া সফর করার সময় নিরাপত্তার ব্যাপরে যদি পূর্ণ বিশ্বস্ত মহিলা দল পাওয়া যায়, তবে ওই দলের সাথে সফর করা জায়েজ। (ফতোয়ায়ে কারযাভী।) আর যদি নিরাপত্তা নিশ্চিত না হয়, তবে গাইরে মাহরাম তো বটেই, মাহরামের সঙ্গে সফর করাও মাকরুহ। হানফী মাযহাবসহ সব বিশেষজ্ঞই এ বিষয়ে একমত। কিন্তু পরে ইমামরা এটাকে অপছন্দ করেছেন এজন্য যে এখানে নিরাপত্তা নিশ্চিত নয়।
 
ইমামদের মাঝে যে মতপার্থক্য সৃষ্টি হয়েছে তার মূলভিত্তি হলো মহিলাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। মনে রাখতে হবে, নিরাপত্তা নিশ্চিত হলেই কেবল মহিলাদের ওপর হজ ফরজ, অন্যথায় নয়।

(একে/সেপ্টেম্বর ০৯, ২০১৪)