Space For Rent

Space For Rent
মঙ্গলবার, ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৪
প্রচ্ছদ » প্রবাসের খবর
  দেখেছেন :   আপলোড তারিখ : 2014-09-09
‘গোয়িং টু ওয়ার... ফিলিং অসাম’
অনীক আলম শুভ, যুক্তরাষ্ট্র : কলেজে থাকতে রাতে বাসায় ফেরার আল্টিমেটাম ছিল সাড়ে দশটা, ভাইয়ার জন্য এগারোটা... বাবা অসম্ভব টেনশন করতেন। আমাদের পড়ালেখা, খাওয়া-দাওয়া, টাকা পয়সা, হাত খরচ, সারাদিন কই যাই, কি করি... তার হিসাব না রাখলেও... এই সাড়ে দশটা-এগারটার হিসাব বছরের প্রতিটা দিন রাখতেন। আমরা মানতাম, ভাবতাম ইউনিভার্সিটি উঠলে ব্যাপারটা ঠিক হবে। ঠিক ত হলই না, উলটো দুজনের আধ-ঘণ্টা করে কেটে দেয়া হল! দশটা আর সাড়ে দশটা... চাকরি-বিয়ে করেও রেহাই নাই... বউকে নিয়ে বের হলেও দশটা-সাড়ে দশটা। আর তারপর তিনি নিচে নেমে যান... রাস্তায় হাঁটতে থাকেন, আমাদের খুঁজতে থাকেন... ভয়াবহ অবস্থা! আমাদের বন্ধুরা রাতে আমাদের বাসায় আসলে, আমাদের সঙ্গে আমাদের বাবাও বেরিয়ে আসে... বন্ধুরা সালাম দিয়ে রাস্তা মাপে... !! মাঝে মাঝে ভাবি এই অসম্ভব দুশ্চিন্তাগ্রস্ত কিভাবে যুদ্ধে গিয়েছিলেন! তাও ২১ বছর বয়সে !! চাকরি ছাড়ার পর উনি নাটকও ছেড়ে দেন... বাসা থেকে দূরে কোথাও যান না। দূরে বলতে মিরপুর থেকে শাহবাগও উনার কাছে অনেক দূর মনে হয়। উনার শরীরের উপর উনার আস্থা নেই... আমি একবার দেশ ছাড়ার সময় রাগ করে বললাম, ‘থাক, তোমার এয়ারপোর্টে যাওয়ার দরকার নাই’। উনি একটু মন খারাপ করলেও থেকে গেলেন! এয়ারপোর্টে গেলেন না... আমি চলে আসলাম, অনেক অনেক দিনের জন্য। বহুদিন পর তিনি গা ঝাড়া দিয়ে উঠেছেন... শাহবাগ ছাড়িয়ে সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত চলে গেছেন, কমিটি করেছেন, নিজের টাকা পয়সা সব দিয়ে দিয়েছেন, ৪৩ বছর পর মুক্তিযোদ্ধা ভাতার আবেদন করেছেন, ফান্ড কালেক্ট করছেন... সবকিছু একটাই কারণে, তিনি নিজের গ্রামে মুক্তিযুদ্ধের এক সৌধ বানাবেন। আমি সেদিন বললাম... ‘সবাইতো টাকা দিবে না, তোমার বাজেটের পুরো টাকা না উঠলে কি করবে?’... তিনি উত্তর দিলেন... ‘জমি-জমা বিক্রি করে দিব... তবু মুক্তিযুদ্ধের সৌধ হবেই’। আমি হাজার মাইল দূর থেকে বুঝতে পারি... কেন ২১ বছরের কিশোর মরণ যুদ্ধে চলে যায় !! আমি বুঝতে পারি... তারা আছেন, হয়ত আরাম কেদারায় অবসরে, হয়ত ঝাঁপসা চোখে পত্রিকা আর চায়ে, হয়ত দুশ্চিন্তাগ্রস্ত বাবা হয়ে, বা শান্ত-সৌম্য ভদ্রলোক হয়ে, হয়ত ফুটপাথেই আছেন... আছেন জমি-নালা-ভিটেতে। তবু তারা আছেন... এই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইতিহাস এবং বাঙ্গালি জাতিসত্তা নিয়ে ভীষণ চিন্তিত প্রজন্মে তাদের পাওয়া যাবে না। কেউ লন্ডনে বসে ইতিহাস ভাঙবেন, কেউ বসে সেই ভাঙ্গা ইতিহাস জোড়া দিয়ে বাঙ্গালি জাতিকে উদ্ধার করবেন... আমি বুঝতে পারি, আবার দিন আসলে... ফুটপাথের সেই বৃদ্ধই এগিয়ে যাবেন... যাবার আগে আমাদের ইতিহাস আমাদের পিছে ভরে দিয়ে যাবেন। আর আমরা... ‘গোয়িং টু ওয়ার... ফিলিং অসাম’ বলে শাহবাগ পর্যন্ত দৌড়ে যাবো...।
(সেপ্টেম্বর ০৯, ২০১৪)